উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাবে পেয়ারা

বিশেষজ্ঞদের মতে ৪টি কমলালেবুর সমান পুষ্টিগুণ একটি পেয়ারায় রয়েছে। বিশেষ করে পেয়ারায় ভিটামিন সি রয়েছে। তাই আমাদের উচিত সম্ভব হলে প্রতিদিন ১টি করে  পেয়ারা খাওয়া। আর যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে অন্তত সপ্তাহে একটি করে হলেও খাওয়া উচিত।

পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সুস্বাদু ফল যার নাম পেয়ারা। গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা এই দুই ঋতুতেই পাওয়া যায় ফলটি। ভিটামিন ’সি’ সমৃদ্ধ এ ফলটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘কে’, ভিটামিন-বি, খনিজ পদার্থ, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি।

প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারায় রয়েছে ০.২১ মি.গ্রাম ভিটামিন বি-১, ০.০৯ মি.গ্রাম বি-২, ১.৪ গ্রাম প্রোটিন ও ১.১ গ্রাম স্নেহ, ১৫.২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ০.৬ গ্রাম মিনারেল, ০.০৩  মি.গ্রাম থায়ামিন, ০.০৩ রিবোফ্লেভিন ১.৪ মি.গ্রাম আয়রন, ২৮ মি.গ্রাম ফসফরাস ও ২০ মি.গ্রাম ক্যালসিয়াম।

পেয়ারার এতো এতো স্বাস্থ্য উপকারিতা জানলে আপনি বেচে থাকতে পেয়ারা খাওয়া আর মিস করবেন না। চলুন জেনে নেওয়া যাক পেয়ারার সকল স্বাস্থ্যগুণ-

ডায়াবেটিস ঝুঁকি কমায়: পেয়ারাতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার ও কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স। এরফলে পেয়ারা খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। আর শর্করার নিয়ন্ত্রণ মানেই হল ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমানো।

কর্মশক্তি বাড়ায়: পেয়ারায় থাকা ম্যাগনেসিয়াম আমাদের মাংসপেশী ও স্নায়ু সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে পেয়ারা আমাদের কর্মশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

ওজন কমাতে: পেয়ারাতে শর্করার পরিমাণ কম থাকে। এই কারণে এটি ওজন কমাতে ভুমিকা পালন করে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়: পেয়ারাতে বিদ্যমান আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ। যা দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। এছাড়াও চোখের ছানি হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: পেয়ারাতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়:  পেয়ারাতে থাকা লাইকোপেন, কোয়ারকেটিন, ভিটামিন সি ও পলিফেনল মানবদেহে এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। আর এই এন্টি-অক্সিডেন্টই ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। বিশেষ করে পেয়ারা প্রোস্টেট ও  ব্রেস্ট ক্যান্সার কমাতে খুব সাহায্য করে।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পেয়ারা বেশ কার্যকর ভুমিকা পালন করে। পেয়ারা শরীরের সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বাড়ায়। যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকে।

হার্ট এটাক ঝুঁকি কমায়: পেয়ারায় কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কেননা পেয়ারাতে রয়েছে ট্রাইগ্লিসারাইড ও এলডিএল। যার ফলে হার্টের বিভিন্ন সমস্যা অনেক কমে যায়। পেয়ারায় থাকা এইচডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় যা হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

রক্ত সঞ্চালন: নিয়মিত পেয়ারা খেলে  রক্তসঞ্চালন ভাল থাকে। কেননা পেয়ারায় রয়েছে ভিটামিন বি৩ ও ভিটামিন বি৬ যা  স্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই হার্টের রোগীরা এটি নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর: পেয়ারা একটি ফাইবার জাতীয় ফল। এটি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

নার্ভ সিস্টেমকে উন্নত করে: পেয়ারায় রয়েছে ফলিক এসিড। এজন্য গর্ভবতী মায়েদের নিমমিত পেয়ারা খাওয়া উচিত। কারণ ফলিক এসিড গর্ভের বাচ্চার নার্ভ সিস্টেমকে উন্নত করে। সেই সঙ্গে বাচ্চাদের নিউরোলোজিক ডিজঅর্ডার থেকে দূরে রাখে।

কফ দূর করে: পেয়ারার ভিটামিন সি ও আয়রন কফ দূর করতে বড় ভূমিকা পালন করে।

রোগ সংক্রমণ দূর: পেয়ারার পাতায় আছে এন্টি-ইনফ্লামেটরি গুণ এবং খুব শক্তিশালি এন্টিব্যাক্টেরিয়াল ক্ষমতা; যা ইনফেকশনের সঙ্গে যুদ্ধ করে এবং জীবাণু ধ্বংস করে।

দাঁতের ব্যথা দূর:  পেয়ারার পাতা দাঁত ব্যথার জন্য খুব ভালো একটি ওষুধ, যা ঘরে বসেই দূর করতে পারবেন।

তাই আমাদের উচিত সম্ভব হলে প্রতিদিন ১টি করে পেয়ারা খাওয়া। আর যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে অন্তত সপ্তাহে একটি করে হলেও খাওয়া উচিত।

ইন্টারনেট থেকে স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ড স্কাই থেকে লিখাটি অনুবাদ করেছেন: নাজমা খাতুন, নওগাঁ সরকারি কলেজ।

আরও পড়ুন

>> পেঁপে কেন পুষ্টি উপাদানের রাজভান্ডার?

>> আমরা কিভাবে চোখের ক্ষতি করছি?

>> হেডফোন ব্যবহারে সাবধানী হন

>> ডেঙ্গু রোগীর রক্তে প্লেটলেট বাড়াবে যেসব খাবার

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত