নফল নামাজসমূহের গুরুত্ব ও ফজিলতসহ আদায়ের নিয়মকানুন (দ্বিতীয় পর্ব)

 

নফল নামাজসমূহের গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে ধারাবাহিক পর্বে আজ থাকছে তাহাজ্জুদ ও হাজতের নামাজ নিয়ে বিস্তারিত।

তাহাজ্জুদ
সময় ও রাকাত সংখ্যাঃ
তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নির্দেশ সূরা বনী ইসরাঈল ৭৯, সূরা যারিয়াত ১৭-১৮, সূরা ফোরকান ৬৪, সূরা মুযাযাম্মিল ৬, সূরা আল ইমরান ১৭নং আয়াতে উল্লেখ আছে।তাহাজ্জুদ নামাজনফল নামাজসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তাহাজ্জুদের নামাজ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার পূর্বে এ নামাজ ফরজ ছিল। পরবর্তীতে তা নফল হিসেবে গণ্য হয়।

এই নামাজের সময় শেষ রাত্রে, দ্বিপ্রহরের পর (সাহরীর সময় থেকে) অর্ধেক রাত হতে সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত তাহাজ্জুদ নামাজের সময়। তবে রাত্রের তৃতীয়াংশে পড়া উত্তম। তবে দিনের কঠোর পরিশ্রমে যাদের শেষ রাতে ওঠা অনিশ্চিত হয়, তারা ইশার পর ঘুমানোর পূর্বে তাহাজ্জুদের নিয়তে ২/৪ রাক‌আত নামায পড়ে নিতে পারেন। এরপর সম্ভব হলে আবার শেষ রাতে ওঠে তাহাজ্জুদ পড়বেন। আর তখন না ওঠতে পারলে প্রথম রাত্রির সেই নামাযের কারণে তাহাজ্জুদের ফজীলত থেকে একেবারে মাহরূম হবেন না আশাকরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাহাজ্জুদ নামাজ কখনো ৪ রাকাত, কখনো ৮ রাকাত এবং কখনো ১২ রাকাত পড়েছিলেন। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এশার পর দুই বা ততোধিক রাকাত নামাজ পড়ে নেয়, সে হবে তাহাজ্জুদের ফজিলতের অধিকারী।’

ফজীলতঃ
হযরত আবু হুরায়রা (রাজি.) থেকে বর্ণিত আছে নবী করীম (সা.) বলেছেন, ফরজ নামাজের পর শ্রেষ্ঠ নামাজ হলো রাতের নামাজ অর্থাৎ তাহাজ্জুদের নামাজ। ***তিরমিযী শরীফ, ১ম খ-, ৯৯ পৃষ্ঠা ও নাসায়ী শরীফ, ২য় খ-, ৪০৬ পৃষ্ঠা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার প্রভু প্রত্যেক রাতের শেষাংশে নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, যে কেউ আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তা কবুল করব, যে কেউ কিছু প্রার্থনা করবে, আমি তা প্রদান করব, যে কেউ আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করব।’ ***বুখারি ও মুসলিম।

হযরত আয়েশা (রাজি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন তোমরা তাহাজ্জুদের নামাজ পরিত্যাগ করো না। কেননা রাসূল (সা.) তাহাজ্জুদের নামাজ কোনো সময় পরিত্যাগ করতেন না। যখন তিনি অসুস্থ হতেন অথবা ক্লান্তি বোধ করতেন তখন তিনি তা বসে বসে আদায় করতেন। ***আবু দাউদ শরীফ, ১ম খ-, ১৮৫ পৃষ্ঠা ও ইবনে মাজাহ, ১৯৪ পৃষ্ঠা।

