রাজধানীতে ১১ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯২৮ জন ডেঙ্গু রোগী

অক্টোবর মাসের প্রথম ১১ দিনে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯২৮ জন। সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৮৫ জন। এক প্রতিবেদনে জানা যায়, গেলো মাসে গড়ে প্রতিদিন এক শ’ জনের উপরে আক্রান্ত হয়েছেন ডেঙ্গুতে। সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৪ জন। শিশু হাসপাতালে গত মাস পর্যন্ত পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তে রেকর্ড অতিক্রম করেছে এবার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুসারে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী আগস্ট মাসে আক্রান্ত ১৭শ’ ৯৬ জন এবং মারা গেছেন ৬ জন, জুলাই মাসে আক্রান্ত ৯৪৬ জন এবং মারা গেছেন ৪ জন, জুন মাসে ২৯৫ জন আক্রান্ত এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ জন। মে মাসে আক্রান্ত ৫২ জন, এপ্রিলে ১৫ জন, মার্চে ৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৭ জন এবং জানুয়ারিতে ২৬ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২২৪ জন।

ভর্তি থাকা এসব রোগীদের মধ্যে ধানমন্ডির সেন্ট্রাল হাসপাতালে ৩৩ জন, ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে ২০ জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ৩৬ জন, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (মিটফোর্ড) ৩১ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী  হাসপাতালে ৩১ জন এবং পুরান ঢাকার সালাহউদ্দিন হাসপাতালে রয়েছেন ১৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তে এবার রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এবার সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছে।

তবে তিনি ধারণা করছেন, আগামী মাসের পর থেকে শীত চলে এলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসবে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জরিপ চালিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেখতে পেয়েছে, উত্তরে ৬৬ শতাংশ এলাকার ৯৮ শতাংশ বাসাবাড়িতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননবান্ধব পরিবেশ রয়েছে। দক্ষিণে ৬১ শতাংশ এলাকার ৯৩ শতাংশ বাসাবাড়িরও রয়েছে একই অবস্থা। এসব বাসাবাড়িতে এডিস মশার ঘাঁটি অর্থাৎ প্রজননস্তরের লার্ভা-পিউপা পাওয়া গেছে।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল আজিজ বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু এবং এর ভয়াবহতা অনেক বেশি। ডেঙ্গু সাধারণত ৪ ধরনের হয়ে থাকে। ডেঙ্গু ১, ২, ৩, ৪। এর আগে ছিল ১, ২। এবারই প্রথম ডেঙ্গু ৩ দেখা গেছে। যেটা খুবই ভয়াবহ এবং খারাপ। তাই অনেক রোগী মারা যাচ্ছে।

ডেঙ্গু থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, ডেঙ্গু মশার প্রজনন ক্ষেত্র ফুলের টব, পরিত্যক্ত বালতি, খালি বোতল, আঙিনার চারপাশে জমে থাকা পানি থেকে ডেঙ্গু মশা জন্ম নিতে পারে। এ থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে ডেঙ্গুর প্রজনন উৎসগুলোকে ধ্বংস করে দিতে হবে। প্রতিদিন মশার স্প্রে করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, দিনের বেলায় বাচ্চাকে মশারি টাঙ্গিয়ে ঘুমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে ডেঙ্গু মশা যেমন কামড়াতে পারবে না ফলে শিশুরা ডেঙ্গুর হাত থেকে রক্ষা পাবে। পাশাপাশি নিজেদের ঘরবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। একইসঙ্গে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশা নিধনের উদ্যোগ নিতে হবে। জ্বরে আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুকে বেশি বেশি তরল জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে এবং বারবার খাওয়াতে হবে। যেন পানি শূন্যতা দেখা না দেয়। এ সময় অ্যান্টিবায়টিক খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই। জ্বর যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’র ৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত