ধৈর্য ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাও : শিক্ষামন্ত্রী

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকাসহ সারাদেশের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধারণ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে যে সব দাবি উপস্থাপন করেছে, তার সবই মেনে নেয়া হয়েছে এবং কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।’

শনিবার দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নয় দফা দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তাই আশা করবো, শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাবে। ভবিষ্যতে যেন এরকম ঘটনা আর না ঘটে সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

এসময় বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা দু:খজনক উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ‘সরকার ইতিমধ্যে নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, প্রিয় শিক্ষার্থীদের হারিয়ে আমরা শিক্ষা পরিবারের মানুষ খুবই মর্মাহত। অবশ্য এ ব্যাপারে সরকার যে ব্যবস্থা নিয়েছে, তাতে আশা করবো শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরবে। দিনের পর দিন রাস্তা আটকিয়ে জনদুর্ভোগ বাড়ানোর কোনো মানে হয় না।

যানবাহন চালকদের দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার দাবি শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এরই মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে স্পিডব্রেকার বসাতে বলা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও স্ব স্ব উদ্যোগে এ কাজ করার তাগিদ দেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, বাচ্চাদের রাস্তায় চলাচলে আরো সচেতনতা অবলম্বন করতে বলেন। সেই সঙ্গে নিরাপত্তার দাবি নিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের অনানুষ্ঠানিক ধর্মঘট থেকে সরে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কেননা তাদের সন্তানরাও স্কুলে পড়েন।

ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ উদ্দিন। সমাবর্তন বক্তার বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান, ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ৮ শিক্ষার্থীকে গোল্ড মেডেল দেওয়া হয়। পাশাপাশি এক হাজার ৮৭০ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি অর্জনের সম্মাননা দেওয়া হয়।

পাঠকের মতামত