‘ছোটবেলায় আমি বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলতে পারতাম’

নবীন লিখিয়েদের মধ্যে হালের অন্যতম জনপ্রিয় নাম—ওয়াসিকা নুযহাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় পাঠকপ্রিয়তা পাওয়া এবং বইমেলাতেও ঔপন্যাসিক হিসেবে সমানে পরিচিত প্রবাসী এই লেখিকার প্রথম উপন্যাস “খাঁচার ভিতর অচিন পাখি” প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালের অমর ২১শে গ্রন্থমেলায়।

বাংলার কবিতা প্রকাশন (বর্তমান—বাংলার প্রকাশন) থেকে প্রকাশিত হওয়া এই বইটি সেবারের মেলাতে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়। এরপর ২০১৭তে প্রকাশিত হয় তার ২য় উপন্যাস “মাঝে মাঝে তব” এবং ২০১৮’র গ্রন্থমেলায় আসে “বৃষ্টিমহল।”

সমকালীন প্রেক্ষাপটে রচিত এই উপন্যাসগুলো সমান হারেই পেয়েছে পাঠকপ্রিয়তা। এবার, অর্থাৎ আসন্ন অমর ২১শে গ্রন্থমেলা ২০১৯-এ আসছে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় এই লেখিকার ৪র্থ উপন্যাস “মন সায়রের পাড়ে।”
এটিও প্রকাশ করতে যাচ্ছে সৃজনশীল প্রকাশনী “বাংলার প্রকাশন।”

আসন্ন গ্রন্থমেলা এবং লেখালেখি নিয়ে কথা হলো লেখিকা ওয়াসিকা নুযহাতের সংগে। বিডি৩৬০ নিউজের সম্মানিত পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো:

বিডি৩৬০ নিউজ: কেমন আছেন?

— আলহামদুলিল্লাহ ভালো!

বিডি৩৬০ নিউজ: বই মেলা তো চলেই এলো। বইয়ের কাজ কতদূর এগিয়েছে? এবারের বই মেলা নিয়ে প্রস্তুতি কেমন?

— বইয়ের কাজ বলতে গেলে শেষ। এখন শুধু ছাপা হয়ে বেরিয়ে আসার অপেক্ষা।

বিডি৩৬০ নিউজ: মেলার প্রথম দিন থেকেই কি স্টলে আপনার বই পাওয়া যাচ্ছে তাহলে?

— জি, মেলার প্রথম দিন থেকেই পাওয়া যাবে ইন-শা-আল্লাহ।

বিডি৩৬০ নিউজ: এটি আপনার ৪র্থ বই। এর আগে আরো ৩টি বই এসেছে, এবং সবগুলোই পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। তো জানতে চাচ্ছি—আগের তিনটি বইয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছেন কোনটিতে?

— প্রথম উপন্যাস হিসেবে খাঁচার ভিতর অচিন পাখি বেশ ভালো পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। এছাড়া ”বৃষ্টিমহল’ উপন্যাসটি যেহেতু বন্ধুদের নিয়ে তাই এ প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা উপন্যাসটি মন থেকে খুব পছন্দ করেছে| ২য় খন্ডের জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে|এ বছর ইচ্ছে ছিল ২য় খন্ড প্রকাশ করার কিন্তু ব্যক্তিগত কিছু ব্যস্ততার কারণে পুরোটা লেখা হয়ে ওঠেনি|আমি আসলে বৃষ্টিমহলের বন্ধুদেরকে আরেকটু বেশি সময় দিতে চাইছি|তাড়াহুড়ো করে সমাপ্তি টানতে চাইছিনা|

বিডি৩৬০ নিউজ: এবারেরটায় অর্থাৎ—মন সায়রের পাড়ে কেমন ফিডব্যাক পাবে বলে আশা করছেন?

— এবারের উপন্যাসটিও সুখপাঠ্য। আশা করি বইটি পাঠক প্রিয়তা পাবে।

বিডি৩৬০ নিউজ: আপনার নিজের লেখা এই চারটি বইয়ের মধ্যে যদি আপনার সবচেয়ে বেশি পছন্দের বইটি বেছে নিতে বলি, কোনটিকে আগে নিবেন?

— আমি আমার প্রতিটি সৃষ্টিকেই সমান ভালোবাসি।

বিডি৩৬০ নিউজ: এবার একটু অন্য প্রশ্নে যাই। মানুষ এখন বেশিই অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়েছে। ফেসবুক নির্ভর হয়ে যাচ্ছে এটাও বলা যায়। তবে সেই তুলনায় বইয়ের পাঠকও কমে গেছে অনেকাংশে। আপনি এটিকে কোন চোখে দেখছেন?

