নবজাতকের যেসব নাম রাখা ইসলামে নিষিদ্ধ

সন্তানের জন্যে ভাল নাম রাখা এটা ইসলামের দেয়া পিতার উপর এক আমানত। পিতার উচিত সে আমানতের খিয়ানত না করে তা সুন্দর ভাবে পালন করা। কোনো কাফের খেলোয়াড়, অভিনেতা বা অভিনেত্রী বা ইসলামের শত্রুদের নামে সন্তানের নাম রাখা হলে কিয়ামতের দিন তাকে সকল সৃষ্টির সামনে ঐ কাফেরের নামে ডাকা হবে! সেদিন আমাদের সন্তানের কেমন লজ্জায় পড়তে হবে?

কত বড় আশ্চর্যের কথা যে, আমরা অমুসলিমের নামানুসারে আমাদের সন্তানদের নাম রাখছি! এর মাধ্যমে আমরা কি আমানতের খিয়ানত করছি না? একটা সুন্দর ইসলামি নাম থেকে আমাদের সন্তানদের বঞ্চিত করছি না? কারো নামে সন্তানের নাম রাখার একটি উদ্দেশ্য তো থাকে নেক ফাল; আল্লাহ যেন সন্তানকে অমুকের মত নেক বানান। কিন্তু কাফেরের নামানুসারে নাম রাখার দ্বারা একজন মুমিনের কী উদ্দেশ্য হতে পারে? ঐ কাফেরের মত হওয়া? নাউযু বিল্লাহি মিন যালিক!

মন্দ নাম মানব জীবনে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। এর একটি ঘটনা উল্লেখ আছে ইমাম মালেক (রঃ) এর মুয়াত্তা নামক গ্রন্থে।

হযরত ইয়াহইয়া বিন সাঈদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, হযরত উমর বিন খাত্তাব (রাঃ) জনৈক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কি? সে বলল, জামরাত (অগ্নিস্ফুলিঙ্গ)। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কার ছেলে? সে উত্তর দিল, ইবনে শিহাব (অগ্নিশিখার পুত্র)।

তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তোমার বাড়ী কোথায়? সে উত্তর দিল, বাহরুন নার (অগ্নিগর্ভে)। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, কোন অংশে? সে উত্তর দিল, বিযাতিল লাযা (শিখাময় অংশে) হযরত উমর (রাঃ) তাকে বললেন, যাও, তোমার গোত্রের লোকদের নিকট গিয়ে দেখ তারা ভস্মীভূত হয়েছে। লোকটি বলেন, তাদের কাছে এসে দেখলাম যে, সত্যিই তারা ভস্মীভূত হয়েছে।

যেসব নাম রাখা যাবে না
০১।  ‘আব্দ’ শব্দটিকে আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য কোন শব্দের সাথে সমন্ধিত করে নাম রাখা হারাম। যেমন, আব্দুল ওজ্জা (ওজ্জার উপাসক), আব্দুশ শামস (সূর্যের উপাসক), আব্দুল কামার (চন্দ্রের উপাসক), আব্দুল কালাম (কথার উপাসক), আব্দুন নবী (নবীর উপাসক), আব্দুল আলী (আলী এর উপাসক), আব্দুল হোসাইন (হোসাইন এর উপাসক।

০২।  আল্লাহর নাম নয় এমন কোনো নামের সাথে গোলাম বা আব্দ (বান্দা) শব্দটিকে সম্বন্ধ করে নাম রাখা হারাম। আব্দুল মোত্তালিব (মোত্তালিবের দাস), আব্দুল কালাম (কথার দাস), আব্দুল কাবা (কাবাগৃহের দাস), আব্দুন নবী (নবীর দাস), গোলাম রসূল (রসূলের দাস), গোলাম নবী (নবীর দাস), আব্দুস শামছ (সূর্যের দাস), আব্দুল কামার (চন্দ্রের দাস), আব্দুল আলী (আলীর দাস), আব্দুল হুসাইন (হোসাইনের দাস), আব্দুল আমীর (গর্ভনরের দাস), গোলাম মুহাম্মদ (মুহাম্মদের দাস), গোলাম আবদুল কাদের (আবদুল কাদেরের দাস) গোলাম মহিউদ্দীন (মহিউদ্দীন এর দাস) ইত্যাদি।

