“এখন থেকে পথশিশুদের খাবার বা টাকা দিয়ে সাহায্য করলেই জরিমানা”

রাস্তায় সাহায্য চাওয়া পথশিশুদের খাবার বা টাকা দান করলে ভোগ করতে হবে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারদন্ড এবং গুণতে হবে ১১ ডলার আর্থিক জরিমানা। অবাক করার মত হলেও আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় এমনই একটি আইন পাস করেছে দেশটির সরকার।

এই আইনে বলা আছে – উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় পথশিশুদের খাবার বা টাকা দান করা আইনত অবৈধ হবে। এর জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদন্ড এবং ১১ ডলার পর্যন্ত অর্থদন্ড ভোগ করতে হবে।

কাম্পালার লর্ড মেয়র এরিয়াস লুকওয়াগো জানিয়েছেন ব্যবসায়িক কাজে এবং যৌন ব্যবসায় শিশুদের ব্যবহার কমানোর উদ্দেশ্যে এই আইনটি পাস করা হয়েছে। উগান্ডার সরকারি হিসাব অনুযায়ী, কাম্পারার রাস্তায় ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ১৫ হাজার পথশিশু বসবাস করে। এই আইনের বিধি অমান্যকারীদের সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১১ ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।

বিবিসি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, উগান্ডার বিভিন্ন গ্রাম থেকে অনেক শিশুকেই শহরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জোর করে তাদের দিয়ে নানা রকম কাজ করানো হয়ে থাকে।

তাই উগান্ডার আদালত এই আইন পাস করেছেন। এই ধরনের ব্যবসা থামাতে এই নতুন আইনের অধীনে পতিতাবৃত্তির জন্য শহরে বাসা ভাড়া করা বা ভিক্ষা করা বা শিশুদের দিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা চালানোও আইনত অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

কাম্পালার ৬০ বছর বয়সী এক নারী ভিক্ষুক অ্যানি কুতুরেগিয়ে কিছু বেশি পরিমাণ ভিক্ষা পাওয়া আশায় সাথের শিশুদের দেখিয়ে মানুষের মন গলানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন – যতক্ষণ গ্রাম থেকে শিশুরা আসবে, ততক্ষণ আমরা রাস্তায় ভিক্ষা করব। আমরা কারাবন্দি হতে প্রস্তুত।

কাম্পালার মেয়র লুকওয়াগো বলেছেন যেসব অভিভাবক এবং শিশু পাচারকারী শিশুদের ‘পেছনে ছুটছেন’, তাদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে এই আইন। যেসব মা-বাবার সন্তানদের রাস্তায় ভিক্ষা করতে বা রাস্তায় কাজ করতে দেখা যাবে, সেসব মা-বাবাকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে।

এদিকে রাজধানীর মেয়র বলেন – দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিশুদের নিয়ে এসে কাম্পালায় ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার করা বর্তমান একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। আমরা এটি বন্ধ করতে চাই। তবে এই আইন এখন উগান্ডার রাজধানী শুধু কাম্পালর জন্যই প্রযোজ্য বলে জানিয়েছেন মেয়র।

পাঠকের মতামত