ভালোবাসার এক হাজারতম দিন | বিডি৩৬০নিউজ

ভালোবাসার এক হাজারতম দিন

ফারাবী!

হুম ফারাবী গ্রামে বড় হয়ে ওঠা একটা সাধারণ ছেলে অন্য সবার মত তার ওতো জীবনে স্বাধীনতা ছিল না। এক কথায় মা বাবার অবাধ্য যাওয়া তার সাহস ছিল না। পড়াশুনা, স্কুল , প্রাইভেট, ব্যাগ, সাইকেল, টিফিন, তাড়াতাড়ি বাসায় ফেরা, বিদ্যুৎ চলে গেলে মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা, এসব নিয়েই তার মাধ্যমিক জীবন কেটেছে।

মাধ্যমিক পরীক্ষা অর্থাৎ এসএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার সুবাধে, সে শহরের একটা কলেজে ভর্তি হলো, নতুন জায়গা, নতুন সব মানুষ, নতুন সংস্কৃতির সাথে আস্তে আস্তে মানিয়ে নিতে শুরু করলো। এখন আার কেউ তাকে পড় পড়, তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে আসবা, প্রাইভেট মিস দিও না, ক্লাসে ফার্স্ট হতে হবে, এসব কথা কেউ বলে না, বললেও ইলেকট্রনিক মাধ্যম পার হয়ে তার কানে ওইভাবে পৌছাত না…! সে ওই রুটিন টা খুব মিস করত। এভাবে তার নতুন বন্ধু, দিনে চার টা প্রাইভেট, সকাল, বিকাল, সন্ধ্যা এবং নতুন মানুষের সাথে চেনা পরিচয়, এর মাধ্যমে তার কলেজ জীবন চলছিলো….!

হটাৎ একদিন তার এক পরিচিত আপু তাকে বলল যে, ফারাবী আজ তো বৈশাখ, মেলায় যাবি? এখানে একটা জায়গায় বড় আকারে মেলা বসে , সে এর আগে কার সাথে মেলাতে যায়নি। তার মনে আছে, একবার ছোটবেলাতে  নানু বাসাতে গিয়ে মামাতো ভাইদের সাথে পূজার মেলাতে গিয়েছিল এবং নাগর দোলায় ওঠেছিল!

যায়হোক, সে তার আপুর কথায় সাড়া দিয়ে বলল হুম আপু যাব…! আপু তখন মাস্টার্স এ পড়ে। ফারাবী সবে মাত্র কলেজে ভর্তি হয়েছে। আপুর কথা মতো তারা বিকালে বের হলো। আপু অবশ্য সেদিন শাড়ি পড়ছিলো…!

তারপর, মেলাতে ঘুরতে ঘুরতে তার আপুর ফোনে একটা ফোন আসলো। ফোনটা তখন তার কাছে ছিল। আপুকে কে যেন ফোন দিয়েছে আপু ফোনটা ধরেই বলল, কই তোরা আমি তো গেটের পাশে দাঁড়িয়ে আছি (জোরে জোরে)। ফারাবীর আপু সচারচর অনেক জোরে কথা বলতো।

কিছুক্ষণ যাওয়া মাত্র আপুর নাম ধরে বলছে, ‘এই দিকে আয়। আমরা গেলাম!’ অনেকগুলা আপু একসাথে এক দিকে দাঁড়িয়ে আছেন। আপু বলল, এটা আমার ছোট ভাই, এবার কলেজে নতুন ভর্তি হয়েছে। পাশের আপুর একটা বান্ধবী বলল, ফারাবীকে জিজ্ঞেসা করলো তুৃৃমি কি বিজ্ঞান বিভাগের..? সে বলল হুম আপু…!

তখন তার আপুর বান্ধবী ওপাশ থেকে একটা মেয়েকে ডাকলো (জ্যাকপট) এই দিকে আস। যে মেয়েটিকে ডাকল সে তার কিছু বন্ধুদের সাথে হাসাহাসি করছিলো।

ফারাবী মেয়েটাকে এর আগেও দেখেছে। তার সাথে ম্যাথ প্রাইভেট পড়েছে কিছুদিন। কিন্তু সেই মেয়ে আর এই মেয়ের মধ্যে হাজার পার্থক্য দেখতে পাচ্ছেন…।

হটাৎ মেয়েটি সামনে হাজির! “ফারাবীর ভাবনা এখানেই শেষ না”। আপু তাদের পরিচয় করিয়ে দিলো।
কেন জানি একটা ভালো লাগা কাজ করছিলো ওইদিন ফারাবীর, মেয়েটি বার বার তাকাচ্ছিলো। এই সেই ফারাবীর প্রথম ভালোলাগা মেয়ে….(জ্যাকপট)।

জ্যাকপট…. হুম জ্যাকপট…!

তারা সন্ধ্যার দিকে একসাথে বাসায় ফিরলো। তারপর সে তার আপুর কাছে জানতে চাইল মেয়েটির পরিচয়, তারপর ফেইসবুক….!

