আগুন কেড়ে নিলো ২০ দোকানির বৈশাখের আনন্দ

কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর অফিসের সামনে টিনশেড মার্কেটে ভয়বহ অগ্নিকান্ডে ২০টি দোকান পুড়ে ভষ্মিভূত হয়েছে। রোববার মাঝরাত ১টা ৫০মিনিটে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাতের মাধ্যমে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়।

অগ্নিকান্ডের ঘটনার খবর পেয়ে কুড়িগ্রাম, উলিপুর ও নাগেশ্বরীর ৩টি ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ধ্রুত ঘটনাস্থলে এসে দেড় ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় ফার্নিচার, ওয়েল্ডিং, জুসের গোডাউন, কম্পিউটার দোকানসহ ২০টি দোকানের মালামাল পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বুলবুল জানান, রাত ১টা ৫০ মিনিটে টিনসেড মার্কেটে আগুন লাগে। এসময় ২০জন ব্যবসায়ীর দোকান পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। এনামুল হকের হোমস ফার্নিচার, রাসেল ও আমিনুলের ওয়েল্ডিং দোকান, আলালের ভাঙ্গারীর দোকান, লুৎফরের সিএম ফার্নিচার, শহিদুলের টেলিটক দোকান, সাদ্দামের জুস দোকান, হাজী দুলাল ও আমজাদের গদিঘর, ডা: জালালের ঔষধের দোকানসহ বিশটি দোকানে রাখা মালামাল পুড়ে যায়।

Untitled

এতে প্রায় ৮০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফার্নিচার ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান জানান, আজ (১৫ এপ্রিল) সকালে ৩ লাখ টাকার মালামাল ডেলিভারী দেয়ার কথা ছিল। তার প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। ওয়েল্ডিং ব্যবসায়ী আমিনুর ও রাসেল জানান, তাদের দু’জনের ১৩টি মেশিনসহ কাচামাল ভষ্মিভূত হয়েছে। তারা পথে বসার যোগার হয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর অফিসের সামনে সরকারি জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে তারা ছোটখাট ব্যবসা করে পরিবারের অভাব মেটাচ্ছিল। এদের বেশিরভাগ পাশ্ববর্তী ছয়ানি বস্তির অধিবাসী। এরা এখন নি:স্ব হয়ে গেল।

এদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারি পরিচালক মনজিল হক জানান, রাত আড়াইটার দিকে খব পেয়ে তারা আগুন নেভাতে যান। পরে নাগেশ্বরী ও উলিপুর ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের সহযোগিতায় ভোর ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকার ক্ষতির কথা জানালেও এই কর্মকর্তা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বলে জানান।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলে তাদেরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন।

#মমিনুল ইসলাম বাবু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।

পাঠকের মতামত