সিদ্ধ ডিম নাকি ভাজি ডিম, সুস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কোনটা এগিয়ে?

ডিম খুবই পুষ্টিকর একটি খাবার। ডিমকে বলা হয় আদর্শ প্রোটিন। কারণ একটি সম্পুর্ণ ডিমের পুষ্টিমানের দিক থেকে ১২.৬ গ্রামই হচ্ছে প্রোটিন। কিন্তু আমরা প্রায়ই দ্বিধা-দ্বন্দে পড়ে যাই যে ডিম কিভাবে খাবো। কেউ বলে ভাজি বা ওমলেট ডিমে পুষ্টি বেশী আবার কেউ বলে সিদ্ধ ডিমে পুষ্টি বেশী। অবশ্য ডিম প্রেমীরা এতকিছু দেখেননা। তাদের কাছে ডিম হলেই চলে, হোক সেটা সিদ্ধ, পোস বা ওমলেট।

তবে আমাদের জেনে রাখা উচিত কিভাবে ডিম খেলে এর সম্পুর্ণ পুষ্টিগুণ পাওয়া যাবে। অনেকে মনে করে ডিম ভাজির থেকে সিদ্ধ ডিমে পুষ্টি বেশি। আসলে কথাটা একবারে ঠিক না। ডিম খাওয়ার ধরণ যেমন একেকরকম, ঠিক এর পুষ্টিমানও একেকরকম।

আসুন জেনে নেওয়া যাক কোন ডিমে কেমন পুষ্টিমান:

একটা গোটা সিদ্ধ ডিমে রয়েছে ৭৮ ক্যালরি, ৬.৩ গ্রাম প্রোটিন, ০.৬ গ্রাম কার্বহাইড্রেট ও ৫.৩ গ্রাম ফ্যাট। যার মধ্যে ১.৬ গ্রাম স্যাচুরেটেড ফ্যাট। অপরদিকে ওমলেট ডিমে রয়েছে ৯০ ক্যালরি, ৬.৮ গ্রাম ফ্যাট। স্যাচুরে়টেড ফ্যাটের পরিমাণ ২ গ্রাম। এদিক থেকে ওমলেট ডিম টেক্কা দিল সিদ্ধ ডিমকে।

ভিটামিনের দিক থেকে হিসেব করলে সিদ্ধ ডিম আর ভাজি ডিম একই পুষ্টিমানে অবস্থান করে। একটা গোটা সিদ্ধ ডিমের ১৫ শতাংশ রাইবোফ্লোভিন, ১০ শতাংশ ভিটামিন বি১২ ও ১১ শতাংশ ভিটামিন। ভাজ ডিমেও ভিটামিনের পরিমাণ প্রায় একই। রাইবোফ্লোভিন রক্তকণিকা তৈরি করতে সাহায্য করে, বি১২ স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা নিয়নন্ত্রণ করে, ভিটামিন ডি রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

কিন্তু খনিজের ক্ষেত্রে সিদ্ধ ডিম ওমলেটের কাছে হেরে যায়। সিদ্ধ ডিমের থেকে ওমলেটে মিনারেলের পরিমাণ বেশি। সিদ্ধ ডিমে যেখানে ৯ শতাংশ ফসফরাস রয়েছে, ওমলেটে সেখানে ফসফরাসের পরিমাণ ১০ শতাংশ। হাড় শক্ত করতে ফসফরাস অত্যন্ত জরুরি।

তবে যে যেভাবেই ডিম খান কেন, সকল অবস্থায় ডিম শরীরের জন্য খুবই উপকারি।

পাঠকের মতামত