তখন থেকে তাদের ফেসবুকে টুকটাক কথা হতো। দিনে একবার হায় হ্যালো অথবা দুইদিন পর পর। একদিন আপুর ফোন দেখতে গিয়ে দেখলো মেয়েটির নাচের ভিডিও!  ওইদিন থেকেই ফারাবীর ভালোবাসর মুকুট পরিহিত মেয়েটিই হচ্ছে জ্যাকপট! সেখান থেকেই ভালো লাগা শুরু ফারাবীর…! ফেইসবুক তারপর ফোনে এসএমএস, ফোনে কথা, এসব মিলিয়ে ফারাবীর মেয়েটিকে অসম্ভব ভালো লেগেছিলো। তার আচরণ, কথা-বার্তা, অহংকারহীন সবমিলিয়ে অনেক সাধাসিধা একটা মেয়ে ।

মায়াবী চোখ, চুলগুলো কুকড়ানো, এবং ঐ দিনের নাচের ভালো লাগা থেকে শুরু করে তার জীবনে প্রথম ভালবাসা জ্যাকপট আসলো ২৫ আগস্ট রাতে। ঐ রাত যেন ছিলো সবাই নিশ্চুপ, সবায় যেন সাক্ষী ছিল তাদের ভালবাসার।

জ্যাকপট কে নিয়ে ফারাবীর চলছিলো ভালোবাসার নতুন নতুন স্মৃতি। ছেলেটি মেয়েটার সাথে সরাসরি দেখা করতে পারতো না বিভিন্ন সমস্যার কারণে। কিন্তু তারা সবার অগোচরে ভালোবাসর পাতায় অনেক কিছুই লেখেছে। যেমন- মেয়েটি থাকতো তাদের দুই তালার বাসার বারান্দায়। আর ছেলেটি রাতে আাসতো মেয়েটির সাথে দেখা করতে মেয়েটির বাসার নিচে চায়ের দোকানে। ফারাবী এর আগে চা খেত না, কিন্তু মেয়েটার সাথে দেখা করার ছলনায় প্রতিদিন চা খেতে আসতো, আার মেয়েটি অন্ধকারে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতো। সৃষ্টিকর্তা হয় তো তাকে মাঝে মাঝে দেখানোর জন্য চাঁদের আলোর সৃষ্টি করতো। কখনও কখনও মেয়েটি তার ফোনের লাইট মুখে ধরতো। কখনও বৃষ্টি মাথায় দোকানে দাঁড়ানোর ছলনায় দেখা, ছেলেটি কখন মেয়েটির বাসার নিচ দিয়ে পড়তে যাবে সেই জন্য মেয়েটির বারান্দা ও ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা, কখনো সকালে বাসার গেটের ওপাশ থেকে জোরে ‘আই লাভ ইউ’ বলে ছেলেটিকে ভয় পাইয়ে দেওয়া, কখনও বৃষ্টিতে খালি অটো ছেড়ে মেয়েটির বসে থাকা জ্যাম ভরা অটোতে ওঠা, সরাসরি কখনও দেখা হলেও মেয়েটি প্রচণ্ড লজ্জা পেত। ছেলেটির সামনে হাঁটতে পারত না। এসব ছোট ছোট স্মৃতি পার করে ফারাবী-জ্যাকপট কলেজ জীবন শেষ করলো। ফারাবীর এখন আর শহরে একা লাগে না, কারণ তার জ্যাকপট আছে।

ফারাবী ওইদিন অনেক কাঁদছিলো যেদিন বিশ্ববিদ্যালয় কোচিং এর জন্য অন্য একটা শহরে চলে আসে। এতো স্মৃতিময় দিন ছেড়ে কেমনে থাকে সে? ফারাবী মাঝে মাঝে চলে আসতে চাইত কিন্তু জাকপট তাকে আসতে দিতো না! একদিন তো হটাৎ ফারাবী রাতের বাস ধরে চেনা সেই  জায়গায় চলে আসছিলো। খুব কষ্ট হতো তার। মনে হতো পৃথিবী কতোবড় স্বার্থপর। তারপর জাকপট ও অন্য একটা শহরে চলে গেল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হবার জন্য।

ফারাবী জাকপটের ভালোবাসর আতুর ঘর থেকে দুজনই অনেক দূরে, তারপরও চলতে থাকল তাদের পড়াশুনা এবং মায়ামাখা ভালোবাসা। জ্যাকপট ফারাবীকে বার বার বলতো তোমাকে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে হবে। মা বাবা বোনের সাহস, জাকপটের পাশে থাকায় হয় তো ফারাবী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হলো। ফারাবীর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হবার পিছনে জাকপটের  অবদান অপরিসীম। দুইজন বাংলাদেশের দুই দিকে অবস্থান! বাস্তবতা তাদের আলাদা করেছে কিন্তু তাদের ভালোবাসা চলছে অভিমান, কান্না আক্ষেপ নিয়ে। তারা এখন অনেক বড় হয়েছে তারা অনেক কিছু বুঝতে শিখছে, কিন্তু বাচ্চা মেয়েটা মাঝে মাঝে অনেক রাগ করে ছেলেটার সাথে দেখা করা নিয়ে। ছেলেটাও মাঝে মাঝে আাসে দেখা করতে। আবার বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে আসতে পারে না। ফারাবী জ্যাকপট এর অনেক স্বপ্ন তাদের ভালোবাসা নিয়ে। ফারাবী মাঝে মাঝে অনেক বকাবকি করতো মেয়েটিকে। কিন্তু মেয়েটা চুপ করে শুনে।

আজ ফারাবী ও জাকপটের ভালোবাসার এক হাজার দিন। এখন অবশ্যই ফারাবীর জাকপটের মায়া চোখ দুইটা ছলছল করছে। এভাবে চলতে থাকে তাদের ভালোবাসা…..!

শুভ ভালোবাসার এক হাজারতম দিন বেঁচে থাকুক তাদের ভালোবাসা চিরদিন।

 

পাঠকের মতামত