কর্মক্ষেত্রে সফলতার জন্য ৮ নারীকে সম্মাননা প্রদান করলো ‘ওয়েন্ড’ 

নারীকে উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে উদ্যোক্তা সৃষ্টি, নারী উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীদের সহায়তা প্রদান করে আসছে উইমেন এন্ট্রাপিনিওয়ার্স নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন (ওয়েন্ড)। নারীকে আর্থিকভাবে সক্ষম করে তোলার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা ও কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনে সহায়তার পাশাপাশি উৎসাহ প্রদান করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও সমাজ উন্নয়নে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অর্থনৈতিক ও সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখা গুণী ৮ নারীকে সম্মাননা প্রদান করেছে ওয়েন্ড।

গত ১৫ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে ‘সমতায় সমৃদ্ধি’ শীর্ষক নারী দিবস উদযাপন ও নারী সম্মাননা অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা দেয়া হয়। জমকালো এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃতি নারীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ মোশাররফ হোসেনের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি থাকতে পারেন নি। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, এফবিসিসিআই এর সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এবং মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. রুবানা হক।
Untitled
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়েন্ড এর প্রেসিডেন্ট ড. নাদিয়া বিনতে আমিন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়েন্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতি শামীমা শিরীন লাইজু, সহ-সভাপতি আয়শা সিদ্দিকা, সাধারণ সম্পাদক জিসান আক্তার চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারা সিদ্দিকা, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাদিরা ইয়াসমিন প্রমুখ।
সম্মাননা প্রাপ্ত সফল নারীরা হলেন- ট্রাস্ট ব্যাংক লিঃ এর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস হুমায়রা আজম, বিউটি এক্সপার্ট ও স্টুডিও ২০০০ এর সত্ত্বাধিকারী মিসেস সুমনা হাসান, স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ও ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডাঃ নাজ ইয়াসিন, সাংবাদিক নবনিতা চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক নীলিমা আক্তার, স্থপতি তানিয়া করিম, মনোবিদ ও মিডিয়াব্যক্তিত্ব এবং দর্পনের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জাকিয়া আনাম এবং ফ্যাশন ডিজাইনার চন্দনা আর দেওয়ান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন – দেশের উন্নয়ন ও ব্যবসায় এর ক্ষেত্রে নারীরা অবদান রাখছেন। ব্যবসায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত ও প্রতিবন্ধকতা দূর করার মাধ্যমে নারীকে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করতে সরকার সব ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে। সহজ শর্তে ঋণ দেয়া, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও ব্যবসায় যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সেগুলো দূর করার ব্যবস্থা করা হবে। প্রতি বাজেটে নারীর উন্নয়নে বিশেষ নজর দেয়া হবে।
Untitled
সভাপতির বক্তব্যে ড. নাদিয়া বিনতে আমিন সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন – বাংলাদেশের নারীরা বিশ্বের বুকে নিজেদের সফলতার পদাঙ্ক রচনা করতে সক্ষম হয়েছে। এটি যে একদিনেই সম্ভব তা নয়। এ অর্জনের পেছনে রয়েছে ঘাম ঝরানোর দীর্ঘ ইতিহাস; যেটি অনেকেই জানে না। আমরা তেমনই কিছু ইতিহাস গড়া সংগ্রামী নারীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি।
ড. নাদিয়া আরো বলেন – তাদের কয়েকজনকে সম্মাননা দিতে পেরে ওয়েন্ড সত্যিই গর্বিত। শুধু নারী উদ্যোক্তা নয়, আমরা প্রতি বছর চেষ্টা করি সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখা গুণী নারীদের খুঁজে বের করে সম্মাননা জানানোর। আগামীতে আরও বড় পরিসরে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়া নারীদের খুঁজে বের করে সম্মানিত করবেন বলেও জানান তিনি।
শামীমা শিরীন লাইজুর উপস্থাপনায় জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশ ভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
#ওয়াসিম এমদাদ, স্টাফ রিপোর্টার।

পাঠকের মতামত