দু’মুঠো খাবারের জন্য তাদের যত লড়াই

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেদে সম্প্রদায়ের মানুষেরা দু’মুঠো খাবারের জন্য লড়াই সংগ্রাম করে দিন কাটাচ্ছেন। তারা কীভাবে জীবন-যাপন করছেন, বাস্তবে না দেখলে বোঝার কোনও উপায় নেই। বেশির ভাগ বেদে সম্প্রদায়ের পরিবার খোলা আকাশের নিচে তাঁবুতে দিনের পর দিন পার করছেন।তারা কী খেয়ে বেঁচে আছেন এবং কীভাবে জীবন-যাপন করছেন এতটুকু খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য এ জগতে কেউ নেই বলে জানান, বেদে সম্প্রদায়ের সদ্দার জহুরুল হক (৫০), নার্গিস বেগম (৪০), ভানু বেগম (৪২)।

তারা সবাই ঝিনাইদাহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিপুর গ্রাম থেকে এসেছেন। বারটি বেদে পরিবার গত এক সপ্তাহ আগে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা পুলেরপাড়ের দক্ষিণ পার্শ্বে খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টাংগিয়ে বসবাস করছে। সম্প্রদায়ের একমাত্র পেশা সাপ ধরা, গ্রামে গ্রামে সাপের খেলা দেখানো, বানর খেলা ও বিভিন্ন রোগের তাবিজ বিক্রি করা। এই আয় দিয়ে কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে চলে তাদের জীবন।

তবে এখন আগের মত সাপের খেলা ও বানরের খেলাসহ তাবিজের প্রতি মানুষের বিশ্বাস কমে গেছে। তার পরেও তারা বাপ-দাদার পেশা যুগের পর যুগ ধরে রেখেছেন।বুধবার দুপুরে বেদে সম্প্রদায়ের বসবাস স্থলে গিয়ে দেখা গেছে তাদের এই করুণ চিত্র। দু’বেলা খাবারের জন্য তাদের কেউ কেউ গ্রামের নিভৃত পল্লীতে সাপের খেলা, বানরের খেলাসহ তাবিজ বিক্রির জন্য বেড়িয়ে গেছেন। দুপুরে খাবার খাচ্ছেন সেখানকার ছেলে-মেয়েরা। কোনও সবজি নেই। শুধুই সাদা ভাত ও আলুর সানা দিয়ে ক্ষুধা নিবারণের জন্য শিশুরা দুপুরের খাবার খাচ্ছেন।

Untitled

খাওয়া শেষে শিশু যুবরাজ, সুরনা ও তমার সঙ্গে কুশল বিনিময়ে তারা সকলেই বলেন – ভাল নেই, আমরা গরীব ঘরের সন্তান, ঠিকমত দু-বেলা খেতে পারি না, বাবা সারাদিন একশ থেকে দেড় শ টাকা আয় করে তা দিয়ে কি হামার জীবন চলে! হামার ঠিকমত খাবারে জোটে না আবার পড়াশুনা করবো কিভাবে! আমাদের দেখছেন না আমরা তাবুতে থাকি। আপনারা তো ধনী
মানুষ বড় বড় ঘরে থাকেন ভাল ভাল খাবার খান।

তারা দুঃখ করে বলেন – আমরা প্রতিদিনেই কোন রকমেই সাদা ভাত আর আলু সানা দিয়ে দু-বেলা খাবার জোটে। কোন কোন দিন খাবারে জোটে না। সেই দিন না খেয়ে থাকতে হয়। নাই ভাল জামা-কাপড়, লেখাপড়ার জন্য মনটা চায় কিন্তু দু-বেলা খাবারের জন্য দেশ-বিদেশে বাবার সঙ্গে থাকতে হয় কি করে স্কুলে যাব। আমাদের পড়াশুনা করে কি হবে? আমরা পেট ভরে খেতে চাই। কেউ আমাদের খোজ খবর রাখে না কেউ।

বেদে সম্প্রদায়ের সর্দার জহুরুল হক ও তার স্ত্রী নার্গিস বেগম জানান, শুধু আমরা নই, আমাদের মতোই অনেক বেদে সম্প্রদায় আছে। তারাও আমাদের মতো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খোলা আকাশের নিজে তাঁবুতে বসবাস করছেন। আমাদের বেদে সম্প্রদায়ের যতই দিন যাচ্ছে ততই করুণ পরিস্থিতি হচ্ছে। আমরা দু’মুঠো খাবারের জন্য স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দেশ-বিদেশে ঘুরে বাঁচার জন্য লড়াই করে যাচ্ছি।

#মমিনুল ইসলাম বাবু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত