রমজানে পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি ব্যবসায়ীদের

সামনে মাসেই শুরু হবে রমজান মাস। আর এ মাসে নানা আয়োজনকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পায়। এভাবেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে চাঁদাবাজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন ধরনের অবৈধ রসিদ ধরিয়ে দিয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। এ ধরনের চাঁদাবাজির কারণে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি বন্ধ হলে এবং পণ্যের সরবরাহ ঠিক থাকলে রমজানে পণ্যের দাম স্বাভাবিক থাকবে। তাই এসব চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা।

রবিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ব্যবসায়ীরা। আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় রাখার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে এলাকাভিত্তিক ও বিশেষায়িত ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গে ঢাকা চেম্বারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ঈদে যানজট কমাতে ও যানমালের নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।গাড়িতে চাঁদাবাজি করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, গাড়িচালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স, রোড পারমিট ও ওভারলোড না করলে চাঁদাবাজি হবে না। কিন্তু সব জেনেও অতিরিক্ত পণ্য নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এ জন্য পুলিশ রাস্তায় গাড়ি থামায়।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, সরকার নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে হাইওয়ে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশ নিয়োগ করেছে। এই পুলিশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। পুলিশ সুযোগ পায় যখন ব্যবসায়ীরা অনিয়ম করেন। গাড়ির কাগজ ঠিক থাকে না। তাছাড়া এখন মাদক বাড়ছে। এ কারণে পুলিশের চেক করতে হচ্ছে। দু’একটি ক্ষেত্রে হয়তো বেশি বাড়াবাড়ি হয়। সেটা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের ঠিক তথ্য দিতে হবে। পুলিশ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তাদের শাস্তি দেওয়া হয়। সরকার কাউকে ছাড় দেয় না। চাঁদাবাজি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

বিশেষ অতিথি কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, রমজানে পণ্যের মূল্য, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন ক্রেতারা। তবে ক্রেতারা কেনাকাটার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ করলে পণ্যের দাম তেমন পরিবর্তন হবে না বলে মনে করেন তিনি। তিনি ক্রেতাদের অতিরিক্ত পণ্য কেনাকাটা বন্ধের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর দৃষ্টি দেওয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, রমজানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যানজট ও বন্দরে জাহাজ জট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, গত বছর এপ্রিল থেকে মে মাসের ব্যবধানে নিত্যপণ্যের দাম গড়ে ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়েছিল। এর কারণ ছিল প্রথাগত বাজার সরবরাহ প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়া, অতিরিক্ত মজুদের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন বাজার মনিটরিং, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি, দুর্বিষহ যানজট এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়। এবার রমজানে পণ্যের দাম বাড়লে মধ্যবিত্তের আয় ও ব্যয়ে সমন্বয় করতে হিমশিম খেতে হবে। তিনি বলেন, পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের নজর দিতে হবে। এ ছাড়া পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও যানজট নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ঢাকা চেম্বারের পরিচালক আলাউদ্দিন মালিক বলেন, রমজান পুলিশ গিয়ে ভ্যাটের চালান চায়। পুলিশের এসব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। আলাউদ্দিন বলেন, টিসিবি ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানি করে বাজারে ছাড়লে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

নারী উদ্যোক্তা শামসুন নাহার বলেন, রমজানের নিত্যপণ্য দ্রুত আনার সুযোগ দিতে হবে। দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ২ থেকে ৩ দিন ট্রাক বসে থাকে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়। পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ায় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মো. জিয়া রহমান। এসময় বক্তব্য দেন পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসেম, ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

পাঠকের মতামত