সাত বছরেও পাঠদানের অনুমতি পায়নি দৈ খাওয়ার চর নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়

কুড়িগ্রাম উলিপুরের ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত দূর্গম সাহেবের আলগা ইউনিয়নে মাধ্যমিক পর্যায়ের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় এলাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা
প্রাইমারি ধাপ শেষ করার পর বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকগন। সরেজমিনে দেখা যায়, উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নে ২০১৩ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উদ্যেগে এলাকার বিশাল চরাঞ্চলের মধ্যস্তরে নির্মিত হয় দৈ খাওয়ার চর নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি। ফলে কিছুটা আলোর মুখ দেখতে পায় অত্র এলাকার শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকগণ।

বৃহত্তর সাহেবের আলগা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ বসবাস করে। সেখানে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ০৭ টি এবং এনজিও কর্তৃক পরিচালিত ০৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবস্থিত । ফলে দৈ খাওয়ার চর নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ২২০ জন প্রায়। শতকরা পায় ৮০ ভাগ মেয়ে শিক্ষার্থী।

দীর্ঘ ৬/৭ বছরে বিদ্যালয়ে ঘরসহ বিভিন্ন বিষয়ে উন্নতি ঘটলেও স্কুলটি পাঠদানের অনুমতি না পাওয়ায় বিপাকে স্কুলের শিক্ষকসহ ম্যানেজিং কমিটির
সদস্যরা। বিনা বেতনে পড়ার সুবিধা থাকলেও পরীক্ষা দিতে হয় অন্য স্কুলে। ফলে পরিশ্রম করে দৈ খাওয়ার চর বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আর ভাল ফলাফলের সুনাম অর্জন করেন অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। তাই হতাশা ও ক্ষোপ প্রকাশ করেন দৈ খাওয়ার চর নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকবৃন্দ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন – শিক্ষা মন্ত্রালয়ের স্বারক নং -৩৭০০ ০০০০ ০৭২ ৩৩০০১৭ ৯৬৪-তাং ০৩-১২-২০১৭ ইং মোতাবেক স্কুলটি দিনাজপুর বোর্ড কর্তৃক পরিদর্শন হয়। পরিদর্শনের ফলাফল সন্তোষজনক প্রদান করলেও অদ্যবধি পাঠদানের অনুমতি না পাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন। পাঠদানের অনুমতি না থাকায় শিক্ষাথীর্র বই সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সমস্যা সম্মূখীন হতে হয় প্রতিনিয়ত।

সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সিদ্দিক আলী মন্ডল বলেন – বিদ্যালয়টি নির্মিত হওয়ায় লেখাপড়ার সুবিধা পেতে শুরু করেছে চর অঞ্চলের অবহেলিত ছেলেমেয়েরা। ফলে বাল্যবিবাহ কমতে শুরু করেছে চরাঅঞ্চলে। অতি শীঘ্রই পাঠদানের অনুমতি ও মাধ্যমিক শিক্ষায় সুক্ষিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষন করছি।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও সাবেক হউ পি সদস্য মোঃ মজিবর জোদ্দার বলেন – চরাঞ্চলে শিক্ষার মান প্রসার ও শিক্ষাথীদের নিরাপওার স্বার্থে পাঠদানের অনুমতিসহ সরকারের অনান্য সুযোগ সুবিদা প্রদান করা জরুরী হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর মধ্যে অনেকে বলেন – বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার চরাঅঞ্চলে লেখাপড়ার মান বৃদ্ধির জন্য অনেক কিছু করছেন কিন্তু পাঠদান অনুমোদনের সকল শর্ত পুরণ করার পরও কি কারণে যে অত্র বিদ্যালয়টি পাঠদানের অনুমোদন পাচ্ছে না তা বুঝতে পারছি না। চরাঅঞ্চলের লেখাপড়ার মান বৃদ্ধির জন্য দৈ খাওয়ার চর নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালটির পাঠদানের অনুমতিসহ যাবতীয় সুযোগসুবিধা প্রদানের জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সংসদ সদস্য শিক্ষানুরাগী অধ্যাপক এম এ মতিন- চরাঞ্চল ও সীটমহল জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে অগ্রাধিকারের বিষয়টি উল্লেখ পূর্বক চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রালয় বরাবর ডিও লেটার প্রদান করেছেন বলে জানা যায়।

#মমিনুল ইসলাম বাবু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত