দিনাজপুরের বিরামপুরে পিঠা উৎসব ২০১৮ অনুষ্ঠিত

শীত মানেই পিঠা। গ্রামীণ জনপদে শীত এলেই ঘরে ঘরে শুরু হয় পিঠার ধুম। কিন্তু ব্যস্ত শহরে এই পিঠার স্বাদ পেতে দ্বারস্থ হতে হয় পিঠার দোকানে। তাই বাঙালির ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ও নারী উদ্যোক্তার সন্ধানে ভিএসও এর আর্থিক সহায়তায় আরডিআরএস বাংলাদেশের বাস্তবায়নে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলাধীন জোতবানী ইউনিয়নে পিঠা উৎসব ২০১৮ পালন করেছে আইসিএস প্রজেক্টের বিরামপুর সাইকেল-১। ১৮ নভেম্বর রোববার জোতবানী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে এ পিঠা উৎসব উদ্বোধন করেন স্থানীয় চেয়ারম্যান আঃ রাজ্জাক মন্ডল।

উৎসব শুরু হয় দুপুর ২টায় আর শেষ হয় বিকেল ৫:৩০ টায়। এসময় বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে কেউ বা আবার বন্ধুদের নিয়ে দলে দলে ভিড় করে পিঠা উৎসবে। ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন স্টল পরির্দশনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্টলের নানাসব বাহারি পিঠার মজা উপভোগ করেন।

পিঠা উৎসবে নানা রঙ ও ঢংয়ের বাহারি পিঠা দর্শনার্থীদের মন কেড়েছে। উৎসবে ১৩ টি স্টলে দুধ চিতই, সাগুর লস্করা,পাটি সাপ্টা, সংসারী, পেয়া, নয়নতারা, ডালের বরফি, হেয়ালি পিঠা, পাটিসাপটা, নারকেল পুলি, দুধ পুলি, তালের পিঠা, মাছ পিঠা, হৃদয় হরণ, মন কারা, কুমারী পিঠা, বৌ-পিঠা, সাথী পিঠা, মালপোয়া, ঝালপোয়া, সুজির পিঠা, মাংসের সমুচা, ডিম পিঠা, মুগ পাকান, পুডিং, পায়েস, পানতোয়াসহ প্রায় ২ শত রকমের পিঠা বিক্রি ও প্রদর্শিত হয়।

পিঠা উৎসবে বড়দের পাশপাশি শিশু-কিশোররাও বেশ আনন্দ উপভোগ করেছে। পিঠা উৎসবের এ সময়টা যেন বন্ধু-বান্ধব আর প্রিয়জনদের মিলন মেলায় পরিনত হয়। অনেকে দল বেঁধে বন্ধুদের নিয়ে সেলফি তোলাতেও মেতে উঠে। আয়োজকরাও এ উৎসব প্রাণের উৎসব হওয়ায় বেশ খুশি।

আয়োজকদের অন্যতম উদ্যোক্তা বিথী বলেন, নারীদের মধ্য থেকে উদ্যোক্তা তৈরী ও বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব যাতে হারিয়ে না যায় তাই আমরা এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এখন থেকে প্রতি বছর নিয়মিত ভাবে পিঠা উৎসবের আয়োজন করতে চাই। ভিএসও আইসিএস টিমকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের উপজেলা থেকে হারিয়ে যাওয়া এ উৎসবকে আবার ফিরিয়ে আনার জন্য।

পিঠা উৎসব ২০১৮ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক নিরোধ পল তার অভিব্যক্তিতে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি আরো বলেন “আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো পিঠা উৎসবের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তা খুজে বের করার এবং তাদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করার। আমরা আগামি কয়েকদিনে চেষ্টা করবো এদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে আয়ের উৎস তৈরী করে দেওয়ার জন্য। আনন্দ উল্লাসে সবাই একত্রিত হওয়ার সাথে সাথে অসহায় দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করতে পারাতেই আমাদের আয়োজন স্বার্থক হয়ে উঠবে”

#নাইম ইসলাম, বিরামপুর থেকে।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত