মোবাইল ফোন আমাদের শরীরের জন্য কতটা অবনতি বয়ে আনছে?

বর্তমান সময়ে সবথেকে সহজলভ্য এবং প্রয়জোনীয় প্রযুক্তি হল মুঠোফোন বা মোবাইল। দূরের মানুষটিকে হঠাৎ খুব মনে পড়ছে, কোন সমস্যা নেই এখনতো আর কবুতরের যুগ না। হাতের কাছে থাকা ৫ কি ৬ ইঞ্চি এই প্রযুক্তিটা দিয়ে একটি ক্ষুদে চিঠি লিখে তার কাছে পাঠিয়ে দিলেন বা কল বাটনে চাপ দিয়ে একটু কথা বলে নিলেন। এমনই আরো শত কাজে উপকারী প্রযুক্তি হচ্ছে মোবাইল ফোন।

কিন্তু আমরা কি শুধু এর উপকারিতাই ভোগ করছি? নাকি শত উপকারিতার সাথে হাজারো সমস্যা ভোগ করছি। মোবাইলের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এবং এর উপর আশক্তি আমাদের জীবনকে বিভিন্ন ভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক মোবাইল আপনাকে কতটুকু ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে?

গর্ভের বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর: যুক্তরাস্ট্রের এক দল মোবাইলের রেডিয়েশন নিয়ে গবেষণা করে দেখেন, মোবাইলের রেডিয়েশন গর্ভের সন্তানের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গর্ভবতী নারী মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে এর ক্ষতিকর রেডিয়েশন গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্কে খুব ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। মোবাইলের ক্ষতিকর রেডিয়েশনের প্রভাবে গর্ভস্থ্য শিশুর মস্থিষ্ক গঠনে ব্যাঘাত ঘটায়। শিশু বুদ্ধি প্রতিবন্ধি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া  শিশুর অস্থিরমতি হওয়ারও ঝুঁকি থাকে।

>>  স্বাস্থ্য ও ত্বকের পরিবর্তনে ডাবের পানির কার্যকারীতা

মস্তিষ্কের মারাত্নক ক্ষতি: মোবাইল ফোন থেকে হাই ফ্রিকুয়েন্সির ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন নির্গত হয়। এই ক্ষতিকর ওয়েব বা তরঙ্গটি খুব সহজেই আপনার ব্রেইন ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। এছাড়া ফোনের আলো নানাভাবে শরীরে মেলাটনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। ফলে অনিদ্রা দেখা দেয়, যার ফলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে কর্ম ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আর মস্তিষ্ক ঠিক মত কাজ না করলে স্মৃতিশক্তি কমে যাবে এবং বুদ্ধিহীনতায় ভুগতে হবে।

শরীরের গিঁটের ক্ষতি করে: বিভিন্ন ডাক্তারদের তথ্য অনুযায়ী মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত মেসেজ বা চ্যাটিং করার ফলে আঙুলের গিঁটে ব্যাথা করে। এই ব্যাথা পরবর্তিতে আথ্রাইটিসের দিকে মোড় নিতে পারে।

প্রজনন ক্ষমতা হারানো: মোবাইল রশ্মি বিকিরণের এটি অন্যতম ক্ষতিকর দিক। পুরুষরা সাধারণত মোবাইল ফোন পকেটে রাখে। এর ফলে মোবাইল ফোনের রেডিয়েশনের কারণে খুব সহজেই পুরুষের স্পার্ম কাউন্ট কমে যায়। ফলে সন্তানের জন্ম দিতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়।

চোখের সমস্যা: মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যাবহারের ফলে চোখে সমস্যা হওয়া বাধ্য। বেশীক্ষণ মোবাইলের স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে থাকলে মোবাইলের নীল আলো ধীরে ধীরে আইরিশের জেল শুকিয়ে ফেলে, যার ফলে রেটিনাতে চাপ পড়ে। আপনি অচীরেই চোখের আলো হারাতে পারেন।

দুর্ঘটনার কারণ: মাঝে মাঝে আমরা মোবাইলে স্ক্রিনের দিকে এতোই মনযোগী হয়ে যাই যে আমাদের আশেপাশে কি ঘটছে আমরা টেরি পাইনা। আর এমনটা ডেকে আনতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। তাই রাস্তা পার হওয়ার সময় বা ব্যস্ত স্থানে মোবাইল ব্যবহার করবেন না।

মোবাইল আমাদের যতটা না উপকার করে আমাদের ব্যবহারের আশক্তির ধরুণ ইহা আমাদের সবথেকে ক্ষতিকর একটা প্রযুক্তি হয়ে উঠেছে। তাই মোবাইল ব্যবহারে আমাদের যথেষ্ট সংযমী হওয়া উচিৎ।

ইন্টারনেট থেকে স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছেন: নাজমা খাতুন, নওগাঁ সরকারি কলেজ।

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাবে পেয়ারা

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত