সুস্থ থাকুন, হেডফোন ব্যবহারে সাবধানী হন

হেডফোন আমাদের প্রতিদিনের রুটিন মাফিক জীবনের অবিচেছদ্য অংশ হয়ে উঠেছে,  সেই সাথে সাথে ইয়ারফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে দুর্ঘটনার মাত্রা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।  গান শোনা, ভিডিও দেখা কিংবা চ্যাটিং এর জন্য আজকাল আমরা হেডফোনের ওপরই ভরসা করি। জোরে গান চালিয়ে শোনার ফলে আশপাশের আওয়াজ শুনতে না পাওয়ায় এই দুর্ঘটনার দিন দিন এই প্রকপ আরও বাড়ছে।  ‌

একটু সাবধানতা মেনে চললে, জীবন আর কান  — দুটোই বাঁচানো সম্ভব ,  কিন্তু উপায় কী!  এমন কিছু কৌশল যা আপনার জীবন আর শ্রবনশক্তি— দুটোই বাঁচাতে পারবে।

১. যথটা সম্ভব পারুন ইয়ারফোনের কম ব্যবহার করুন। যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে কাজ করতে হয়, তা হলে সেক্ষেত্রে ৫ মিনিট করে ব্রেক নেওয়া দরকার। ইয়ারফোনে কখনওই সর্বোচ্চ ভলিয়্যুমে গান বা কোনও কিছু শুনবেন না। এতে কানের পর্দার খুব ক্ষতি হয়।

২. ভাল কোয়ালিটির ইয়ারফোন ব্যবহার করা দরকার। ইয়ারবাড ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকুন। পরিবর্তে ইয়ারফোন ব্যবহার করুন। কারণ ইয়ারফোন কানের বাইরে লাগাতে হয়। কিন্তু ইয়ারবাড কানের ফুটোতে ঢুকিয়ে গান শোনার ক্ষেত্রে ভাইব্রেশন অনেক বেশি হয় যা পর্দার ব্যাপক ক্ষতি করে।

৩. যানবাহনে যাত্রার সময় বা এক জায়গায় বসে, পথে-ঘাটে হাঁটা চলার সময় বা রাস্তা-লাইন পেরনোর সময় কখনওই ইয়ারফোন ব্যবহার করবেন না। যানবাহনে যদি আপনি চালকের আসনে থাকেন, সেক্ষেত্রে কানে ইয়ারফোন লাগাবেন না। এতে মনঃসংযোগ নষ্ট হয়। তাছাড়া আসেপাশের গাড়ির হর্নও আপনি শুনতে পাবেন না। এতে বিপদ হতে পারে।

৪. গান শোনার সময় ভলিউম এমনভাবে রাখুন যেন আপনার কাছাকাছি থাকা কোনো ব্যক্তির কথা আপনি সহজেই শুনতে পারেন, তাকে যেন চিৎকার করতে না হয়।

৫. যে কম্পানির মোবাইল ব্যবহার করছেন, ঠিক সেই কম্পানির, সেই মডেলটির ইয়ারফোনই ব্যবহার করুন। প্রতিটি কম্পানির তাদের নির্দিষ্ট মডেলের জন্য নির্দিষ্ট ইয়ারফোন তৈরি করে। আমাদের অনেকেরই অভ্যাস আছে ইয়ারফোন খারাপ হলেই আমরা বাজারচলতি সস্তা ইয়ারফোন কিনে নিই। এ সব কানের জন্য খুব ক্ষতিকর। তাই ইয়ারফোন খারাপ হলে উক্ত সংস্থার ঠিক ওই মডেলেরই ইয়ারফোন কিনে ব্যবহার করুন। কারণ, ফোন থেকে বেরনো রশ্মির তরঙ্গ, কম্পন ইত্যাদির উপর অঙ্ক কষেই ইয়ারফোনের তরঙ্গ তার ক্ষমতা ইত্যাদি ঠিক করা হয়।

৬. একটানা আধ ঘণ্টার বেশি ইয়ারফোন বা হেডফোন ব্যবহার করবেন না। মোবাইলে কোনও সিনেমা দেখতে হলে আধ ঘণ্টা অন্তর মিনিট খানেকের বিরতি নিন। অন্তত পাঁচ থকে দশ মিনিট বিশ্রাম দিন কানকে।

৭.  কনসার্ট এবং সংগীত উৎসবে ভলিউম খুব চড়া থাকে, যা কানের ক্ষতি করতে পারে। এক্ষেত্রে ভালো মানের ইয়ার প্লাগ ব্যবহার করলে আপনার কান রক্ষা পাবে, সময়টা উপভোগ করতেও কষ্ট হবে না।

ইয়ারফোনের মাধ্যমে এই আওয়াজ সরাসরি কানে প্রবেশ করে। তাই এ বিষয়ে বিশেষ সচেতনতা অবলম্বন করুন কেননা অতিরিক্ত ইয়ারফোন বা ইয়ারবাড ব্যবহারে কানের ভিতরে ছন ছন আওয়াজ, মাথা ঘোরানো, ঘুম না আসার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

 

 

পাঠকের মতামত