পবিত্র রমজান নিয়ে হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর গুরুত্বপুর্ণ কিছু বাণী

পবিত্র মাহে রমজান হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি নিয়ামতসরূপ। মাহে রমজানের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদেরকে রহমত, মাগফেরাত, নাজাতের দিকে ডাকেন। কোরআন ও হাদিসের মতে, রমজান পাপমোচন ও আল্লাহর রহমতের বারিধারায় সিক্ত হওয়ার মাস এবং মৃত্যু-পরবর্তী অনন্ত জীবনের জন্য সুখসৌধ নির্মাণের মাস।

তাই সকল মুমিন বান্দার আবশ্যকিয় একটি আমল হল রমজান পালন করা। রমজান অর্থ কেবলই পানাহার থেকে দূরে থাকা নয়। রমজানের অর্থ হল পানাহারের পাশাপাশি সকল গুণাহর কাজ থেকে দূরে থাকা, পুণ্য কাজে নিজেকে নিয়োগ করা। বুখারী ও মুসলিম সূত্রে বর্ণিত, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা ঈমান, সওয়াব, ইখলাছের উদ্দেশ্যে রাখবে, তার পূর্ববর্তী সব গুণাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে জানিয়েছেন রাসুল (সা.)।

অপরদিকে তারাবিহ ও তাহাজ্জুদ আদায় করা নিয়ে মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন – যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাব তথা ঈমান, ইখলাছের সঙ্গে রমজান মাসে কিয়ামুল লাইল তথা তারাবীহ ও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করবে আল্লাহ তার পেছনের সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন।’ (বুখারী ও মুসলিম)

অধিক সময় কোরআন তিলাওয়াত করা নিয়ে হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে, হজরত জিবরাইল (আ.) রমজানের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাতে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং রাসুল (সা.) তাকে কোরআন মজিদ তিলাওয়াত করে শোনাতেন (বুখারী)। সদকা-খয়রাত ও রোজাদারকে ইফতার করানো হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন – রমজানের সদকা সবচেয়ে উত্তম সদকা (তিরমিজি)। (সা.) আরো বলেন – যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে সেও রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। রোজাদারের সওয়াব মোটেও কমানো হবে না।

কিন্তু ইবাদাত কবুলের পূর্বশর্ত হচ্ছে হালাল রুজি। আহার ও রুজি হারাম হলে আল্লাহর দরবারে তার কোনো ইবাদতই গ্রহণযোগ্য হয় না। রমজান মাসে এর গুরুত্ব বেড়ে যায় আরো বহুগুণ। রাসুল (সা.) রমজান মাসে হালাল রুজির প্রতি যত্নবান ব্যক্তির জন্য ভবিষ্যদ্বাণী উচ্চারণ করে বলেন – যার রমজান মাস নিরাপদে কাটল, তার পুরো বছরই নিরাপদে কাটল (তিরমিজি)। দোয়া ও ইস্তেগফার করা মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন – রমজান মাসে বান্দার দোয়া কবুল করা হয়। (হাদিসের অংশ) অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে – যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও স্বীয় গুণাহ ক্ষমা করাতে পারল না তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ।

ইতেকাফ করার ব্যাপারে বুখারী শরীফে বর্ণিত আছে, হুজুর (সা.) প্রত্যেক রমজানের শেষ দশদিন ইতেকাফ করতেন। যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছরও বিশদিন ইতেকাফ করেন। শবে কদর তালাশ করার ব্যাপারে হজরত আয়েশা (রা.) সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) বলেন –  রমজানের শেষ দশদিনের বেজোড় রাতে শবে কদর তালাশ কর। অপর হাদিসে ইরশাদ হয়েছে – যে ব্যক্তি ঈমান ও ইখলাছের সঙ্গে শবে কদরের নফল আদায় করল তার পূর্ববর্তী সব গুণাহ ক্ষমা করা হয় (বুখারী ও মুসলিম)।

রমজানে উমরা আদায় করার ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেন – রমজানে উমরা আদায় হজের সমান সওয়াব (বুখারী)। পাপ কাজ ছেড়ে দেয়া পাপের ফলে রমজান মাসের বরকত এবং সওয়াব নদ্ব হয়। রমজানের পবিত্রতা ক্ষুণু করার কারণে কখনো কখনো গুণাহের ভাগী হতে হয়। তাই রোজাদারের জন্য রমজান মাসে গুণাহ ত্যাগ করা আবশ্যক।

প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেন – কখনো যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও কাজ ছাড়ল না, আল্লাহর জন্য তার ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত থাকার কোনো প্রয়োজন নেই (বুখারী ও মুসলিম)। রমজান মাসে প্রত্যেক আমলের পরিবর্তে কমপক্ষে সত্তর গুণ বেশি সওয়াব প্রদান করা হয়। সুতরাং রমজান মাসে গুণাহ থেকে বেঁচে থাকার এবং অধিক পরিমাণ নেক আমল করার দৃঢ় প্রত্যয় করতে হবে। মহান মাবুদ আমাদের তাওফিক দিন।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত