সুস্থভাবে রোজা রাখতে চাইলে সেহরিতে এই ৮টি উপায় অনুসরণ করুন

এখন পবিত্র মাহে রমজান। এটি একটি আত্মশুদ্ধির মাস। সারা বছরের চিরাচরিত অভ্যাসগুলো থেকে বের হয়ে এসে এই মাসে কিছুটা সংযমি হতে হয় মুসলিম উম্মাহদের। তবে এই পবিত্র মাসে সবথেকে বেশি পরিবর্তন আসে খাদ্যাভাসে। এই জন্য প্রথমদিকে কয়েকটি রোজা রাখা একটু সমস্যা হয়ে যায়। এতে করে শরীরের উপর প্রভাব পড়ে। সিয়ামের এ মাসটি আপনি কিভাবে কাটাবেন সে সম্পর্কে থাকছে বিশেষজ্ঞদের কিছু পরামর্শ।

তবে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চললে রোজা রাখতে তেমন কোন সমস্যা হবে না। গরমের সময় রোজা রাখতে একটু সমস্যা সবারই হতে পারে, তাই ওই সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে। সারাদিনে রোজা রাখার ফলে শরীর পরিশ্রান্ত ও পরিশুদ্ধও হয়। ফলে ছোটখাটো রোগব্যাধি থাকলে তা সেরেও যায়। শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে এ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় এ সময়। কিন্তু আমাদের দেশে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময় অনেকেই পেট পুরে খেতে পছন্দ করেন। আর এ মেনুতে ভাজা-পোড়া জাতীয় খাবারই বেশি থাকে। এর সঙ্গে দুধ পানি স্যুপ ফলের জুস খাবেন। কারণ সারাদিন অভুক্ত থাকার পর স্বাস্থ্যসম্মত ও সষম খাবার পরিমিত খাওয়ার অভ্যাস করুন। অতিরিক্ত খাবেন না।

সারাদিন রোজায় সুস্থ থাকার জন্য সেহরিতে ৮ টি বিষয় মেনে চলুনঃ সেহরিতে সঠিকভাবে খাদ্য নির্বাচন এবং কিছু বিষয় মেনে চললে সারাদিন সুস্থভাবেই কাটাতে পারবেন। গরমেও খুব বেশি কষ্ট লাগবেনা লম্বা সময়ের রোজা।

১. গরমকালে সবচাইতে সমস্যা হয়ে যায় পানির অভাবে। প্রচ- রোদ এবং গরমে দেহ পানিশূন্য হয়ে যায়, তাই সেহরিতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করে নিন। প্রায় আধা লিটারের মতো পানি পান করবেন। এর চাইতে কম করবেন না।

২. দেহ পানিশূন্য হয়ে গেলে এমনিতেই এনার্জি কমে যায়, তাই এমন খাবার খেতে হবে যা দেহে এনার্জি ধরে রাখতে পারে। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, খাবেন পরিমাণ মতো। এতে ক্ষুধার উদ্রেকও কম হবে এবং এনার্জিও থাকবে অনেক।

৩. আরও একটি উপায়ে সারাদিন দেহকে পানিশূন্যতার হাত থেকে বাঁচাতে পারেন। আর তা হলো পানি সমৃদ্ধ ফল রাখা সেহরির তালিকায়। আনারস, কমলা, তরমুজ, ইত্যাদি ধরনের ফল খান প্রতিদিনের সেহরিতে এতে করেও পুরো দিন সুস্থ থাকতে পারবেন।

৪. অনেকেরই সকালে চা- কফি পানের অভ্যাস রয়েছে, তারা রোজা রাখার কারণে সকালে চা-কফি পানের অভ্যাসটি সেহরিতে নিয়ে আসেন। কিন্তু এই কাজটি করতে যাবেন না। চা-কফির ক্যাফেইন দেহকে পানিশূন্য করে ফেলে, তাই সেহরিতে চা-কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন।

৫. অনেকেই পাউরুটি বা শুকনো খাবার খেয়ে রোজা রাখেন যা গরমের এই রোজার সময়ে একেবারেই করবেন না। বিশেষ করে প্রসেসড কার্বোহাইড্রেট খাবার, এটি স্বাভাবিকভাবে আপনার দেহে শক্তি সরবরাহ করবে কিন্তু খুব অল্প সময়ের জন্য। তারপর আপনার দেহকে পানিশূন্য করে একেবারেই এনার্জিবিহীন করে তুলবে। সুতরাং শুকনো ও প্রসেসড কার্বোহাইড্রেট থেকে দূরে থাকুন।

৬. মিষ্টি জাতীয় খাবার অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। মিষ্টি খাবার আপনার দেহের এনার্জি লেভেল একেবারেই নষ্ট করে দেবে দিনের বেলায় যার কারণে আপনি দুর্বলতা অনুভব করবেন পুরো দিন।

৭. ভারী খাবার এবং অতিরিক্ত তেল চর্বি ধরনের খাবার খাবেন না একেবারেই সেহরিতে। বিশেষ করে খিচুড়ি, পোলাও বা বিরিয়ানি ধরনের খাবার তো একেবারেই নয়। কারণ, এগুলো পুরো দিনই আপনার পেটের সমস্যা ও অস¦স্তির জন্য দায়ী থাকবে।

৮. খেজুর দেহের এনার্জি ধরে রাখার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার। খেজুর যে শুধুমাত্র ইফতারেই খেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সেহরির সময়েও দুটো খেজুর খেয়ে নিতে পারেন। এতে করে পুরো দিন দেহে এনার্জি পাবেন।

পাঠকের মতামত