হযরত আবু হুরায়রা (রাজি.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ ঐ ব্যক্তির ওপর রহমত নাজিল করেন যে রাত জেগে নামাজ আদায় করেন, অতঃপর সে স্বীয় স্ত্রীকে ঘুম হতে জাগ্রত করে। আর যদি সে ঘুম হতে উঠতে না চায়, তখন সে তার চোখে পানি ছিটিয়ে দেয়, নিদ্রা ভঙ্গের জন্য। আল্লাহ ওই মহিলার ওপর রহমত নাজিল করেন যে রাতে উঠে নামাজ আদায় করে এবং স্বীয় স্বামীকে জাগ্রত করে। যদি সে ঘুম হতে উঠতে না চায়, অস্বীকার করে, তখন সে তার চোখে পানি ছিটিয়ে দেয়। ***সুনানে আবু দাউদ শরীফ, ২য় খ-, ২৩৬ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ১৩০৮ ইঃ, ফাঃ, বাঃ ও মিসকাত শরীফ, ১ম খ-, ১০৯ পৃষ্ঠা।

নবী করীম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিতভাব তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে তার মৃত্যুর পর আল্লাহ তা’আলা তার কবরকে ৭০ গজ প্রশস্ত করে দেবেন। (দারামী)

হযরত সালমান ফারসী (রাজিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেছেন, তোমরা কিয়ামুল লাইল রাত জেগে নফল নামাজ পড়, কারণ তা হলো তোমাদের পূর্ববর্তী পুণ্যবানদের আমল এবং তোমাদের প্রভুর নৈকট্য লাভের পন্থা, গোনাহ মাফের উসিলা এবং শারীরিক ব্যাধি দূরীভূত হওয়ার উপায়। ***তিরমিযী শরীফ, মুসলিম শরীফ।

হাজতের নামায
বিশেষ কোন হালাল চাহিদা পুরনের জন্য আল্লাহ’র উদদেশ্যে দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করাকে “সালাতুল হাজত” বলা হয়
“সংগত কোন প্রয়োজন পুরনের জন্য বান্দা নিজ প্রভুর নিকটে ছবর ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রাথনা করবে”। ***সুরা বাকারাহঃ আয়াত-১৫৩।
হুযায়ফা(রাঃ) বলেনঃ রাসুল(সাঃ) যখন কোন সংকটে পড়তেন, তখন সালাতে রত হতেন। *** আবু দাউদঃ ১৩১৯; সালাত অধ্যায়-২, অনুচছেদ-৩১২; ছহিহুল জামেঃ হা/৪৭০৩; মিশকাতঃ ১৩১৫।
এ জন্য শেষ বেঠকে তাশাহুদের পর সালাম ফিরানোর পুবে প্রয়োজনের বিষয়টির কথা নিয়তের মধ্যে এনে নিচের দু’আটি পড়তে হবে :اللهم ربنا اتنا في الدنيا حسنة و في الاخرة حسنة و قنا عذاب النار “আল্লাহুম্মা রাববানা আতিনা ফিদদুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতে হাসানাতাও ওয়া কিনা আযা-বান্নার” ‘হে আললাহ! হে আমাদের পালনকতা! আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতে মংগল দিন ও আখিরাতে মংগল দিন এবং আমাদেরকে জাহাননামের আগুন থেকে হেফাজত করুন’। আনাস(রাঃ) বলেনঃ রাসুল(সাঃ) অধিকাংশ সময় এ দু’আটিই পড়তেন। ***বুখারি: হা/৪৫২২, ৬৩৮৯; বাকারাহ: ২/২০১; মিশকাত: হা/২৪৮৭, ৮১৩।

দু’আটি সিজদায় পড়লে বলবেঃ اللهم اتنا في الدنيا حسنة و في الاخرة حسنة و قنا عذاب النار “আল্লাহুম্মা আতিনা ফিদদুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতে হাসানাতাও ওয়া কিনা আযা-বান্নার”।
কারণ রুকু ও সিজদায় কুরআনি আয়াত/দু’আ পড়া যায় না।
*** মুসলিম, মিশকাতঃ হা/৮৭৩; সালাত অধ্যায়-৪, ‘রুকু’ অনুচছেদ-১৩; নায়লঃ ৩/১০৯।

(চলমান……)

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত