সিলেটে নগর অভিভাবক নির্বাচনে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ২৪ হাজার তরুণ

আরাফাত হোসেন, সিলেট: সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে নারী, তরুণ ও শ্রমজীবী ভোটাররা।সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন।

যার মধ্যে পুরুষ ভোটার হচ্ছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ২৯১ জন।আর মহিলা ভোটার ১লাখ ৪৫ হাজার ৭৭৩ জন। এর মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ ভোটারই হচ্ছে নারী ও তরুন এবং শ্রমজীবি মানুষ।

যার মধ্যে প্রায় ২৪ হাজার ভোটার হচ্ছেন নতুন বলে হলিবিডিকে জানান, সহকারি রিটার্নিং অফিসার মো. আলাউদ্দিন।

তাই জয়-পরাজয়ে তাদের ভোটই মুখ্য ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। ফলে নাসিক নির্বাচনে মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরাও নারী ও তরুন এবং শ্রমজীবি মানুষের দাবি দাওয়া পূরন দিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি।

সিলেট সিটির ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছেন ৭নং ওয়ার্ডে। এ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৩৬৮ জন। এর মধ্যে অধিকাংশই মানুষ এলাকার ভোটার। তাছাড়া পুৃরুষদের তুলনায় নারীদের ভোটার সংখ্যাও বেশি। সার্বিক দিক বিবেচনা করলে নগর অভিভাবক নির্ধারনের ক্ষেত্রে তরুন ও নারী এবং শ্রমজীবী এই মানুষেরা নির্বাচনে প্রার্থী বেছে নিতে সাধারণভাবেই নির্ধারকের ভূমিকা পালন করবেন।

জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য বলেন, ‘অতীতের চাইতে নারীরা এখন অনেক বেশি সচেতন। পরিবারের কর্তাদের ওপর নির্ভরশীলতা কমে গেছে। তারা নিজেরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আগে ভোট দিতে গেলে পরিবারের কর্তারা যেখানে ভোট দিতে বলত, সেখানেই তাদের ভোট দিতে হতো। কিন্তু এখন আর তেমনটা নেই।’ তিনি বলেন, ‘সিটি নিবার্চনে নারীরা যে দিকে বেশি ভোট দেবেন ফল তাদের দিকেই যাবে। নারীরাই ফলাফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখবেন।’

তরুণ ভোটার তারেক বলেন, ‘তরুণরা সমস্ত আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নিতে ভূল করবে না। সিটি নির্বাচনে সার্বিক বিবেচনায় তরুণরাই ফলাফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।তারেকের মত এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন আরও অনেক তরুণ ভোটার।

বন্দরের এক শ্রমজীবি ভোটার আব্দুল্লাহ  বলেন, ‘আমাদের শ্রমজীবি ভোটাররা যেদিকে যাইব আল্লাহর রহমতে জোয়ার সেদিকেই যাইব। আব্দুল্লাহর কথার রেশ ধরেই মান্নান বলেন, ‘সুখে-দুঃখে যাকে কাছে পাই তাকেই ভোট দিব আমরা।’ তবে পছন্দের প্রার্থীর ব্যাপারে এখনই কিছু বলতে নারাজ তারা।

এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে চুড়ান্ত লড়াইয়ে থাকছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী (সতন্ত্র) এ্যডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন, সিপিবি-বাসদ মনোনীত প্রার্থী আবু জাফর, স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসানুল হক তাহের।

মেয়র পদে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তবে বাচাইয়ে দুই জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুক্তাদির হোসেন তাপাদার ও কাজী জসিম।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনারের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩০জুলাই সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৩ সালের জুনে অনুষ্ঠিত সিসিকের তৃতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী।

এ সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড রয়েছে ২৭টি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে ৯টি। এবারের নির্বাচন প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত