ভারতে ভয়ঙ্কর ভাইরাসের ভয়াবহতা, মারা গেছে ৩৬ শিশু

ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট এনসেফালাইটিস রোগের ভয়াবহতা দেখা গেছে ভারতের বিহারে। রাজ্যটিতে ইতোমধ্যেয় ১৪ শিশু মস্তিষ্কের ইনফেকশনে মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও ১৫ শিশু আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।

শনিবার স্থানীয় সময় রাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানায়, বিহারের মুজাফফরপুর জেলার ১৪ শিশু মারা গেছে, যাদের মধ্যে তীব্র মস্তিষ্ক প্রদাহের লক্ষণ (এইএস) ছিল। এছাড়া এ রোগের লক্ষণ নিয়ে আরও বেশ কয়েক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা বলছেন, হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের শরীরে তীব্র মাত্রার জ্বর এবং অন্যান্য ইনফেকশনের উপসর্গ রয়েছে।

মুজাফফরপুরের শ্রী কৃষ্ণ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের (এসকেএমসিএইচ) সুপারিনটেনডেন্ট সুনিল শাহী জানিয়েছেন, তারা এখন পর্যন্ত ৩৮ শিশু রোগী পেয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ রোগীরই রক্তে গ্লুকোজের অভাব রয়েছে। এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১৪ শিশু।

চিকিৎসকদের মতে, এনসেফালাইটিস একটি ভাইরাল ইনফেকশন। যার কারণে হালকা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন- জ্বর বা মাথাব্যথা হতে পারে। গ্রীষ্ম মৌসুমে ভারতের মুজাফফারপুর ও তার আশপাশের এলাকা থেকে প্রতি বছরই এ রোগে বহু সংখ্যক শিশু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। যাদের অধিকাংশের বয়স ১৫ বছরের নিচে।

এদিকে বিহার এলাকায় এই রোগে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩৬ জনে পৌঁছেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় এতো সংখ্যক শিশু মৃত্যুর পাশাপাশি এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে আরো ১৩৩ শিশু। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাইপোগ্লাইসিমিয়ার (ব্লাড সুগার খুবই নিচে নেমে যাওয়া) কারণে বেশিরভাগ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন, তবে ৯০ শতাংশ শিশু মৃত্যুর কারণ হিসেবে হাইপোগ্লাইসিমিয়ার কথা জানিয়েছেন বিহারের শ্রী কৃষ্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ড. এসকে শাহী। জেলার বেশিরভাগ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল শিশু রোগীতে পূর্ণ, যার অধিকাংশই প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা।

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমার বলেন – সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে তথ্য ঘাটতি ও লোকজনের মধ্যে এ রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে। সচেতনতা কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে না বলেও তিনি মনে করেন।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত