তুলে নেয় ডিবি, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছাড়া

কোটা সংস্কার আন্দোলন গড়ে তোলা সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের তিন নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়েছিল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এই তিন নেতা হলেন, রাশেদ খাঁন, ফারুক হাসান এবং নুরুল ইসলাম নূর। বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে তাদেরকে একটি মাইক্রোবাসে করে উঠিয়ে নেয়ার ঘণ্টাখানেক পর বেলা দুইটা ৪০ মিনিটের দিকে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে এই আন্দোলনকারীরা সোমবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ ও উপাচর্যের বাসভবনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা সব মামলা দুই দিনের মধ্যে প্রত্যাহার না করলে আবার রাজপথে নামবেন তারা।

ওই সংবাদ সম্মেলনের পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে পরিষদের তিন যুগ্ম আহবায়ক নূরুল হক নূর, ফারুক হাসান, মুহম্মদ রাশেদ খানকে ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।

পরে গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, তাদের তদন্তের প্রয়োজনে নিয়ে আসা হলেও জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ‘সহিংসতার’ ঘটনায় যেসব তথ্য উপাত্ত পুলিশ পেয়েছে, সেগুলো যাচাই বাছাই করার জন্যই ওই তিনজনকে নিয়ে আসা হয়েছিল। ভিসির বাসায় যে হামলা হয়েছিল, এই ঘটনায় যেসব ভিভিও ফুটেজ পেয়েছি। সেগুলো যাচাই বাছাই করার জন্য তদন্তের প্রয়োজনে তাদের ডেকে এনেছিলাম। তারা চলে গেছে।’

এর আগে ওই তিন নেতা ও আন্দোলনকারী সংগঠনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে আজ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় যাতে এদের বিরুদ্ধে শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে। এদের মধ্যে হাসান আল মামুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি। আর ফারুক এস এম হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ভোল পাল্টালেও তাদের শিবির সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা।

একই দিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে রাশেদ খাঁন ও ফারুক হাসান তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, এটা একটা অপপ্রচার। আন্দোলন চলাকালে তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থা খোঁজ খবর নিয়ে কিছুই পায়নি।

আর এই সংবাদ সম্মেলন করার কিছুক্ষণ পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহতদের দেখতে গিয়ে ফেরার পথে রাশেদ, ফারুকের পাশাপাশি কোটা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া সংগঠনের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম নুরুকে তুলে নেয়ার অভিযোগ করেন সংগঠনের অন্য নেতারা।

গত ৮ এপ্রিল শাহবাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনে হামলা হয়। বেপরোয়া ওই হামলায় বাসভবনে তাণ্ডব চালানোর পাশাপাশি লুট করা হয় মূল্যবান সামগ্রী প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং নথিপত্র। এই ঘটনায় চারটি এবং শাহবাগে সংঘর্ষের ঘটনায় আরও চারটি মামলা হয়েছে।

উপাচার্য ভবনে হামলার দায় অস্বীকার করে এ বিষয়ে ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কোটা আন্দোলনের নেতারা। তবে হামলাকারীরা সেখানকার সিসি ক্যামেরা ভেঙে রেকর্ডার খুলে নিয়ে গেছে। তারপরও নানা সূত্র থেকে ফুটেজ সংগ্রহ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

এই ফুটেজের বিষয়ে কোটা আন্দোলনকারীদের তিন নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে। সঙ্গে অন্য আরও কিছু বিষয় ছিল।

পাঠকের মতামত