মুদি দোকানে এন্টিবায়োটিক ঔষধের রমরমা ব্যবসা!

আমরা সবাই জানি ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক ঔষধ সেবন করা কতটা বিপজ্জনক। ডাক্তারদের মতে, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া যেকোন ধরণের এন্টিবায়োটিক ঔষধ মানব দেহে মারাত্মক ক্ষতিসাধন করতে পারে। এমনকি মানুষ স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা থাকে। তাই যে সে দোকান ঔষধ বিক্রি করার অনুমতি সরকার থেকে পায় না।

কিন্তু এখন সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে অবৈধভাবে কয়েক প্রকারের ঔষধ বিক্রি করছে মুদি দোকানিরা। এসব মুদি দোকানিদের ড্রাগ লাইসেন্স বা ঔষধ বিক্রি করার সরকারি অনুমতিপত্রতো নেই এমনকি অনেক দোকানি জানেনই না ওষধের মেয়াদ কিভাবে বের করতে হয়।

সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেলো প্রত্তন্ত গ্রাম অঞ্চলে এই সব কর্মকান্ড চলছে। ঔষধগুলোর মধ্যে রয়েছে-প্যারাসিট্যামল, মেট্রনিডাজল, ক্লোফেনাক, ওমিপ্রাজল, রেনিটেডিন ইত্যাদি গ্রুপের এন্টিবায়োটিক ঔষধ। আর এগুলো কিনে নিয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এ সকল দোকনিদের ক্রেতা হচ্ছে সাধারণত চাষী এবং কায়িক পরিশ্রম করা মানুষ।

এইসব ঔষধ দোকানিরা অনাসায়ে বিক্রি করে যাচ্ছে গ্রামের সাধারণ মানুষদের কাছে। মুদি দোকান থেকে ওষুধ কেনার কারণ জিজ্ঞেস করলে ক্রেতারা জানান, হঠাৎ করে পেটের ব্যাথা অথবা গ্যাস্ট্রিক হলে তারা এই সব দোকান থেকে ঔষধ কিনে থাকেন।

তারা আরো জানান, আমরা গ্রামের মানুষ সারাদিন খেটে খেয়ে আমাদের জীবন চলে সাধারণ ঔষধের জন্য আমাদের বাজারে যেতে হয়। কিন্তু বাজারে গেলে আমাদের কাজের অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। তাই আমরা ওইসব দোকান থেকে ঔষধ কিনি।

কোন রকম লাইসেন্স বা ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়াই ঔষধ বিক্রি করার কারণ জিজ্ঞেস করলে দোকানিরা জানান, ক্রেতাদের চাহিদা আছে তাই দোকানীরা এইসব সাধারণ ঔষধ বিক্রি করে।

কিন্তু দোকানি আর এই সাধারণ মানুষগুলোর ধারনা কি ঠিক? কখনো না। কারন রেজিস্টার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন করা মানুষের জন্য অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া যারা এইভাবে ঔষধ বিক্রি করছে তাদের ঔষধের মেয়াদ সম্পর্কে কোনো ধারনা আছে বলে মনে হলোনা।

#মোঃ আল রাসেল,বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি।

পাঠকের মতামত