রোকেয়া হলে পুনরায় ভোট গ্রহণসহ ৫ দাবি নিয়ে অনশনে বসলেন ৫ ছাত্রী

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা কমছেই না। ১১ মার্চ রাতে ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই নতুন নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে। এবার অনশনে বসেছেন বেগম রোকেয়া হলের ৫ ছাত্রী।

অনশনে বসা ৫ ছাত্রীর দাবি হচ্ছে পুন:ভোট গ্রহণ, প্রভোস্টের পদত্যাগ, ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। গতকাল রাত ৯টা থেকে রোকেয়া হল গেটে অনশনে বসেছেন এই ৫ ছাত্রী। এ সময় হলের ভেতরে একই দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলে।

অনশনকারী শিক্ষার্থীরা হলেন, সাইদা আফরিন শাফি, জয়ন্তি রেজা, প্রমিক এশা, শ্রবণা শফিক দিপ্তি ও রাফিয়া সুলতানা। গত ১১ই মার্চ রোকেয়া হলে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয় বলে সূত্রপাত হয়।

ক্যাম্পাস সূত্র থেকে জানা যায়, নির্বাচনে ৯টি ব্যালটবক্স থাকার কথা ছিল। কিন্তু ভোটকেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা ছয়টি ব্যালটবক্স পেয়ে সন্দেহ শুরু করতে থাকেন। এই কারণে সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও ভোট গ্রহণ শুরু হয় ৯টার পর। পরে শিক্ষার্থী হল সংসদের কক্ষ ভেঙে তিনটি ব্যালট বক্স উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। পরে আবার বেলা তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

দরজা ভেঙে ব্যালট বক্স উদ্ধারের ঘটনায় রোকেয়া হলের এক শিক্ষার্থী হল প্রধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জিনাত হুদাকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ তুলে নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর ছাত্র ইউনিয়নের লিটন নন্দীসহ অজ্ঞাতনামা ৪০ শিক্ষার্থীর নামে মামলা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাত ১০টার দিকে হল প্রাধ্যক্ষ জিনতা হুদার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।

অনশনে বসা সাইদা আফরিন শাফি বলেন – আমরা রোকেয়া হলে পুনরায় ভোট গ্রহণ, হল প্রভোস্টের পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনরত মেয়েদের নিরাপত্তার দাবিতে অনশন করছি। যতক্ষণ দাবি না আদায় হবে ততক্ষণ অনশন চলিয়ে যাবো।

পাঠকের মতামত