প্রতীক বরাদ্দের আগেই পোস্টার ছাপানোয় ব্যস্ত লিটন-বুলবুল

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রধান দুই দলের মেয়র প্রার্থীদের পোস্টার ও প্রচারপত্র ছাপানোর ধুম পড়েছে।

এরমধ্যে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পোস্টার, প্রচারপত্র, হ্যান্ডবিল ও ব্যাজ ছাপানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অন্যদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলও পোস্টার-প্রচারপত্র ছাপাতে শুরু করেছেন।

এদিকে প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচারপত্রসহ ভোট প্রার্থনার কোনো উপকরণ ছাপানো নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন বলছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে প্রার্থীরা বলছেন এতে আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে না।

রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন জানায়, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী লিটন কমিশনে দাখিল করা ঢ-ফরমে দেয়া তথ্যানুযায়ী তার পোস্টার ও প্রচারপত্র ছাপাবেন নিউমার্কেটের বিকল্প প্রেসে। হিসাব অনুযায়ী লিটন ১ লাখ ৫০ হাজার পোস্টার, ১ লাখ লিফলেট এবং ১৫ লাখ হ্যান্ডবিল ছাপাবেন। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী বুলবুল প্রভাত প্রিন্টিং প্রেস থেকে ৬০ হাজার পোস্টার, ১০ লাখ লিফলেট ও ৩ লাখ হ্যান্ডবিল ছাপাবেন।

শনি ও রোববার নিউমার্কেটের বিকল্প প্রেসে গিয়ে দেখা যায়, অন্যসব কাজ ফেলে প্রেসের কর্মচারীরা লিটনের পোস্টার ও প্রচারপত্র ছাপাতে ব্যস্ত। এসব পোস্টার কবে থেকে এবং কতসংখ্যক ছাপানো হচ্ছে এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি প্রেসের ব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী। তবে কর্মচারীরা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ ধরে লিটনের পোস্টার, প্রচারপত্র, হ্যান্ডবিল ও ব্যাজ ছাপছেন তারা।

এদিকে গোরহাঙ্গা নগর ভবনসংলগ্ন প্রভাত প্রিন্টিং প্রেসে দিনরাত চলছে ধানের শীষের পোস্টার ও প্রচারপত্র ছাপার কাজ। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, তিন দিন ধরে বুলবুলের পোস্টার ও প্রচারপত্র ছাপাচ্ছেন তারা। এরমধ্যে ৪০ হাজার পোস্টার এবং ৫০ হাজার হ্যান্ডবিল ছাপা শেষ হয়েছে। কাউন্সিলর প্রার্থীরাও তাদের প্রেসে পোস্টার ছাপাবেন বলে জানান তিনি।

নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, ১০ জুলাই মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পাবেন। আচরণবিধি অনুযায়ী প্রতীক পাওয়ার আগে কোনো প্রার্থী পোস্টারসহ নির্বাচনী প্রচারমূলক কোনো উপকরণই ছাপাতে পারবে না। কিন্তু এ বিধি মানছেন না আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, পোস্টার বা প্রচারপত্র ছাপার কাজ চললেও তা প্রেসেই থাকছে। সেগুলো বাইরে প্রচার করা হচ্ছে না। ফলে এতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কিছু নেই। একই মত দেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলও।

এ বিষয়ে সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান বলেন, প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রার্থীই প্রচারপত্র প্রকাশ করতে পারবেন না। দুই মেয়র প্রার্থী প্রচারপত্র ছাপালেও তা কমিশনের নজরে পড়েনি বলে জানান তিনি।

পাঠকের মতামত