আপনার ইফতারটা ঠিক এমন হওয়া উচিত!

বছর ঘুরে আবার এলো পবিত্র মাহে রমজান। সকল বয়ঃপ্রাপ্ত মুসলমানের জন্য ইহা ফরজ করা হয়েছে। অন্যান্য সাধারন দিনের থেকে এই রমজান মাস একটু আলাদা। এই মাসে পানাহারসহ বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আছে। তাই রমজানে খাবারের ব্যাপারে একটু বাড়তি খেয়াল রাখতে হয়। ভোররাতে সেহরী খেয়ে শুরু আর সন্ধ্যায় ইফতার খেয়ে শেষ হয় একটি দিনের সিয়াম। সারাদিন খালি পেটে থেকে ইফতারে তাই যেভাবে সেভাবে খেলে দেখা দিতে পারে অসুস্থতা। তাই ইফতারের সময় কিছু নিয়ম মেনে ইফতার করুন।

ইফতারে খেজুর খেয়ে রোজা ভাঙা সুন্নত। তাই ইফতারের শুরুটা করুন খেজুর দিয়ে। তাছাড়া সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরের অবসাদ দূর করার ক্ষেত্রে খেজুর খুব দ্রুত কাজ করে। দুই-তিনটা খেজুর খেয়ে নিলেই শরীরের মিনারেলসের ঘাটতি কিছুটা কমে যায়। এরপর আপনি এক গ্লাস শরবত পান করতে পারেন। তবে বাজারে অনেক কৃত্রিম রঙ মেশানো শরবত পাওয়া যায়, সেসব অবশ্যই পরিহার করবেন। ইফতারে ফলের রস বেশ উপকারী।

ইফতারে ছোলা, মুড়ি খুবই পরিচিত দুটি খাবার। এগুলোর পাশাপাশি দই, চিঁড়া ও কলা খেতে পারেন। কিন্তু অতী তেল জাতীয় খাবার যেমন- বেগুন, আলুর চপ, পেঁয়াজু সম্পুর্ণরূপে পরিহার করার চেষ্টা করুন। তেলে ভাজা এসব খাবার স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটাতে পারে। তা ছাড়া খাবারগুলো পুরনো তেলে ভাজা হলে ক্ষতির পরিমাণটা বেড়ে যায়। তেল বারবার গরম করলে ক্ষতিকর পলিনিউক্লিয়ার হাইড্রোকার্বন তৈরি হয়, যার মধ্যে থাকে বেনজোপাইরিন। এটা ক্যান্সারের সৃষ্টি করে। তাই ইফতারে খেজুর ও বিভিন্ন ফল রাখা ভালো। সেহরি এবং ইফতারির সময় প্রচুর পানি পান করবেন।

ইফতারের পর রাতের খাবার খুব বেশি দেরি করে বা খুব তাড়াতাড়ি খাবেন না। আর রাতের খাবারে ভাত/সিদ্ধ আটার রুটি, মাছ/মুরগির পাতলা ঝোলের তরকারী/ ডিম সিদ্ধ, পাতলা ডাল, লাউয়ের তরকারী ইত্যাদি রাখতে পারেন। এগুলো সহজে হজম হয় এবং পেট ঠান্ডা রাখে। অতিরিক্ত মশলা দিয়ে রান্না করা ভুনা তরকারী, গরুর, খাসির গোশত, পোলাও, বিরিয়ানী এগুলো পেটে জ্বালাপোড়ার উদ্রেক করে, গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা করে, সহজে হজমও হয়না। তাই এগুলো রাতের খাবারে পরিহার করা ভালো। মোট কথা সহজপাচ্য খাবার রাতের খাবারের তালিকায় রাখা প্রয়োজন। আর রাতে কখনোই বেশি খাওয়া ঠিক নয়। পেটে সামান্য ক্ষুধা রেখে খাওয়া উত্তম ও সুন্নাহ।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত