পরিবেশের বিপর্যয় ঘটাচ্ছে আমাদের নিত্য-নতুন ফ্যাশন

নিত্য নতুন পোষাক কেনা আর যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন জামা-কাপড়ের ফ্যাশন আমরা সবাই কম বেশি পছন্দ করি। সেই সাথে ডিজাইনার এবং পোশাক বিক্রেতারাও আনকোরা কিছু দিতে সবসময় একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় নামেন। আর ঈদ-পুজা কিংবা বিভিন্ন উৎসব এলে তো কথাই নেই। উৎসবে উৎসবে নতুন নতুন পোষাক কিনি আমরা।

কিন্তু আপনি জানেন কি, আমাদের এই নিত্য-নতুন ফ্যাশনের খেসারত দিতে হয় পরিবেশকে? পরিবেশের বিপর্যয় ঘটায় ফ্যাশন।

এ নিয়ে ব্রিটেনের হাউজ অফ কমন্সের পরিবেশ বিষয়ক একটি কমিটির বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, প্রতি মৌসুমে না লাগলেও শুধু কেতাদুরস্ত থাকার জন্য নতুন কাপড় কেনা মানেই এক বছর বা মাত্র কয়েক মাসেই প্রচুর কাপড় বাতিল হয়ে যাচ্ছে। বাতিল কাপড় গিয়ে জমছে ময়লার ভাগাড়ে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ব্রিটেনেই সবচাইতে বেশি নতুন কাপড় কেনার প্রবণতা যায়।

কাপড় প্রস্তুত করতে বা ধুতে যে পরিমাণ পানি ও বিদ্যুৎ লাগে, জ্বালানি লাগে, সেটি হিসেব করলে দেখা যাচ্ছে – একটি জিনসের প্যান্ট যতদিন টেকে ততদিন সেটি পরিষ্কার করতে প্রায় চার হাজার লিটার পানি দরকার হয়।

মাত্র একটি জিনস পরিষ্কার করতে যদি এত পানি লাগে, তাহলে আপনি বছর জুড়ে জিনসসহ যত কাপড় পড়ছেন তা পরিষ্কার করতে কত পানি লাগে, চিন্তা করুন তো। এই হিসেবে একটা পুরো শহরের কাপড় ধুতে কত পানি লাগে? তাছাড়া কাপড় উৎপন্ন করতে বিদ্যুৎ লাগে। মেশিনে কাপড় পরিষ্কার করতে বা তা আয়রন করতেও বিদ্যুৎ লাগে।

এ নিয়ে হাউজ অফ কমন্সের পরিবেশ বিষয়ক ওই কমিটি আরো বলছে, শুধুমাত্র একটি পরিবার মেশিনে একবার কাপড় পরিষ্কার করার পর সত্তর হাজার কাপড়ের তন্তু পানির সাথে পরিবেশে মিশে যাচ্ছে। যেসব কাপড় আপনি বাতিল করছেন তা এক পর্যায়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়ছে। সমুদ্রের মাছ কৃত্রিম কাপড় খাচ্ছে। এই কমিটির হিসেবে ২০৫০ সাল নাগাদ ব্রিটেনে জলবায়ু পরিবর্তনের যে প্রভাব পড়বে তার তিন ভাগের এক ভাগেরও বেশি দায় হবে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির।

আর এসব বিষয়কে মাথায় রেখেই কাপড় ফেলে দেয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আনার পরামর্শ দিয়েছে ব্রিটেনের পরিবেশ বিষয়ক এই কমিটি। তারা বলছে, পরিবেশের উপর যে প্রভাব পড়ছে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে সরাসরি তার দায়ভার নিতে হবে। তাছাড়া ব্যবহৃত কাপড় ফেলে না দিয়ে তারা অন্যকে দান করার কথা বলছেন। এতে কাপড় রিসাইক্লিং হবে এবং কিছুটা লাভ হবে। বেশিদিন টেকে এমন কাপড় তৈরি করা যেতে পারে বলেও পরামর্শ এই কমিটির।

আরো পড়ুন : প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ১১ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব

পাঠকের মতামত