ব্রেক্সিট ইস্যু নিয়ে দ্বিতীয়বারেও হারলেন টেরেসা মে, রক্ষণশীল দলের ৭৫ ‘না ভোট’

ব্রেক্সিট ইস্যু নিয়ে আবারো হেরে গেলেন টেরেসা মে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দীর্ঘ দেন-দরবার করে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার যে খসড়া চুক্তি তিনি চূড়ান্ত করেছিলেন, সেটির প্রতি সমর্থন আদায়ে দ্বিতীয়বারের মতো তা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংসদ পেশ করেছিলেন তিনি। কিন্তু সংসদে সেটি গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

বিবিসি থেকে বলা হয়েছে, যে চূড়ান্ত খসড়া চুক্তির টেরেসা মে সমর্থন পাওয়ার জন্য সংসদে পেশ করেছিলেন সেটি ৩৯১-২৪২ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। অর্থাৎ ১৪৯ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হেরে গেছে টেরিজা মের খসড়া চুক্তি।

এর আগে টেরেসা মে ব্রেক্সিট চুক্তি জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে প্রথমবারের মতো সংসদে তোলেন। প্রথমবার যে ব্যবধানে তার চুক্তিটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল, তার নজির ব্রিটিশ সংসদেই নেই। তার নিজের রক্ষণশীল দলেরই ১১৮ জন এমপি ওই চুক্তির বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্রেক্সিটের পর উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের মধ্যে অবাধে পণ্য এবং মানুষের যাতায়াত অব্যাহত রাখা নিয়ে যে আপত্তি অনেকে করছিলেন, সেখানে ইইউ থেকে তিনি কিছু ছাড় পেয়েছেন। বলা হচ্ছে, এই দুই ভূখণ্ডের মধ্যে অবাধ যাতায়াত হবে সাময়িক।

তাই গত কয়েক সপ্তাহ ইইউ নেতাদের সঙ্গে নতুন করে বৈঠক করে চুক্তিতে কিছুটা পরিবর্তন আনেন। কিন্তু পরিবর্তিত চুক্তিও সংসদে বিশাল ব্যবধান না ভোটে প্রত্যাখ্যান করা হয়।

তবে প্রধানমন্ত্রী বলছেন এখন এমপিরা আরেকটি ভোট দেবেন- কোনো চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাজ্যের ইইউ থেকে বেরিয়ে আসা উচিত কি-না তার ওপর এবং সেটিও না হলে ব্রেক্সিট বিলম্বিত করা উচিত কি-না। তবে লেবার পার্টি নেতা জেরেমি করবিন বলছেন প্রধানমন্ত্রীর এখন উচিত সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করা।

দ্বিতীয়বারের প্রস্তাবে নিজের রক্ষণশীল দলের ৭৫ জন তার প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন যে সংখ্যা প্রথমবারের ভোটের সময় ছিল ১১৮। এর আগে এমপিদের সতর্ক করে টেরেসা মে বলেছিলেন, তার প্রস্তাবে সমর্থন না দিলে সেটি ব্রেক্সিট না হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিন্তু শেষপর্যন্ত প্রয়োজনীয় সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

পাঠকের মতামত