আমতলী কুকুয়া ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলছে অসামাজিক কার্যক্রম

বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের ১০ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ১১টি ভবনসহ সীমানাপ্রাচীর সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে এখানে চিকিৎসা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। ১৯৬৭ সালে কুকুয়া ইউনিয়নের আজিমপুর বাজারে ছয় একর জমির ওপর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নির্মাণ করেন সরকার। কারণ এ অঞ্চলের কৃষিনির্ভর মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনা করে ১০ শয্যার এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নির্মাণ করে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সীমানা প্রাচীর না থাকায় এরই মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অনেক জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। আরও জমি দখলের তৎপরতা চালাচ্ছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির নাজুক অবস্থার কারণে কর্মরত চিকিৎসক থাকতে অনিহা প্রকাশ করেন। এখানে দুজন চিকিৎসকের জন্য দুটি, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য ছয়টি, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য একটি আবাসিক ভবন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য একটি ও গাড়ি রাখার জন্য আরও একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। নির্মিত এসব ভবন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় কারণে প্লাস্টার খসে পড়েছে। দরজা-জানালা চুরি হয়ে গেছে অনেক।

এ ছাড়াও ছাদ ও অন্যান্য কাঠামো জরাজীর্ণ হওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে একজন চিকিৎসক প্রতিদিন আমতলী শহর থেকে গিয়ে সেখানে জরাজীর্ণ একটি কক্ষে বসে বহির্বিভাগের রোগীদেরকে চিকিৎসাসেবা দিলেও হাসপাতালের অান্তঃবিভাগের কোনো কার্যক্রম নেই।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ ভবনের দরজা-জানালা নেই। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। ছাদে বড় বড় ফাটল ও মেঝেতে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভবনের ও পিলারের প্লাস্টার খসে পড়ে রড বেরিয়ে পড়েছে অনেক ভবনের। ভবনের ভেতরে ও আশপাশ আগাছায় ভরে আছে ভয়ে কোনো কর্মকর্তা কিংবা কোনো কর্মচারী এসব ভবনে যান না। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সীমানা চিহ্নিত করা হলেও তা নষ্ট হয়ে গেছে অনেক আগেই। ফলে অহরহ গরু ছাগল ঢুকে যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আবাসিক ভবন না থাকায় এখানে চিকিৎসক-নার্স বা অন্য কোনো কর্মচারী থাকেন না। যার ফলে সঠিকভাবে হচ্ছেনা চিকিৎসা কার্যক্রম।

স্থানীয় একজন বলেন,বাজারসংলগ্ন এটি যে স্বাস্থ্য কেন্দ্র তা বোঝার কোন উপায় নেই। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সম্মুখে ময়লা আর্বজনার ফেলে দুর্গন্ধের করে রাখে পরিবেশ। যার কারণে নাকে রুমাল চেপে ধরে এদিক দিয়ে চলাফেরা করতে হয় সর্বসাধারণের।

এলাকার লোকজন জানান, সীমানা প্রাচীর না থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির রাস্তার পাশের অনেক জমি বেদখল হয়ে গেছে। তারা আরো জানায় সীমানা  না থাকার কারণে বিভিন্ন অনৈতিক  কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে অপহৃত ভবনগুলোতে। তারা আরো জানান, স্থানীয় দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সেবন করেন বলে তারা দাবি করেন।

স্থানীয় লোকজন  বলেন ইতিমধ্যে কালিপুরা গ্রামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছয় একর জমির মধ্যে তিন একর জমি তাঁদের দাবি করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন এলাকার লোকজন। সীমানা প্রাচীর না থাকায় সরকারি জমি যেকোনো মুহূর্তে বেদখল হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন স্থানীয়।

এছাড়াও কর্মরত চিকিৎসক দীপঙ্কর জানান, সীমানা প্রাচীর না থাকার কারণে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বলে আশা ব্যক্ত করেন। সীমানা পেয়েছি না থাকার কারণেই স্বাস্থ্য কমপেক্সের ভিতরে চলে মাদক সেবন। তিনি আরো বলেন বেশ কিছুদিন আগে স্থানীয় এক মাদকাসক্ত বিভিন্ন চাবি দিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কক্ষ খোলার চেষ্টা করবেন। এবং বিভিন্নভাবে দরজা খোলা চেষ্টা করেন বলো দাবি করেন তিনি।

এছাড়াও ফ্যামিলি প্লানেট কর্মরত চিকিৎসক মরিয়ম জানান, দূরদূরান্ত থেকে অনেক মহিলা রোগী আসেন বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরামর্শ নেওয়ার জন্য। দুঃখের বিষয় হল একটি নরমাল ডেলিভারির জন্য বিশেষ কোনো রুম নেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বলেই তিনি নরমাল ডেলিভারি করতে পারছেন না তারা। এছাড়াও গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবিকা নিয়ে  যারা রয়েছেন তা অনেক সময় বিভিন্ন অসুবিধার সম্মুখীন হলে তাৎক্ষণিক কোনো চিকিৎসা দিতে পারেন না তারা দাবি করেন। এজন্য একটি কক্ষের খুবই প্রয়োজন বলে মনে করেন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এম এ মতিন বলেন, সংস্কারের অভাবে কুকুয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মূল ভবনসহ আবাসিক ১১টি ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে এখানে কোনো চিকিৎসক ও  নার্সদের পদার্পণ করলে কেউ থাকতে চান না। ওপরে তদবির করে অন্যত্র বদলি হয়ে যান। ।

বরগুনার  সিভিল সার্জন ডাঃ জসিম উদ্দিন  বলেন, কুকুয়ার ১০ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির আবাসিক ভবনগুলো সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ফলে ভবনগুলো যথাসময়ে সংস্কার করতে না পারায় এগুলো ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। তারপরেও আমি বিষয়টি নিয়ে জোরালো ভূমিকা নেব, যাতে শিগগিরই এসব সংস্কার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সচল রাখা যায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব সরোয়ার হোসেন বলেন,বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম মেডিকেল অফিসারদের গ্রামমুখী হওয়ার জন্য, চিকিৎসা সেবা গ্রামীণ গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য বারংবার তাগিদ দিয়ে আসছেন। এবং তারাও সে সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছেন বলে মত প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে কুকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন আহমেদ মাসুম তালুকদার বলেন-হাসপাতালটি চালু হলে এবং নিয়মিত ডাক্তার থাকলে কুকুয়া, আঠারগাছিয়া, চাওড়া,হলদিয়া ও গুলিশাখালী ইউনিয়নের কয়েক লক্ষাধিক লোকের জন্য একমাত্র এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অবস্থা অত্যন্ত করুন। হাসপাতালটির আবার পুনরায় সচল হলে সাধারণ মানুষ বেশ উপকৃত হবে।

#এইচ. এম. রাসেল, অামতলী প্রতিনিধি।

পাঠকের মতামত