বাংলাদেশের প্রতি ৩ জন শিশুর একজন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে – ইউনিসেফ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের প্রতি ৩ জন শিশুর একজন ঝড় বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা এই শিশুদের জন্য আরো সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার এসব শিশুর স্বাস্থ্য ও সুশিক্ষা নিশ্চিতে ১০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তারও ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রতি বছর বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা, একই সঙ্গে বাড়ছে প্রাণহানি আর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। বিপর্যয়ের হুমকি মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে স্বল্পোন্নত দেশগুলো।

জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশের এমন দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে বাস করছে ১ কোটি ৯০ লাখ শিশু। উত্তরবঙ্গের খরা, নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বন্যা আর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর উপকূলে গৃহহীন হচ্ছে তাদের পরিবার। অনেক শিশু আবার জীবনের তাগিদে ঢাকায় এসে বেছে নিচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে সর্বস্ব হারিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা। এদের মধ্যে দেড় লাখ রোহিঙ্গা শিশুর ভবিষ্যতও অনিশ্চিত।

২০১৯ সালের বিশ্ব জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা সূচিতে নবম স্থানে বাংলাদেশ। তাই দুর্যোগের ঝুঁকি এড়াতে পদক্ষেপ নিলেও বাস্তুচ্যুত ও অপুষ্টিতে থাকা শিশুদের জীবন রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।

পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষায় অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশকে ১ কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রকল্প, ইউএনডিপি। দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এ ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে বাংলাদেশ।

পাঠকের মতামত