রেল ও সড়ক দুর্ঘটনা: সাত জেলায় প্রাণ গেল ১৮ জনের

সারাদেশে পৃথক রেল ও সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় শতাধিক। রবিবার সাত জেলায় রেল ও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গাজীপুরের টঙ্গিতে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পাঁচজন নিহত হয়েছে।

গাজীপুরের টঙ্গীতে জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা কমিউটার ট্রেন দুপুর ১২টার দিকে লাইনচ্যুত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন জনের মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরো দুই জন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। তাদের স্থানীয় হাসপাতাল ও কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

কুড়িগ্রামে বিদ্যুতের পোলবাহী ট্রাকের ধাক্কায় মিজানুর রহমান (৩৫) নামে এক সাইকেল আরোহী মারা গেছেন। রবিবার সন্ধ্যায় শহরের আরকে রোডের ছিনাই বাজারে এ ঘটনা ঘটে। মিজানুর লালমনিরহাট জেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের নয়ারহাট বাজারের আকবর আলীর ছেলে।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা রাস্তা অবরোধ করলে প্রায় এক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোখলেছুর রহমান জানান, ওই সাইকেল আরোহী ছিনাই বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় রংপুর থেকে আসা ট্রাকটি তাকে চাপা দিলে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান। পরে ট্রাকটি থানায় নিয়ে আসা হয়।

এদিকে, কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলওয়ে জং-এ ট্রেনে কাটা পড়ে মটরসাইকেল আরোহী দুই স্কুলছাত্র মারা গেছে। রবিববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ জং ষ্টেশন এলাকায় লেভেল ক্রসিংয়ের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- মিরপুর উপজেলার আইলচারা গ্রামের ছাইদুল ইসলামের ছেলে আইলচারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আয়াতুল্লাহ এবং অপরজন একই গ্রাম ও বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র সাইদুল হোসেনের ছেলে মুবিন হোসেন।

পোড়াদহ ষ্ট্রেশন মাস্টার শরিফুল ইসলাম জানান, দুপুরে দৌলতদিয়া ঘাট হতে পোড়াদহ পর্যন্ত চলাচলাকারী ৫০৬ শাটল ট্রেনের ইঞ্জিন ঘোরানো হচ্ছিল। এসময় সেখানকার লেভেল ক্রসিং গেট বন্ধ থাকলেও পাশ দিয়ে বেরিয়ে লেভেল ক্রসিং পার হতে গিয়ে মটরসাইকেল আরোহী দুজন ইঞ্জিনের নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়। অপর জনকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলায় ট্রাক্টর ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেনে আরো তিন জন। রবিবার সকালে উপজেলার আগরপুর বাজারের কাছে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতেরা হলেন লালন মিয়া (৩৫), শাহিন (২২) ও আবদুল করিম (২৮)। লালন মিয়ার বাড়ি বাজিতপুর উপজেলার কৈলাক ইউনিয়নের কৈলাক গ্রামে, শাহিনের বাড়ি বলিয়ারদি ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামে এবং আবদুল করিমের বাড়ি কৈলাক ইউনিয়নের রাহেলা গ্রামে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাজিতপুর থেকে অটোরিকশাটি ভৈরবে আসছিল। অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন পাঁচজন। সকাল পৌনে ৭টার দিকে অটোরিকশাটি আগরপুর বাজারের কাছে আসামাত্র বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাক্টরের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ট্রাক্টরটি সড়কে থেমে গেলেও অটোরিকশাটি দূরে ছিটকে পড়ে যায়। যাত্রীদের কয়েকজন সড়কে পড়ে যান। ঘটনাস্থলে শাহিন ও আবদুল করিম নিহত হন। পরে ঢাকায় নেয়ার পথে অটোরিকশাচালক লালন মিয়া মারা যান।

কুলিয়ারচর থানার ওসি জানান, ট্রাক্টরটি জব্দ করা গেছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন।

বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলায় ভেকুর নিচে চাপা পড়ে আব্দুল্লাহ (১৩) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের দক্ষিণ কুপধন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

কালমেঘা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোস্তফা জানান, কালমেঘায় বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজে নিয়োজিত তমা কনস্ট্রাকশন দীর্ঘদিন ধরে বেড়িবাঁধের কাজ করছে। ওই বাঁধের কাজে ভেকু মেশিন বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে যাওয়ার পথে পাশেই বেড়িবাঁধের উপর বসতঘর থেকে ১৩ মাসের শিশুটি হামাগুড়ি দিয়ে বাঁধের উপর ওঠার সময় ভেকু মেশিনের নিচে চাপা পড়ে নিহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পাথরঘাটা থানার ওসি মোল্লা খবীর আহম্মেদ বলেন, মরদেহটি ঘটনাস্থল থেকে বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। ভেকু মেশিনটি জব্দ করা হয়েছে কিন্তু চালক বা তমা কন্সট্রাকশনের কাউকে পাওয়া যায়নি।

নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলায় সরাইগাছি-আড্ডা সড়কের কুশারপাড়া মোড়ে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে নারীসহ চার জন মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো পাঁচ জন।

নিহত চারজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন উপজেলার ছাওড় ইউনিয়নের কোচনা গ্রামের আবদুস ছালাম (৫০), একই গ্রামের আশরাফুল ইসলাম (৩৮) ও উপজেলার বোড়াকুড়ি গ্রামের হীরা বেগম (৬০)।

পোরশা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, সাপাহার থেকে নিয়ামতপুরের আড্ডা অভিমুখী যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ব্যাটারিচালিত একটি ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই ইজিবাইকের দুই যাত্রী মারা যান। পরে পোরশা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুজন মারা যান।

মানিকগঞ্জ জেলার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মূলজান এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাসের চাপায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই যুবকের নাম মিন্টু মিয়া। রবিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, যাত্রীবাহী একটি পিকআপ ভ্যানকে পেছন দিক থেকে সাউথলাইন পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই পিকআপের ওই যাত্রী মারা যান।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক জন নিহত ও পাঁচ জন আহত হয়েছেন।

এলাকাবাসী ও ফায়ারসার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার বানার ব্রিজের পাশে বগুড়াগামী একটি পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়ক থেকে খাদে পরে গেলে ঘটনাস্থলে অজ্ঞাত (৩৮) একজন নিহত হন। খবর পেয়ে ত্রিশাল ফায়ারসার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

অপরদিকে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাগামারা এলাকায় ময়মনসিংহগামী একটি ট্রাক ইঞ্জিনচালিত ভ্যানগাড়ীর পিছনে ধাক্কা দিলে উপজেলার আইলটিয়া গ্রামের ইদ্রিস আলী মণ্ডল (৬০) ও গোলাম মোস্তফা (৫০) গুরুতর আহত হন। ত্রিশাল ফায়ারসার্ভিস আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

ত্রিশাল ফায়ারসার্ভিস কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, গুরুতর আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপালে ভর্তি করা হয়েছে।

পাঠকের মতামত