নাগেশ্বরীতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ৩০ কেজির বস্তায় ২৫ কেজি চাল

কুড়িগ্রামের কচাকাটায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণে কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ডিলারের বিরুদ্ধে। সুবিধাভোগীদের অভিযোগ ৩০ কেজির বস্তায় চাল রয়েছে ২৫ থেকে ২৬ কেজি। প্রতিবারই ওই ডিলার এই রকম কম দিয়ে এলেও কর্তৃপক্ষ দেখেও এড়িয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার বল্লভের খাষ ইউনিয়নের গাবতলা এলাকার ডিলার মনিরুজ্জামান মনিরের বিরুদ্ধে চাল কম দেয়ার অভিযোগ তুলেন সুবিধাভোগীরা। সুবিধাভোগীদের অভিযোগ প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি চাল থাকলেও মনির নিজ গোডাউনে এনে ৪ থেকে ৫ কেজি চাল কৌশলে নামিয়ে রাখেন। পরে ওই সব বস্তা ৩০ কেজি ধরে ৩০০ টাকা নিয়ে গ্রাহকদের দেন।
আজ রোববার সকালে গাবতলা বাজারে চাল বিতরণকালে সরেজমিনে গিয়ে বস্তায় ২৫ থেকে ২৬ কেজি চাল পাওয়া যায়। ইউনিয়নটির মোল্লাপাড়া গ্রামের সুবিধাভোগী আনসার আলী জানান, প্রতিবার তারা চাল কম পাচ্ছেন, অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হয় না। একই অভিযোগ ভিতরবন্দ গ্রামের সুবিধাভোগী মহির উদ্দিন, দেওয়ানজাগীর ছোমেদ আলী, চর বলারামপুরের বারেক ও মোল্লাপাড়ার হালিমা বেগমের। তারা বলেন, যা পাই তাই নিয়ে যাই, এছাড়া আমাদের মতো গরীবের আর কি করার আছে।
বিতরণকালে উপস্থিত ট্যাগ অফিসার উপসহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শাহানুর ইসলাম চাল কম দেয়ার ব্যাপারে বলেন, ৩০ কেজির বস্তায় ৪-৫ কেজি চাল কম রয়েছে এমন দেখতে পেয়ে বিতরণ বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও ডিলার মানেন নি।
ডিলার মনির বলেন, আমরা যে রকম বস্তা উপজেলা গুদাম থেকে পেয়েছি সেরকমই বিতরণ করছি। চাল কম আছে কিনা জানি না। ডিলার মনির ৪৬৩ জন সুবিধাভোগীর বিপরীতে ১৩ হাজার ৮৯০ কেজি চাল উত্তোলন করেছেন।
গুদাম পরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম জানান, আমরা সঠিক পরিমাণে চাল দিয়েছি। প্রতি বস্তায় ৩০ কেজির নিচে চাল থাকবে না। ৩০ কেজি করেই বিতরণ করতে হবে ডিলারদের।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, চাল কম দেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগ রয়েছে উপজেলায় সব ইউনিয়নে ২৮ কেজির বেশি চাল বিতরণ করা হয়নি।
#মমিনুল ইসলাম বাবু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।

পাঠকের মতামত