০৩।  যে সকল নাম শুনে বুঝা যায় না যে, সে মুসলিম না অমুসলিম, ছেলে না মেয়ে, মানুষ বা পশু, সে সকল নাম পরিহার করা উচিত।

০৪।  যেসব নামের মধ্যে আত্মস্তুতি আছে সেসব নাম রাখা মাকরুহ। যেমন, মুবারক (বরকতময়) যেন সে ব্যক্তি নিজে দাবী করছেন যে তিনি বরকতময়, হতে পারে প্রকৃত অবস্থা সম্পূর্ণ উল্টো। অনুরূপভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহিলা সাহাবীর নাম বার্‌রা (পূন্যবতী) থেকে পরিবর্তন করে তার নাম দেন যয়নব। এবং বলেন: “তোমরা আত্মস্তুতি করো না। আল্লাহই জানেন কে পূন্যবান।সহীহ মুসলিম, হাদিস নং – ২১৪২

০৫।  যে সকল নামের অর্থ মন্দ। মানুষের স্বাভাবিক রুচিবোধ যেসব শব্দকে নাম হিসেবে ঘৃণা করে; ভদ্রতা ও শালীনতার পরিপন্থী কোন শব্দকে নাম বা কুনিয়ত হিসেবে গ্রহণ করা। যেমন, কালব (কুকুর) মুররা (তিক্ত) হারব (যুদ্ধ)। আল-মাওসুআ আল্‌ফিকহিয়া আলকুয়েতিয়া, পৃষ্ঠা-১১/৩৩৪ ও শারহুল আযকার, পৃষ্ঠা- ৬/১১১।

০৬।  দ্বৈতশব্দে নাম রাখাকে শায়খ বকর আবু যায়দ মাকরুহ বলে উল্লেখ করেছেন।[32] যেমন- মোহাম্মদ আহমাদ, মোহাম্মদ সাঈদ। কারণ এতে করে কোনটি ব্যক্তির নিজের নাম ও কোনটি ব্যক্তির পিতার নাম এ বিষয়ে জটিলতা তৈরী হতে পারে এবং দ্বৈতশব্দে নাম রাখা সলফে সালেহীনদের আদর্শ নয়।

আমাদের এ অঞ্চলে মুসলিমদের নামকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নাম থেকে চিহ্ণিত করার নিমিত্তে “শ্রী” শব্দের পরিবর্তে “মুহাম্মদ” লেখার প্রচলন সে প্রেক্ষাপটে শুরু হয়েছিল সে প্রেক্ষাপট এখন অনুপস্থিত। তাই মুসলিম শিশুর নামের পূর্বে অতিরিক্ত মুহাম্মদ শব্দ যুক্ত করার কোন প্রয়োজনীয়তা বর্তমানে নেই।

০৭। অনুরূপভাবে আল্লাহর সাথে আব্দ (দাস) শব্দ বাদে অন্য কোন শব্দকে সম্বন্ধিত করা। যেমন- রহমত উল্ল্যাহ (আল্লাহর রহমত)।

সুতরাং সন্তানের নাম রাখার সময় আমাদের বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা আমাদের সন্তানের নাম রাখার ক্ষেত্রে নবীজীর সুন্নাহ্ অনুসরণের তাওফিক দান করুক। এবং সাথে সাথে ইসলামী আদর্শের উপর গড়ে তোলার তাওফিক দান করুক এবং আমাদেরকে জীবনের প্রতিটি বিষয়ে ইসলামী আদর্শের উপর টিকে থাকার তাওফিক দান করুন।

আরো পড়ুন 

নবজাতকের ইসলামি নাম রাখার বিধিবিধান 

পাঠকের মতামত