অ্যাপলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করছে চীন!

ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ “এই লাগলো বুঝি” অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে সামাল দিতে হচ্ছে আরেকটি যুদ্ধ। সেই যুদ্ধ অবশ্য তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে যুদ্ধ। কিছুদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনা মোবাইল কোম্পানী হুয়াওয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। যেটি কিনা চীনের জন্য বড় ধরণের একটি দুঃসংবাদ। কারণ, এর ফলে বিশ্বের এই দ্বিতীয় শীর্ষ স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎসই বন্ধ হয়ে গেল।

তবে চীনও মার্কিনদের ছেড়ে দেয়নি। চীনে মার্কিন কোম্পানী অ্যাপলের একটি বড়সড় জনপ্রিয়তা আছে। যুক্তরাষ্ট্রে হুয়াওয়েকে নিষিদ্ধ করার প্রতিশোধ হিসেবে চীন যদি অ্যাপলের আইফোন বিক্রি নিষিদ্ধ করে তখন কী হবে, তার একটি সম্ভাব্য হিসাব দিয়েছেন মার্কিন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরা।

সে হিসাব অনুযায়ী, চীনে নিষিদ্ধ হলে লভ্যাংশের ২৯ শতাংশ হারাবে মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপল। কারণ, আইফোনের মোট বিক্রির ১৭ শতাংশই হয় চীনে। তাই চীনে নিষিদ্ধ হলে অ্যাপলের জন্য সেটি হবে ভয়াবহ। তবে এটা কেবলই তাত্ত্বিক চিত্র। এখন পর্যন্ত চীনের তরফ থেকে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

এ তো গেল কেবল চীনে আইফোন বিক্রি বন্ধ হলে কী হবে, সে হিসাব। অ্যাপলের অন্যান্য পণ্যও কিন্তু চীনে তৈরি হয়। সেসব পণ্যের উৎপাদনও যদি নিষিদ্ধ করে চীন, তাহলে অ্যাপলের ক্ষতির মাত্রা হবে আরো ভয়াবহ।

গোল্ডম্যানের বিশ্লেষকরা অবশ্য এটাও বলছেন – এত দূর হয়তো চীন যাবে না তার নিজের স্বার্থের কথা ভেবেই। কেননা, এতে চীনের প্রযুক্তি বাস্তুসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এর প্রভাব পড়বে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের ওপর। তবে দিনশেষে চীনে পণ্য উৎপাদন করা অন্যান্য মার্কিন প্রতিষ্ঠানের জন্য বিষয়টি চিন্তার কারণ অবশ্যই।

এদিকে, যন্ত্রাংশ উৎপাদন কারখানা চীন থেকে অন্যান্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে অ্যাপল। তবে বিষয়টি বলা যতটা সহজ, করাটা তার চেয়ে কঠিন। আর গ্রাহকদের প্রেক্ষাপট থেকে চিন্তা করলে সবচেয়ে ভালো হয় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন নিজেদের লড়াইটা মিটিয়ে নিলে। অন্যথায় বড় ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে গোটা প্রযুক্তি দুনিয়ার ওপর।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত