‘ব্রাজিল কী করবে, বুঝতে পারছিলো না’

১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর আবার সেমিফাইনালের দেখা পেল বেলজিয়াম। শেষ চারে জায়গা করে নিতে ইউরোপের দেশটি হারিয়েছে এবারের বিশ্বকাপের ‘হট ফেভারিট’ ব্রাজিলকে।

২-১ গোলে ব্রাজিলকে হারানোর পর কোচ রবের্তো মার্তিনেসের ট্যাকটিকসের প্রশংসা করেছেন কেভিন ডি ব্রুইন।

ব্রাজিলের বিপক্ষে এবারের বিশ্বকাপের পঞ্চম ম্যাচে মাঠে নেমেছিল বেলজিয়াম। আগের চার ম্যাচের সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই তুলনায় দাঁড় করালে ট্যাকটিকসে কোনও মিলই খুঁজে পাওয়া যাবে না! ‍পুরো মৌসুমে ‘রেড ডেভিলস’ যে ফুটবল খেলছে, ব্রাজিলের বিপক্ষে তা পুরোপুরি পাল্টে ফেলে।

আক্রমণাত্মক ফুটবলের বদলে কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবল ও প্রতিপক্ষকে চেপে ধরার কৌশল বেছে নিয়েছিলেন কোচ মার্তিনেস।

খেলোয়াড়ের পজিশনও বদলে গিয়েছিল। স্ট্রাইকার লোমেলু লুকাকু কখনও উইংয়ে, কখনও আবার মিডফিল্ডারের ভূমিকাতে ছিলেন, আবার তাকে দেখা গেছে ডিফেন্ডার হিসেবেও! এডেন হ্যাজার্ডও একেকবার একেক পজিশনে খেলেছেন। এককথায় খেলার কৌশল ও পজিশন পাল্টে অন্য বেলজিয়াম হাজির হয়েছিল ব্রাজিলের সামনে।

আর এখানেই তালগোল পাকিয়ে ফেলে ব্রাজিল। বিশেষ করে কাজানের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথমার্ধে সেলেসাওদের অস্বস্তি চোখে পড়েছে স্পষ্ট। ৩১ মিনিটের মধ্যে ২ গোল হজম করে ব্যাকফুটে চলে যায় পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আর এই জয়ে ট্যাকটিকসের অবদানকেই সামনে এনেছেন ডি ব্রুইন।

বেলজিয়ামের কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবলের সামনে ব্রাজিল কী করবে, প্রথমার্ধে সেটা বুঝতে পারছিলো না বলে মন্তব্য করেছেন দুর্দান্ত এক গোল করা ম্যানচেস্টার সিটি মিডফিল্ডার।

কাজানের ম্যাচ জেতার পর ডি ব্রুইন বলেছেন, ‘আমার মতে ট্যাকটিক্যালি বিষয়গুলো দারুণ সামলেছি আমরা। রোমেলে (লুকাকু) ও এডেন (হ্যাজার্ড) জায়গা পাল্টে খেলেছে এবং অনেক সুযোগ তৈরি করেছে। প্রথমার্ধে আমরা খুব ভালো খেলেছি। অনেক সুযোগ তৈরি করি, আর ওরা বুঝতেই পারছিল না, কী করবে।’

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল খেলায় ফিরলেও বেলজিয়াম তাদের ট্যাকটিকস সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পেরেছে বলে মনে করেন ম্যানসিটি তারকা। ‘দ্বিতীয়ার্ধে ওরা ট্যাকটিকস পাল্টায়, তাতে ব্রাজিল ভালো খেলতে শুরু করে। তবে এরপরও আমরা সুযোগ তৈরি করতে পেরেছি।’

ব্রাজিল বধের পর সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। উরুগুয়েকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়া ফরাসিদের নিয়ে ডি ব্রুইনের বক্তব্য, ‘(ফ্রান্স) অসাধারণ দল। তবে আপনি যখন বিশ্বকাপের মতো মঞ্চের সেমিফাইনালে পৌঁছাবেন, তখন কোনোভাবেই সহজ প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবেন না।

প্রতিটি দলই জানে কীভাবে ফুটবল খেলতে হয়। আমারও ফ্রান্সের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে, পার্থক্যটা খুবই সামান্য।’ সূত্র: গোল ডটকম

পাঠকের মতামত