— দেখুন পাঠক কমে গেছে এ কথা সত্য। তবে এর দোষ আমি পুরোপুরিভাবে অনলাইন বা প্রযুক্তিকে দেবো না। কারণ যারা প্রকৃত পাঠক তারা এই ডিজিটাল যুগে এসেও সমস্ত ব্যস্ততা পেছনে ফেলে বই খুলে বসে। রোজ রাতে বিছানায় যাবার আগে কয়েক পাতা বই না পড়লে তাদের ঘুম হয় না। বিনোদন বা জ্ঞান লাভের অনেক মাধ্যম রয়েছে আজকের পৃথিবীতে। তাই হয়ত আগে মানুষ যতটা সময় বইয়ের সাথে কাটত এখন ততটা পারছে না।

তবুও আমি বলব প্রকৃত পাঠক এখনও আছে। আমেরিকায় তো আমি বাসে ট্রেনে, এমনকি রেস্টুরেন্টেও ছেলে মেয়েদের বই নিয়ে একলা বসে পড়তে দেখেছি। ওরা কি আধুনিক বিশ্বের অধিবাসী নয়? অনলাইন জগত তো ওদের হাত থেকে বই ছিনিয়ে নিতে পারেনি। বাংলাদশেও আমি এরকম অনেককে চিনি যারা দিনে অন্তত একবার বইয়ের ভেতর ডুব না দিলে দম নিতে পারে না। অতএব যারা বই পড়ছে না, তাদের সমস্যাটা অনলাইন বা ফেসবুক নয়। তাদের সমস্যা অন্য জায়গায়।

আমাদের উচিত নতুন প্রজন্মকে প্রকৃত পাঠক হিসেবে গড়ে তোলা। বই পড়ার নেশাটা ওদের ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া। এবং এই প্রচেষ্টা চালাতে হবে ছোটবেলায়। কোমলমতি শিশুদেরকে বোঝাতে হবে বই পড়ে যে আনন্দটা পাওয়া যায়, অন্য কোনো মাধ্যমে সেই বিশুদ্ধ আনন্দ টুকু লাভ করা যায় না।

বিডি৩৬০ নিউজ: অনলাইনে হলেও মানুষ এখনো সাহিত্য পড়ে, এটিই কি যথেষ্ট নয়? নাকি বইয়ের প্রতি ঝোঁক বাড়ানো  উচিত বলে মনে করেন?

— অবশ্যই বই পড়ার অভ্যেস গড়ে তুলতে হবে। পিডিএফ ডাউনলোড করে অনেকেই পড়েন আজকাল। পড়াটা ভাল। যেকোনো উপায়ে আপনি বইয়ের সাথে সম্পৃক্ত থাকুন এটাই যথেষ্ট। কিন্তু কী জানেন, নিজের হাতে ধরে বইয়ের পাতায় ডুবে যাওয়ার মধ্যে অন্যরকম একটা তৃপ্তি আছে। নতুন বইয়ের পৃষ্ঠার ঘ্রাণের মাঝে এক স্বর্গীয় আমেজ আছে। নতুন প্রজন্মকে আমাদের সেই আমেজ এবং সেই তৃপ্তিটার স্বাদ উপলব্ধি করাতে হবে।

বিডি৩৬০ নিউজ: বাংলা উপন্যাসের বর্তমান এবং ভবিষ্যত নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

— বর্তমানে অনেকেই উপন্যাস লিখছেন।সমালোচনা করার মত অবস্থানে আমি আসলে নেই। আমি সাহিত্যিক নই। নিজেকে সাহিত্যিক ভাবার মত সাহস হয়ে ওঠেনি এখনো। সাধারণ একজন লেখক হিসেবে বলবো, লেখক হয়ে ওঠার আগে একজন প্রকৃত পাঠক হয়ে ওঠাটা খুব জরুরি।

পাঠকদের মাঝ থেকে আপনা আপনিই সত্যিকারের লেখক বেরিয়ে আসবে। বর্তমানে যারা উপন্যাস লিখছেন তাদের জন্য রইলো আমার শুভেচ্ছা। বাংলা সাহিত্য এমনিতেই অনেক সমৃদ্ধ। এ প্রজন্মের সাহিত্যিকরা লেগে থাকলে এই ভান্ডারকে আরো অনেক সমৃদ্ধ করে তুলতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস।

মন সায়রের পাড়ে

বিডি৩৬০ নিউজ: লেখালেখি নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী? নিজেকে কোন পর্যায়ে দেখতে চান?

— আমার স্বপ্ন লিখে যাওয়া। জ্ঞান হবার পর থেকেই আমি খুব গল্প বুনতে ভালোবাসি। আমার মনে আছে, ছোটবেলায় আমি বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলতে পারতাম। তাই গল্প বলে যাওয়াটাই আমার একমাত্র স্বপ্ন।

আমি চাই আমার লেখা যেন পাঠক মনে আনন্দের সঞ্চার করে, তার চেতনায় নাড়া দেয় এবং তাকে ভাবতে শেখায়। ব্যাস এতটুকুই।  খ্যাতির জন্য লিখি না আমি। মনের শান্তির জন্য লিখি। তাই নিজেকে কোন পর্যায়ে দেখতে চাই এর উত্তরে আমি বলবো নিজেকে একজন সুখী লেখক হিসেবে দেখতে চাই। সবার দোয়া চাই যেন আমার লেখক সত্ত্বাটা আজীবন সুখে থাকে।

বিডি৩৬০ নিউজ: পাঠকদের জন্য যদি কিছু বলতেন।

— পাঠকদের উদ্যেশ্যে বলবো পড়ুন, পড়ুন এবং পড়ুন। আপনার ছেলেমেয়েদের হাতে বই তুলে দিন। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এবং অবশ্যই নতুন লেখকদের বই পড়ুন।

বিডি৩৬০ নিউজ: ধন্যবাদ আপনাকে আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য।

— আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত