ঐতিহাসিক ৭ মার্চ-এর ৪৮তম বার্ষিকী আজ

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) ১৯ মিনিটের এক জাদুকরি ভাষণে বাঙালি জাতিকে স্বপ্নে বিভোর করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। এরপরই সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ, ৯ মাসের লড়াই এবং স্বাধীনতা অর্জিত হয়। ঐতিহাসিক সেই দিনটির ৪৮তম বার্ষিকী আজ।

১৯৭১ সালের এইদিন (৭ মার্চ) বেলা ৩টা ২০ মিনিটে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হন বঙ্গবন্ধু। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ময়দান ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। স্লোগান ছিল পুরো ময়দানজুড়ে।

দরাজ গলায় বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণ শুরু করেন, ‘ভাইয়েরা আমার, আজ দুঃখ-ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি…।’

তেজদীপ্ত সেই ভাষণ আজও বাঙ্গালীর শত আবেগের অনুপ্রেরণা। এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর প্যারিসে ইউনেস্কোর প্রধান কার্যালয়ে এ ঘোষণা দেন মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা।

সেদিন বঙ্গবন্ধু’র সেই বজ্রকণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিলো, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম…, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ , বঙ্গবন্ধু

আর এই ভাষণই অনুরণিত হয়েছিলো লাখো হৃদয়ে। তিনি বলেছিলেন, ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে’।

১৯ মিনিটের সেই ভাষণই জুগিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা । আজও অনেকের কাছে তা অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে। সে ভাষণে আজও কেঁপে কেঁপে ওঠে ধরণী।

আজ ঐতিহাসিক এ দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে পৃথক বাণী দিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাঁর বাণীতে বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কেবল আমাদের নয়, বিশ্ববাসীর জন্য প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে। একটি ভাষণ কীভাবে গোটা জাতিকে জাগিয়ে তোলে, স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করে, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ তার অনন্য উদাহরণ।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে অমিত শক্তির উৎস ছিল বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। কালজয়ী এই ভাষণ বিশ্বের শোষিত, বঞ্চিত ও মুক্তিকামী মানুষের সব সময় প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত