এমন কি উপাদান আছে ”সুপার ফুড” নামে খ্যাতো গাজরে?

সবজি জগতের খুবই উপকারি একটি সবজি হল গাজর। গাজর শুধু সবজি হিসেবেই প্রসিদ্ধ নয়। গাজর রান্না ছাড়াও খাওয়া যায়। তাছাড়া গাজর দিয়ে বানানো যায় সিঙ্গারা, সালাদ সহ আরো অনেক কিছু। তবে গাজর রান্না করে খেলে এর অনেকগুলো পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই কাঁচা গাজর খাওয়া শরীরের জন্য অধিক উপকারি।

তবে গাজরের কিছু ভেষজ গুণও আছে। গাঁজরের ব্যাপারে ডাক্তাররা বলেন –  কোন ঘরে গাজর ঢুকালে সে ঘরে ঔষধ ঢোকানোর প্রয়োজন পড়েনা। বিখ্যাত হার্ভাট ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিবেদনে বলা বলা হয় – একটি মানুষ দিনে ছয়টার বেশী গাঁজর খেলে তার স্ট্রোক এবং অকালে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়।

গাঁজরের এমন কি উপাদান আছে?

গাঁজরের রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। প্রতি ১০০ গ্রাম গাজরে সবথেকে বেশী থাকে  শর্করা (৯.৬ গ্রাম), চিনি (৪.৭ গ্রাম), ফাইবার  (২.৮ গ্রাম)। এরপর থাকে পটাশিয়াম (৩২০ মি.গ্রা), সোডিয়াম (৬৯মি.গ্রাম), ফসফরাস (৩৫ মি.গ্রাম), ম্যাগনেসিয়াম (১২ মি.গ্রাম) এবং কয়েক প্রকারের ভিটামিন সহ আরো অনেক ধরনের খনিজ এবং ধাতু।

আপনি  জানেন কি?

প্রতিদিন একটি গাজর আপনাকে কতখানি ফিট রাখবে।যাদের অল্পতে বুক ধড়ফড় করে, স্ট্রোক করার ভয় থাকে তারা প্রতিদিন একটি করে গাজর খাবেন। বুক ধড়ফড়ানি কমে যাবে। গাজরে আলফা ক্যারোটিন, বিটা ক্যারোটিন ও লুটেন থাকার কারনে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়।

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য গাজর একটি উৎকৃষ্ট খাবার। গাজরে রয়েছে প্রচুর ক্যারোটিনয়েড, যা ইনসুলিন প্রতিরোধ করে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রিত থাকে।

আমাদের মাঝে অনেক মটুরাম বন্ধু আছে, যাদেরকে নিয়ে আমরা প্রায়ই মজা করি। সেই শোকে বেচারা ওজন কমানোর জন্য কত কি যে করে। সেইসব মটুরাম বন্ধুদের ওজন কমাতে গাজর খুবই কাজের একটি সবজি।

>> ক্যান্সারের খরচের ব্যয়বহুলতা অর্থনীতিতে কেমন প্রভাব পড়ছে?

হাই ব্লাড প্রেসারের রোগীরা প্রতিদিন কমপক্ষে একটি করে গাজর খাওয়া উচিত। গাজর হল পটাসিয়ামের ভান্ডার, যা রক্ত সঞ্চালন প্রক্তিয়া স্বাভাবিক রাখে। ফলে রক্ত জমাট বাঁধে না সহজে। আর উচ্চ রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণ করে।

নারীদের ত্বক নিয়ে যত ভাবনা। এর একটি সমাধান হল গাজর। গাজরে বিটা ক্যারোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে ত্বককে সুস্থ রাখে। বলিরেখা প্রতিরোধ করে এবং ত্বককে নরম রাখে।

বর্তমান সময়ে নারীদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে গেছে, গাজরে অবস্থিত ফ্যালক্যারিনল নামে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া গাজর কোলন ক্যানসার ও ফুসফুসের ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

“দাঁত থাকতে দাঁতের মায়া বুঝুন” কথাটি আমরা সবাই জানি। আর দাঁতের সুস্থ্যতায় গাজর খুব ভালো একটি সবজি। গাজর দাঁত ও মুখ গহ্বর পরিষ্কার রাখে। গাজর মুখের প্ল্যাক ও খাবারের উপাদান মুখ থেকে দূর করে টুথ পেস্ট ও টুথ ব্রাশের মতই। এছাড়াও গাজরের মিনারেলগুলো দাঁত মজবুত থাকতে সাহায্য করে।

গাজরের এমন আরো অনেক গুণ আছে। তাই গাজরকে বলা হয় সুপার ফুড। যারা প্রতিদিন ফার্মেসী থেকে কিনে আনা ভিটামিনের ট্যাবলেট খাচ্ছেন তাদেরকে একটাই কথা বলবো, প্রতিদিন একটি কমলা রঙের গাজর খান আর ভিটামিন ট্যাবলেটের কথা ভুলে যান। কারন গাজর একটি শক্তিশালী খাবার।

>>পেঁপে কেন পুষ্টি উপাদানের রাজভান্ডার?

>> আদৌ কি উঠে চোখের নিচের কালো দাগ?

>> পাঁকা নাকি সম্পূর্ণ পাঁকা কোন ধরনের কলা খাওয়া উচিত?

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত