রহস্যময় সুন্দরের অধিকারী লাসা : এক নিষিদ্ধ নগরীর কথা

বিশ্বে এখনো এমন অনেক স্থান রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে মানুষের খুব কমই জ্ঞানের পরিধি একদমই কম। এমনকি সে জায়গাগুলোতে  সাধারণত মানুষের পদচারণাও প্রায় অসম্ভব, তবু অজানা এক কৌতুহল ঘিরে রাখে। ঠিক সেরকমই এক রহস্যময় সুন্দর নগরী হলো তিব্বতের রাজধানী লাসা।

যদিও আমরা কেউ কেউ তিব্বতকেই  ‘নিষিদ্ধ নগরী’ হিসেব জানি। তবে নিষিদ্ধ নগরী মূলত তিব্বতের রাজধানী লাসা। এই নগরী যেমন নিষিদ্ধ নামে পরিচিত তেমন রহস্যময়ও বটে!

কিন্তু কেন নিষিদ্ধ এই নগরী?

এমন নিষিদ্ধ বা রহস্যময় হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার আসল কারণ হিসেবে, দীর্ঘদিন এই অঞ্চলে মানুষের প্রবেশাধিকার না থাকা, দুর্গম পরিবেশ, লামাদের কঠোরতা ও পর্যটক নিষিদ্ধের কারণকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। এ ছাড়া এটি বাইরের পৃথিবীর কাছ থেকে অউরোপুরি বিচ্ছিন্ন এক অচেনা জগত।

কী আছে ওখানে? ওই অঞ্চলে কেন প্রবেশ নিষিদ্ধ?

রহস্য ঘেরা এই অঞ্চল তিব্বতের অবস্থান হিমালয়ের উত্তরে। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে ত্রয়োদশ দালাইলামা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত গণচীনের একটি স্বশাসিত অঞ্চল হলো তিব্বত। এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যতটা চোখ ধাঁধানো বলে জানা যায়,  সেখানে পৌঁছানোও ঠিক ততোটাই দুর্গম। কারণ লাসা থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে গোবি মরুভূমি। দুর্গম এই মরুভূমি পেরিয়ে লাসায় পৌঁছানোর কথা চিন্তা করাটাও একেবারেই অসম্ভব। তাছাড়া পাহাড় পরিবেষ্টিত হওয়ার কারণে এই অঞ্চল হয়ে গেছে আরো দুর্গম।

তিব্বতের বেশিরভাগ ভূ-ভাগের উচ্চতাই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬ হাজার ফুটেরও ওপরে। এই উচ্চতার স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া একেবারেই অসম্ভব। তাছাড়া এই অঞ্চলের স্থল ভাগ বছরের প্রায় ৮ মাস তুষারে ঢাকা থাকে। এমন আবহাওয়ায় বেঁচে থাকাটাও কঠিন। এ সব কারণেই মূলত বাইরের পৃথিবীর মানুষ এই অঞ্চলে পা রাখতে অক্ষম। আর বাইরের পৃথিবীর সাথে এর যোগাযোগ ব্যবস্থাও তেমন নেই। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলটি যেমন দুর্গম তেমনই কৌতুহল জাগায় মানুষের কাছে। বুঝতেই পারছেন নিষিদ্ধ হিসেবে কেন পরিচিতি পেলো এটি।

লাসা সম্পর্কে আরো কিচ্ছু তথ্য :

জানা যায়, তিব্বতের রাজধানী লাসা নগরী প্রতিষ্ঠা করেন সম্রাট সগেন পো। ৬৪১ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট একটি বিরাট জলাশয় ভরাট করে প্রাসাদ এবং মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

আরো জানা যায়, তিব্বতের বিভিন্ন মন্দিরের ভেতরে সোনার তৈরি বড় বড় প্রদীপ মাখন দিয়ে জ্বালানো থাকে। তিব্বতের চতুর্দিকে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাহাড়ি গুহাগুলোতে বাস করে বৌদ্ধ পুরোহিত,  লামারা। তাদের প্রধান ধর্মগুরুর নাম দালাইলামা। ধর্মগুরু বা দালাইলামা আবার বাস করেন সোনার চূড়া দেওয়া পোতালা প্রাসাদে।

এদের সম্পর্কে এমন এক পৌরাণিক কাহিনী শোনা যায় যে, কোনো তিব্বতি মারা গেলে ওই মৃতদেহ কাউকে ছুঁতে দেওয়া হয় না। ঘরের এক কোণে মৃতদেহটি বসিয়ে চাদর অথবা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। কয়েক দিন  ধরে এই নিয়ে চলে বিভিন্ন আচার-আনুষ্ঠানিকতা, এর পর মন্ত্র পড়তে পড়তে মৃতদেহকে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলে পশুপাখি দিয়ে খাওয়ানো হয়।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত