হঠাৎ টাইগারদের কেন এই ব্যাটিং বিপর্যয়? অতিরিক্ত গরম নাকি ব্যর্থতা

এবারের এশিয়া কাপের প্রতিটি ম্যাচেই প্রথম থেকেই ব্যাটিং হোঁচট খেয়েছে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সাথে জয় পেলেও ওই ম্যাচে দলীয় স্কোর খুব বেশি ছিল না। গতকালের ম্যাচে আফগানিস্তান বিপক্ষে থেকে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা ব্যাটে-বলে ঠিক পেরে উঠতে পারে নাই। এর ফলে আফগানদের কাছে বাংলাদেশ ১৩৬ রানের বড় ব্যবধানে হারে!

আজও ভারতের বিপক্ষে খেলতে নেমে একই অবস্থা। ৪৯ ওভার ১ বলে মাত্র ১৭৩ রানেই অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা। পঞ্চাশ ওভার খেলার মত যোগ্যতা বোধ হয় বাংলাদেশ টাইগারদের চলে গেছে!

কিন্তু কেন হঠাৎ এমন গোলমেলে বাংলাদেশ? কেন এই বিপর্যয়?

আরব আমিরাত খেলতে যাওয়ার আগে টাইগার ক্যাপ্টেন দুবাইয়ের গরমের কথা বলেছিলেন। অতিরিক্ত গরম হয়তো খেলোয়াড়দের খেলায় মনযোগী হতে বাধা দিচ্ছে!

আজ ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ বিশ্রাম করতে পেরেছে মাত্র ১৩ ঘন্টা বা তার থেকে একটু বেশী। বিশ্রাম কম বলেই কি এই অবস্থা?

ওপেনিং এ যে তামিমকে ছাড়া চলে না, সেটি আবারো প্রমাণ হয়ে গেলো গত ম্যাচ গুলোতে।

বাংলাদেশের এই বিপর্যয়ের বড় কারণ হল- টপ অর্ডার, মিডল অর্ডার এবং লোয়ার অর্ডার কেউই এই সিরিজে তেমন কিছু করতে পারে নাই। তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব নিজ মেধা, মনন ও অধ্যবসায় দিয়েই ভালো খেলে আসছিলেন।

দুর্ভাগ্য বশত তামিম ইকবাল ইনজুরির কারণে গত ২ ম্যাচ স্কোয়াডের বাহিরে আছেন। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাট করতে গিয়ে লাকমলের ওভারে বাম হাতের বুড়ো আঙ্গুলে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়া হলেন।

মুশফিক প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৪৪ রানের ভাল ইনিংস খেললেও আজকের ম্যাচে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন নাই।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের তিন ম্যাচে যথাক্রমে ১, ২৭ এবং ২৫ রান। যদি সাকিবের রান যথাক্রমে ০, ৩২ এবং ১৭ রান। মেহেদি মিরাজ বোলিং এ ভালো প্রশংসিত হলেও ব্যাটিং এ নিজেকে এখনো প্রমাণ করতে পারেননি।

মোটের উপর কেউই মিডল ও লোয়ার অর্ডারের কেউই ভাল করতে পারে নাই। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এটা প্রথম থেকেই চলে আসছে যে, এখনও কোন নির্ভরযোগ্য লোয়ার ও মিডেল অর্ডারে নির্ভরযোগ্য কোন ব্যাটসম্যান নেই। একটা সময় ভাল পারমেন্স করা হার্ডহিটার পরিচয় খ্যাত ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান এখন আর ফর্মে নেই। অবশ্য তিনি এই সিরিজে দলে নেই। নিষেধাজ্ঞার কারণে এশিয়া কাপের স্কোয়াডে তাকে রাখা হয়নি। তবে থাকলেও যে আহামরি কিছু করতেন সেই প্রশ্ন কিন্তু রয়েই যায়। এর আগে অবশ্য নাসির হোসেন ছিলেন লোয়ার মিডল অর্ডারের ভরসা।

অথচ একই জায়গায় শ্রীলংকার থিসারা পেরেরার স্ট্রাইক রেট ১১৩। ভারতের হার্দিক পান্ডিয়ার স্ট্রাইক রেট ১১৭। থিসারা এবং হার্দিকের স্ট্রাইক রেটই বলে দেয় কেন শ্রীলংকা এবং ভারত স্লগ ওভারে বেশি রান তুলতে সফল।

আর এই পজিশনে একজন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের গড় স্ট্রাইক রেট ৭০-৯০ এর মধ্যেই। আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের লোয়ার ও মিডেল অর্ডার ব্যাটসমানরা সব মিলিয়ে ১০০ রান করতে কষ্ট হয়ে যায়।

পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের এই পর্যন্ত যত অনেক সাফল্যই এসেছে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের কারণে। সুতরাং বিশ্ব ক্রিকেটে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকেও নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

অথচ এক সময় ছিল যখন বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা মাথা তুলে দাঁড়াতেন। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার দুর্ধর্ষ বোলিং শক্তির বিরুদ্ধে শেষ ফলোঅন এড়ানোসহ অনেক বড় বড় জুটিও আছে। কিন্তু এখন অবস্থা খুব খারাপ। একদম বালির বাঁধের মত ভেঙে পড়ছে। এমন হলে বাংলাদেশ ক্রিকেটে আর কতটুকু এগিয়ে যাওয়াটা কষ্টের হয়ে দাঁড়াবে।

প্রিয় পাঠক আপনিও চাইলে খেলাধুলা, ফিচার, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, ইত্যাদি বিষয়ে বিডি৩৬০নিউজ এ লিখতে পারেন। লেখা পাঠান এই ইমেইল ঠিকানায় bd360news@gmail.com

অথবা চাইলে যুক্ত হতে পারেন বিডি৩৬০নিউজ এর এখন সম্মানিত প্রতিনিধি হিসাবে। এই সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন এই লিঙ্কে  সারাদেশের সব জেলা, উপজেলা ও ক্যাম্পাস পর্যায়ে প্রতিনিধি নিচ্ছে বিডি৩৬০নিউজ

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত