ঘুরে আসা যাক সোনারগাঁ!

অফিস আর বাসার কাজে ব্যস্ত থাকতে থাকতে প্রায়ই আমরা বিরক্ত হয়ে উঠি। এমন অবস্থা থেকে নিজেকে একটু চাঙ্গা করতে ভ্রমণ এর বিকল্প নেই। এতে যে কারো মন ও শরীর ভালো হয়ে যায়। আর সেই ভ্রমণ যদি হয় প্রিয়জনের সঙ্গে, তাহলে আনন্দের মাত্রা বাড়ে বহুগুণ।

একটু সময় করে প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থেকে। এখানে রয়েছে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন জাদুঘর, ঐতিহাসিক পানাম নগর, আছে বাংলার তাজমহল ও।

লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরে প্রবেশ পথের সামনে আগত পর্যটকদের বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টির প্রয়াসে আম, লিচু,পাম, নারিকেল, মেহগনি ও গুবাক তরুর সারির শ্যামল, স্নিগ্ধ, হৃদয় জুড়ানো নিরিবিলি পরিবেশে নির্মাণ করা হয়েছে ঐতিহ্য নামের একটি বিনোদন স্পট।এই বিনোদন স্পট স্বস্তিকর ও আনন্দদায়ক বিনোদনে দেশের ভ্রমন প্রিয় যে কোন মানুষকে উৎসাহিত ও উজ্জীবিত করবে।

জাদুঘরে  আপনি দেখতে পাবেন – বাংলার প্রাচীন সুলতানদের ব্যবহৃত অস্ত্র শস্ত্র, তৈজসপত্র, পোশাক, বর্ম, অলংকার ইত্যাদি। বাংলার প্রাচীন ও মধ্যযুগের লোক শিল্পের অনেক নিদর্শন রয়েছে এখানে, রয়েছে বাংলার প্রাচীন মুদ্রা। দক্ষ কারুশিল্পের তৈরি বাঁশ-বেত, কাঠ খোদাই, মাটি, জামদানি, নকশি কাঁথা, একতারা ইত্যাদি। কারু পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়াও জাদুঘরের সম্মুখে অবস্থিত লেকে নৌকা ভ্রমণ ও শীত মৌসুমে টিকেট কেটে মাছ ধরার ব্যবস্থা আছে। দর্শনার্থীদের খাওয়া দাওয়ার জন্য রয়েছে ক্যান্টিন।

এখানে দেখার মত আরো একটি জায়গা পানাম নগর।পানাম নগর বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শহর। পানাম নগরে কয়েক শতাব্দী পুরনো অনেক ভবন রয়েছে। যা বাংলার  বারো ভূঁইয়াদের ইতিহাস এর সাথে জড়ানো। সোনারগাঁয়ের ২০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই পানাম নগরী গড়ে উঠেছিল। সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর থেকে উত্তর দিকে হাঁটলেই সহজে পৌঁছানো যাবে অর্ধব্চন্দাকৃতি পানাম পুলে। যদিও পুলটি ধ্বংস হয়ে গেছে। এই পুল পেড়িয়েই পলাশ নগর এবং নগরী চিরে চলে যাওয়া পানাম সড়ক। আর সড়কের দু’পাশে সারি সারি আবাসিক একতলা দ্বিতল বাড়িতে ভরপুর পানাম নগর।

সোনারগাঁয়ে রয়েছে বাংলার তাজমহল। বিশ্বের প্রাচীন সপ্তাশ্চর্য আগ্ৰার তাজমহলের আদলে সোনারগাঁও উপজেলার পেরাব গ্রামের নির্মিত হয়েছে। চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক আহসানুল্লা মনি ও তার স্ত্রী রাজিয়া দু’ জনের কবরের স্থান সংরক্ষিত আছে। চারকোণে চারটি বড় মিনার, মাঝখানে মূল ভবন, সম্পূর্ণ টাইলস করা। সামনে পানির ফোয়ারা, চারদিকে ফুলের বাগান, দুই পাশে দর্শনার্থীদের বসার স্থান। পাশেই রয়েছে ইন্দিরা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি ভাস্কর্য। ইচ্ছা করলে যে কোন দর্শনার্থী এখানে ছবি তুলতে পারেন। বাংলার তাজমহলে ঢোকার টিকেট মূল্য ৫০ টাকা। প্রতিদিন খোলা থাকে সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত।

রাতে থাকতে হলে সোনারগাঁ উপজেলা সদরে বেশ কিছু আবাসিক হোটেল আছে,সে গুলোতে বা নারায়ণগঞ্জ শহরে থাকার  ব্যবস্থা আছে। আপনি ইচ্ছে করলে বছরের যেকোনো সময় একটু সময় বের করে ঘুরে আসতে পারেন এই খান থেকে। এখানে দেখার মতো আরো রয়েছে- গোয়ালদী মসজিদ, গিয়াস উদ্দিন আযম শাহের মাজার, পাঁচ পীরের মাজার,শ্রী শ্রী লোক নাথ ব্রক্ষচারীর আশ্রম, লালপুরী শাহ্ এর দ্বারা শরীফ ও জ্যোতি বসুর পৈত্রিক নিবাস।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত