ঠাকুরগাঁওয়ে প্রধান সড়কের উপরে দূর পাল্লার গাড়ি রাখায় চরম দূর্ভোগে জনসাধারণ

ঠাকুরগাঁওয়ে বাস ও ট্রাক টার্মিনাল থাকা সত্তে¡ও সড়ক ও ট্রাফিক আইন না মেনেই দূরপাল্লার কোচ ও ট্রাক গুলো রাস্তার উপরেই ঘন্টার পর ঘন্টা গাড়ি পার্কিং ও যাত্রী ওঠা নামা করে আসছে দীর্ঘদিন থেকেই। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধু সড়কের দু’পার্শ্বে দূরপাল্লার গাড়ির কিছু কাউন্টার যত্রতত্রভাবে গড়ে ওঠায় ও রাস্তার দু’পার্শ্বে গাড়ি রাখার কারণে দীর্ঘযানজট, দূর্ঘটনা ও চরম জনদূর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে।

দেখা যায়, প্রতিদিন বিকেল ৩ টা থেকে শুরু করে রাত ৯টায় পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কের উপরে বিভিন্ন দূরপাল্লার কোচ গুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা হচ্ছে এবং রাস্তার উপরেই যাত্রী ওঠা-নামা করা ও ছাদে বিভিন্ন প্রকার মালামাল তুলছে এই গাড়ি গুলো। একারণেই পিছনে যানজটে পড়ে থাকা গাড়ি গুলো ট্রাফিক আইন না মেনেই অনিয়মে চলাচল করছে।

এতে করে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, পথচারীসহ বিভিন্ন যানবাহন দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে এবং এর আগে সেখানে সড়ক দূর্ঘটনায় কয়েকজনের প্রাণহানীও ঘটেছিল। এ ব্যাপারে কয়েকবার পুলিশ প্রশাসনসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও কয়েকদিন পরেই আবার সেই একই অবস্থার সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে পথচারী ও পার্শ্বের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিকরা বলেন – এখানে গাড়ি গুলো রাখার কারণে প্রচুর যানজটের সৃষ্টি হয়, এই যানজটের জন্য প্রতিনিয়ত এখানে দূর্ঘটনা কবলিত হয়। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ এখানে যানজটে আটকা পড়ে থাকতে হয়। রাস্তার উপরে গাড়ি রাখার কারণে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে যায় ফলে এখানে প্রচুর দূর্ঘটনা ঘটে। তাই আমরা প্রশাসন সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কমনা করছি।

ঠাকুরগাঁও জেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লতিফর রহমানের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন – সমিতি থেকে ও ব্যক্তিগভাবে আমরা এবিষয়ে তাদেরকে মৌখিক ও লিখিতভাবে নির্দেশ দিয়েছি। প্রশাসন ও পৌরসভার সাথে আমরা কয়েকবার সভা করেছি। এর ফলে কিছুদিন সেখানে গাড়ি পার্কিং বন্ধ থাকে। আবার পরবর্তীতে পার্কিং চালু করে তারা। এবিষয়ে আমরা আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

নাট্য অভিনেতা ও ঠাকুরগাঁও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রাজি স্বপন চৌধুরী বলেন – বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পার্শ্বে আমরা প্রতিনিয়ত লক্ষ্য করছি যে, দূরপাল্লার কোচ ও বড় বাস গুলি যত্রতত্রভাবে দাড়িয়ে থাকে। অটোবাইকের তো অত্যাচার আছেই পাশা-পাশি এই যত্রযত্রভাবে গাড়ির কাউন্টার গুলি রাস্তার দু’পার্শ্বে স্থাপন করাই এই গাড়ি গুলি দাড়িয়ে থাকে।

তিনি আরো বলেন – এ কারণে এর আগে অনেক দূর্ঘটনা ঘটেছে এর ফলে এখনো যেকোনো মুহূর্তে আবারও বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। টার্মিনাল নির্মাণ করার পরেও বাস স্ট্যান্ডে ট্রাক গুলো রাস্তার উপরে গাড়ি পার্কিং করছে। এভাবেই শহরে যানজট তৈরি হচ্ছে। এই ধরণের কর্মকান্ডে প্রশাসন সজাগ থাকলেও আরও এ বিষয়ে প্রশাসনকে সুদৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার মোহাঃ মনিরুজ্জামান বলেন – ঠাকুরগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু সড়কে দূরপাল্লার গাড়ির কাউন্টার গড়ে উঠেছে, এর আগেও আমরা বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সেগুলো উচ্ছেদ করেছি। জনস্বার্থে আমরা সর্বদা প্রস্তুত আছি, এই কাউন্টার গুলোকে উচ্ছেদ করার জন্য উচ্ছেদ অভিযান আমরা অব্যাহত রাখবো ।

#জুনাইদ কবির, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত