বৃদ্ধের ধর্ষণে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী!

ঝিনাইদহ ৬৫ বছরের বৃদ্ধের ধর্ষণের শিকার হয়ে এক কিশোরী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। সদর উপজেলায় ওই বৃদ্ধের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রামের কেউ কথা বলার সাহস পাচ্ছে না। এমন অভিযোগে ১৪ বছর বয়সী মেয়েটির মা মাগুরা দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অভিযোগ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, তফসের মোল্লার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই তিনি গ্রামের বিভিন্ন বয়সী নারীদের উত্যক্ত করতেন। কিন্তু গ্রামের লোকজন বয়স্ক মানুষ বলে কেউ তার কথায় প্রতিবাদ করেন না। বৃদ্ধ তফসের মোল্লার বাড়ির পাশে দহখোলা মাদ্রাসার ছাত্রীদেরকেও তিনি বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করেন। ছাত্রীরাও বৃদ্ধকে বিভিন্নভাবে এড়িয়ে চলেন। এরমধ্যে স্বামী পরিত্যক্ততা দিঘিরপাড়া গ্রামের গার্মেন্টস কর্মীর ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ করেন তিনি। মা ঢাকায় গার্মেন্টসের কাজ করার সুবাদে কিশোরী মেয়ে ও তার ছোট বোন প্রতিবন্ধী নানা-নানির কাছে থাকেন।

মেয়েটির মা বলেছেন, মেয়েটির গ্রামের এক বান্ধবী বাড়িতে আসা-যাওয়া ছিলো। বৃদ্ধ এরমধ্যে একই গ্রামের পাতা মোল্লার স্ত্রী কমলা ও তার মেয়ে রিবাকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পটিয়ে ফেলেন। বান্ধবী রেবাকে দিয়ে গত ২ জানুয়ারি বাড়িতে ডেকে এনে বৃদ্ধর হাতে তুলে দিয়ে ঘরে শিকল আটকিয়ে দেয়। বৃদ্ধ তাদের ঘরের মধ্যে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। বৃদ্ধ তফসের ও পাতা মোল্লার স্ত্রী কমলা খাতুন বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য কিশোরীকে হুমকি দেন। এমনকি ধর্ষণের শিকার কিশোরী ছোট বোনকে হত্যার হুমকি দেন।

লোকলজ্জায় ও ভয়ে কিশোরী কাউকে কিছু বলেনি। সম্প্রতি মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি তার নানীকে জানান। পরে নানী ডাক্তারকে দেখালে মেয়েটি ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। ঘটনাটি জানার পর হতদরিদ্র পরিবারটি দিশেহারা ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। ঘটনা শুনে মেয়ের মা ঢাকা থেকে ফিরে এসে গ্রামের লোকজনের জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ভিকটিমের মা বাধ্য হয়ে মাগুরা আদালতে বৃদ্ধ তফসের মোল্লা, একই গ্রামের পাতা মোল্লার স্ত্রী কমলা ও তাদের মেয়ে রিবাকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল শেখ বলেন, ঘটনার সত্যতা মিলছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলেছে। গ্রেফতারের পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাঠকের মতামত