প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আজকের উন্নয়নশীল বাংলাদেশ

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, বাংলাদেশের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু পরবর্তী সবচেয়ে সফল রাষ্ট্রনায়ক জননেত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনার ৭২তম জন্মদিন আজ।

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান। দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদি সাহেরা খাতুনের অতি আদরের নাতনি শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে মধুমতি নদীর তীরবর্তী গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায়। শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা  শেখ রাসেলসহ তাঁরা মোট পাঁচ ভাই-বোন। তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে শেখ হাসিনা ও রেহানা ছাড়া পিতা বঙ্গবন্ধু এবং মাতা ফজিলাতুন্নেছাসহ ঘাতকদের হাতে নিহত হন অন্য সবাই।

১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে ১৯৯৬ সালে প্রথম, ২০০৮ সালে দ্বিতীয় এবং ২০১৪ সালে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে জয়লাভ করে দলকে দেশের নেতৃত্বের আসনে বসতে সক্ষম হন। আর তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ আজ  বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রবক্তা স্বপ্নদর্শী এই নেত্রীর হাত ধরেই এসেছে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্যে স্বনির্ভরতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, আইসিটি এবং এসএমই খাতে অভাবনীয় সাফল্য। তাঁর সিদ্ধহস্ত নেতৃত্বেই সম্ভব হয়েছে দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিসহ জাতীয় জীবনের বহুক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন।

বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের নির্মাতা তিনি। সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার, বিশ্বরাজনীতিতে উজ্জ্বলতম এক প্রভা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিছিয়ে পড়া দেশ-জাতি জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে বিশ্বনন্দিত নেতা। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে। এক সময়ের দারিদ্র্য-দুর্ভিক্ষে জর্জরিত বাংলাদেশ আজ তাঁর নেতৃত্বের কল্যাণেই বিশ্বের কাছে আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তাঁর সরকারের আমলেই ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি। সম্পাদিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি। বাংলাদেশ অর্জন করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা। প্রবৃদ্ধি ৬.৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। মুদ্রাস্ফীতি নেমে আসে ১.৫৯ শতাংশে। দারিদ্র্য হ্রাস পায়। খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ক্রীড়াসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে তাঁর অবদান বলে শেষ করা সম্ভব নয়। তাঁর হাত ধরেই এদেশের উন্নয়নের পথ সুগম হয়েছে, তাঁরই নেতৃত্বে সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। তিনিই দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তিসহ সব সূচকে তিনি অভাবনীয় অগ্রগতি, সাফল্য আর উন্নয়নের ধারা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।

নিজের সুদক্ষ নেতৃত্বে শুধু দেশের উন্নয়ন নয়, বিশ্বের কাছেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহুল সমাদৃত, প্রশংসিত ও সম্মানিত হয়েছেন বিভিন্ন সম্মানসূচক ডিগ্রি, পদক ও স্বীকৃতি দিয়ে। সম্প্রতি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে আশ্রয়হীন আট লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার ঘটনায় আজ সারা বিশ্বেই তাঁর নাম আলোচিত হচ্ছে ‘বিশ্ব মানবতার বিবেক’ হিসেবে। জাতিসংঘের গত অধিবেশনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাঁর এই মানবিক দৃষ্টান্তের প্রশংসা করেছেন।

এছাড়াও রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক এবং দায়িত্বশীল নীতির কারণে অনন্য নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বৈশ্বিক সংবাদ সংস্থা ইন্টার প্রেস সার্ভিস (আইপিএস) প্রধানমন্ত্রীকে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড এবং নিউইয়র্ক, জুরিখ ও হংকং-ভিত্তিক একটি অলাভজনক ফাউন্ডেশনের নেটওয়ার্ক গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন ‘২০১৮ স্পেশাল ডিস্টিংশন অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট’ সম্মাননা প্রদান করে।

তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আরো অর্জন করেছেন – ওয়াসেদা ইউনিভার্সিটি অব জাপানের সম্মানসূচক ডক্টরেট অব ল ডিগ্রি, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব আলবারটে ডান্ডি’র সম্মানসূচক ডক্টরেট অব ফিলোসফি ইন লিবারেল আর্ট, পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান সূচক দেশীকোত্তমা, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডক্টরেট অব লস, মার্কিন যুক্তরাষ্টের ব্রিজপোর্ট ইউনিভার্সিটির, ডক্টর অব হিউম্যান লেটারস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডিগ্রি ডক্টরেট অব ল’স প্রদান, পল হারিস ফেলোশিপ দ্য রোটারি ইন্টারন্যাশনাল, ইউনেস্কোর হাউফুয়ট-বোনি শান্তি পুরস্কার-১৯৯৮, এম কে গান্ধী পুরস্কার-১৯৯৮, মাদার তেরেসা পুরস্কার-১৯৯৮ এবং ২০০৬, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের র‌্যান্ডলফ ম্যাকন মহিলা কলেজের পার্ল এস বাক পুরস্কার-১৯৯৯, সিইআরইএস পদক- ১৯৯৯, এমডিজি অর্জনের জন্য জাতিসংঘ পুরস্কার (শিশু মৃত্যু)-২০১০, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার-২০০৯, দক্ষিণ-দক্ষিণ পুরস্কার-২০১১, এমডিজি অর্জনের জন্য জাতিসংঘ পদক-২০১৩, রোটারি শান্তি পুরস্কার-২০১৩, শান্তি বৃক্ষ-২০১৪, আইসিটি স্থায়ী উন্নয়ন পুরস্কার-২০১৪, পৃথিবীর চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ-২০১৫, এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড-২০১৬, এবং প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন পদক-২০১৬।

#আমিনুল ইসলাম, বিডি৩৬০ নিউজ।

পাঠকের মতামত