শিক্ষার্থীদের সততার অভাবে বন্ধ হয়ে গেল বিদ্যালয়ের সততা স্টোরগুলো

বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে সততার চর্চা ও সততার শিক্ষা দেওয়ার জন্য মহা ধুমধাম ও বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সততা স্টোর নামে বিক্রেতাবিহীন স্টোর খোলা হয়। শিক্ষার্থীরা এখান থেকে শিক্ষা উপকরণকহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য কিনতে পারত। যার নির্ধারিত মূল্য পন্যের গায়ে লিখা থাকত। এবং শিক্ষার্থীরা সততার দৃষ্টান্ত সরূপ পন্যের সঠিক মূল্য নির্ধারিত ক্যাশবক্সে জমা দিত।

এভাবেই পরিচালনা হত সততা স্টোরগুলো। চালু হওয়া পর শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ছিল এ ব্যাপারে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বেশিদিন এ কার্যক্রম ধরে রাখতে পারেনি চালু হওয়া সকল সততা স্টোরগুলো। বর্তমানে রাঙ্গুনিয়ায় কোন সততা স্টোর পরিচালনা হচ্ছে এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে কথা হয় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন জনের সাথে।

সততা স্টোরের দায়িত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিযোগ করে বলেন – আমরা যদিও বা শিক্ষার্থীদের সততার চর্চা করতে এটা চালু করেছি কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের সততার পরীক্ষায় ফেল হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই বন্ধ করে দিতে হয়েছে এ সততা স্টোর। ইতোমধ্যে অনেক আর্থিক ঘাটতি আছে, এমনকি অনেক দোকানে বাকিও অপরিশোধিত আছে। জিনিস নিয়ে শিক্ষার্থীরা সঠিক মূল্য পরিশোধ করতো না। এমনকি অনেকে একদম মূল্য ও পরিশোধ করতো না।

অন্য আরেকজন শিক্ষক বলেন – আমরা শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সততার শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছি। বিদ্যালয়ে প্রদত্ত ধর্মীয় শিক্ষার প্রতিফলন যথাযথ করতে পারিনি। এজন্য বিদ্যালয়ে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে ধর্মীয় শিক্ষকদের আরো ব্যাপকভাবে নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে। সরকার যে মহৎ উদ্যোগ নিয়ে এটার যাত্রা শুরু করেছিলেন, আমরা ব্যর্থ হলাম এ উদ্যোগে। তারপরও আশা করি আবার শুরু হবে এ যাত্রা, তবে এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অগ্রণি ভূমিকা পালন করতে হবে।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আদর বলেন – বইয়ে পড়েছিলাম সততা স্টোর নিয়ে। তবে আমাদের বিদ্যালয়ে যখন এটি চালু হয়, তখন খুব ভালো লেগেছে দেখে। বইয়ের পড়া বিষয়গুলো বাস্তবে দেখলাম। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিনহাজ বলেন – কিছু কিছু অসৎ শিক্ষার্থীদের জন্য আজ আমাদের সততা স্টোরগুলো বন্ধ হল।

তবে কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে সততা স্টোর খুলবে বলে তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট টাকা নেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো বাস্তবে কোনো সততা স্টোর তাদের বিদ্যালয়ে চালু হয়নি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকল সুশীল সমাজের নাগরিকদের একটাই প্রত্যাশা- শিক্ষার্থীরা আরো সৎ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলুক, নিজেদের মাঝে সততার চর্চা করুক। তবেই এ ধরনের কার্যক্রম সফল হওয়াসহ দেশের সার্বিক উন্নয়ন হবে।

#মোঃ আব্দুল্লাহ্, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত