শ্রেণীকক্ষ থাকলেও বারান্দায় হচ্ছে পাঠদান!

যেকোন সময় ভবন ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা আছে। তাই বারান্দায় বা খোলা মাঠে পাঠদান চলছে শিক্ষার্থীদের।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়লই ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দায় চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক ভাঙ্গা একটি টিনসেড ঘরে চালাচ্ছেন তার অফিস। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ে  গোটা ভবনের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন অংশের প্লাস্টার খসে পরেছে। শ্রেণীকক্ষের ভেতরের মূল পিলার(খুঁটি) ও বিমের প্লাস্টার ধ্বসে পরেছে। ফাঁটল ধরেছে ভবনের বিভিন্ন অংশে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপুল চন্দ্র রায় বলেন – বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে দুঃচিন্তায় থাকতে হয়। মনে হচ্ছে দুর্ঘটনা ঘটলো। আমরা শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারছিনা। অন্যদিকে ক্লাসও বন্ধ রাখা যাচ্ছেনা। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। ভবন নির্মাণ না হওয়ায় নিরূপায় হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দা এবং বিদ্যালয়ের ১৯৬৩ সালের নির্মিত পুরানো টিনসেড ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। সেটাতেও আবার ভগ্নদশা।

ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয়তায় বিদ্যালয়ের সভাপতি আশরাফুল আলম বলেন, ভবনটির অবকাঠামো অত্যান্ত দূর্বল। যে কোন সময় বরিশালের মত দুঃখজনক ঘটনা ঘটতে পারে। জরুরী ভিত্তিতে এই ভবনটি ভেঙ্গেঁ পুন:নির্মানের জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

স্থানীয় অভিভাবক আব্দুর রাজ্জাক খন্দকার বলেন – বিভিন্ন সময় স্কুল ভবন সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষকে বলা হলেও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কম। সহকারী শিক্ষক সুরাইয়া খাতুন বলেন – ভয়ে ভয়ে ক্লাস নিচ্ছি। জানিনা কখন দূর্ঘটনার শিকার হই।

৫ম শ্রেণীর ফুয়াদ মাহমুদ ও ৩য় শ্রেণীর মুবতাসিন জানায়, বিদ্যালয়ের ছাঁদ ফেটেছে। ভেঁঙ্গে পরতে পারে। ফলে ভবনে আর তারা ক্লাস করে না। খোলা আকাশের নীচে ও কোন কোন সময় বারান্দায় ক্লাস করতে হচ্ছে তাদের।

বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায় – ১৯৩৮ সালে তৎকালীন রংপুর জেলার কুড়িগ্রাম মহকুমার ফুলবাড়ী থানাধীন বড়লই ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৬৩ সালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নির্মিত হয় একটি টিনসেড বিল্ডিং ঘর। এরপরে ওই বিল্ডিংঘর সংস্কার করা না হলেও ১৯৯৫ সালে স্থানীয় এক ঠিকাদারের মাধ্যমে নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে একটি ৪ কক্ষ বিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়।

ভবনটি নির্মাণের ২২/২৪ বছর যেতে না যেতেই গোটা ভবনের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন অংশের প্লাস্টার খসে পরেছে। শ্রেণিকক্ষের ভেতরের মূল পিলার ও বিমের পলেস্তারা ধ্বসে ধ্বসে পরছে। ফাঁটল ধরেছে ভবনের বিভিন্ন অংশে। ফলে বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম জানান, ভবন ঝুঁকিপূর্ণের বিষয়টি ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক লিখিতভাবে জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ভবনের বিষয়টি অনলাইনে আবেদন করা হয়েছে। পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

#মমিনুল ইসলাম বাবু, কুড়িগ্রাম   প্রতিনিধি।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত