যৌন হয়রানির অভিযোগে ভারতের প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলা হয়েছে।  এর যের ধরে প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। এছাড়া তার দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নারী ও শিশু উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী মণিকা গান্ধি এ ঘটনায় তদন্ত দাবি করেছেন।

গত ৮ অক্টোবর দুই নারী সাংবাদিক টুইট বার্তায় যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলায় আকবরের পদত্যাগ ও ঘটনার তদন্তের দাবি উঠেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সরকার দলীয় কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী মণিকা গান্ধি বলেন, ‘অবশ্যই এ ঘটনার তদন্ত হওয়া দরকার। ক্ষমতায় থাকলেই পুরুষরা এ ধরণের ন্যাক্কারজনক কাজ করে থাকেন। বর্তমানে নারীরা যখন একজোট হয়ে কথা বলার সাহস পাচ্ছে তখন অবশ্যই এ ধরণের অভিযোগগুলোর ব্যাপারে আমাদের আরও কঠোর হতে হবে।’

কংগ্রেস দলীয় সংসদ সদস্য জয়পাল রেড্ডি বার্তাসংস্থা এএনআই’কে বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এম জে আকবর, হয় তার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের সন্তোষজনক উত্তর দিবেন নয়তো পদত্যাগ করবেন। আমরা এ ঘটনার তদন্ত দাবি করছি।’

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে আকবরের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে একাধিক নারী সাংবাদিক এই বিষয়ে সুষমার কাছে জানতে চান, যৌন হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। আপনি নারী এবং মন্ত্রণালয়ের প্রধান। এসব অভিযোগের কি কোনো তদন্ত হবে? সুষমা স্বরাজ প্রশ্ন শুনলেও কোনো মন্তব্য না করে নীরবে হেঁটে চলে যান।

সম্প্রতি ভারতে একের পর এক নারী সাংবাদিক তাদের সাবেক সম্পাদক, ব্যুরো চিফ বা ঊর্ধ্বতন বসের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার অজস্র অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সামনে আনতে শুরু করেছেন। কয়েকটি ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছেন, কোথাও আবার সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিষ্ঠান অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তারপরও প্রভাবশালী এই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আদৌ শাস্তির আওতায় আনা যাবে কি না, পর্যবেক্ষকেরা তা নিয়ে সন্দিহান।

পাঠকের মতামত