জীবনে ‘প্যারা’ শব্দ শুনি নাই, ব্যবহারও করি নাই, প্যাচাল আবার কেমন শব্দ – বিচারপতি

বাজারে নতুন মোড়কে আসা কোমল পানীয় কোকাকোলার মোড়কে ব্যবহৃত শব্দগুলোকে অশালীন উল্লেখ করেছে সুপ্রীম কোর্ট। আজ বৃহষ্পতিবার কোকাকোলার বোতলে এ সকল অশালীন বাংলা শব্দের ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে একটি রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

রুলে বলা হয়েছে –  কোমল পানীয় কোম্পানি কোকাকোলার (কোক) বোতলে অশালীন বাংলা শব্দের ব্যবহার কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবেনা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবেনা?

এর আগে, আইনজীবী মনিরুজ্জামান গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কোকাকোলার বোতলে বাংলা ভাষার বিকৃত ব্যবহার বন্ধ, বাজারে থাকা কোকাকোলার বোতল প্রত্যাহার এবং এ নিয়ে প্রচারিত বিজ্ঞাপন চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রিটে আবেদনে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, বেভারেজ কোম্পানি কোকাকোলা এবং আইন, তথ্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবদের বিবাদী করা হয়েছে।

একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১১ মার্চ) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। সেইসাথে ভাষা বিকৃত করার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান রানা। কোকাকোলার পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তানজিব উল আলম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

আদালত কোকাকোলার পক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন – কোকাকোলার বোতলের শব্দগুলো বাংলা ভাষাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে। কোকের বোতলের বাংলা ভাষার শব্দ হিসেবে এভাবে ব্যবহার বা প্রচার করা যায় না। এসব শব্দের ব্যবহার বাংলা ভাষাকে আরও খারাপ জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে।

বিচারপতি বলেন – জীবনে ‘প্যারা’ শব্দ কখনো আমি শুনি নাই, কখনো এই শব্দ ব্যবহারও করিনি। মাথা নষ্ট, প্যাচাল, প্যারা এসব শব্দ ব্যবহারের আগে ভাষাবিদদের সাথে পরামর্শ নেয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও জানতে চায় আদালত।

এসব শব্দ শিশুদের ভুল শিক্ষা দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন উচ্চ আদালত। হাইকোর্ট হুঁশিয়ার করে দেন, ভাষা নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান যা খুশি তাই করতে পারে না।

পাঠকের মতামত