উচ্চ মাধ্যমিকে মিনিটে ১৩৭ শিক্ষার্থীর আবেদন!

গত শনিবার থেকে অনলাইনের ও এসএমএসের মাধ্যমে কলেজ ও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত প্রথম ১৬ ঘণ্টায় আবেদন পড়েছে এক লাখ ৩৭ হাজার। সেই হিসাবে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৩৭ শিক্ষার্থীর আবেদন পড়েছে।

এদিন একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিভিন্ন সরকারি পলিটেকনিকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আবেদন নেয়া শুরু হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানেও আবেদন নেয়া শুরু হয় শনিবার রাত ১২টার পর। প্রথম ১৮ ঘণ্টায় দুই শিফটে আবেদন পড়েছে চার হাজার ৪৯৪টি। একই সঙ্গে বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে আবেদন নেয়ার কথা। কিন্তু রোববার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখাকালে তা শুরু করতে পারেনি এ আবেদন কার্যক্রমে কারিগরি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বুয়েট।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন – শিক্ষার্থীদের জিম্মি করা এবং ভুয়া আবেদন ঠেকাতে এবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আবেদনের সঙ্গে বাবা অথবা মায়ের এনআইডি নম্বর দিতে হচ্ছে। আবেদনের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন – ভর্তিতে কারিগরি সহায়তা দানকারী প্রতিষ্ঠান বুয়েট গত ৫টি ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তারা আবেদনে এ জটিলতার বিষয়টি জানার পরও আগেভাগে ব্যবস্থা না নিয়ে নির্লিপ্ত থেকেছে। ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, ভর্তিতে আগে টাকা জমা নেয়া হচ্ছে। টাকা জমা দেয়াকালে শিক্ষার্থী এসএমএসে যে তথ্য সরবরাহ করে, তার সঙ্গে বোর্ডের বা বুয়েটের সার্ভারে সংরক্ষিত তথ্যও যাচাই করতে হয়।

এরপর ফিরতি এসএমএস যায়। তা ছাড়া একসঙ্গে প্রচুর শিক্ষার্থী আবেদন করছে। এসব প্রক্রিয়ায় আবেদন কাজ শেষ করতে শিক্ষার্থীর কিছুটা সময় লাগছে। এবার পঞ্চমবারের মতো অনলাইন ও এসএমএসে আবেদন নিচ্ছে সরকার। রোববার দুপুরে আবেদন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

এ সময় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম ছায়েফউল্যাসহ বুয়েটের অধ্যাপক এবং টেলিটকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভর্তির জন্য এবারও (www.xiclassadmission.gov.bd) শীর্ষক ওয়েবসাইটে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে ভর্তির নির্দেশিকা দেয়া আছে।

ভর্তিসংক্রান্ত সব তথ্য, সময়সূচি, ভর্তি নির্দেশিকা, আবেদনের নিয়মাবলীও উল্লিখিত ওয়েবসাইটে এবং ১০টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও জানা যাচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এবার একাদশ শ্রেণীর সব আসনেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে মেধায়। কোটার আবেদন প্রতিষ্ঠানের মোট আসনের বাইরে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে।

 

পাঠকের মতামত