গণতন্ত্রের মুক্তি মানেই খালেদা জিয়ার মুক্তি: মোশাররফ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ছাত্র আন্দোলন সরকারকে একটি নোটিশ দিয়েছে কিন্তু জনগণ কোন নোটিশ ছাড়াই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। রোববার বিকেলে রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, জনগণের দাবি গণতন্ত্র, এটি নিজস্ব বিষয়। তাই জনগণকে কোন নোটিশ দেয়া লাগবে না। তারা নিজেরা যখন রাস্তায় নামবে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এদেশের মানুষের গণতন্ত্র,মানুষের অধিকার এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি একই সুতোয় গাথা। গণতন্ত্র মুক্তি মানেই খালেদা জিয়ার মুক্তি।

তিনি আরও বলেন, আগামি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে,বিএনপি ও বিশ দলকে বাইরে রেখে ২০১৪ সালের মতো একটি প্রহসন করার নাটক করতে চায়। সেখানে জনগনের ভোটের প্রয়োজন হয়নি। বিক্ষুব্ধ জনগন আগামি নির্বাচনে এর প্রতিষোধ নিবে। তাই জনগণের ভোটাধিকার খালেদা জিয়ার মুক্তির উপর নির্ভর করে। আর একাদশ জাতীয় নির্বাচন হতে হলে দেশের সংসদ ভেঙ্গে,নির্দলীয় সংসদের অধীনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খশরু মাহামুদ চৌধুরী বলেন, কোন স্বৈরাচারী স্থায়ী থাকতে পারে না। ৬৮ সালে স্বৈরাচারী আইয়ুব খান দেশে উন্নয়নের মিছিল বের করেছিল। সেই স্বৈরাচারীর পতন হয়েছে। বর্তমান সরকার আইয়ুব খানের মতো গণতন্ত্র নস্ট করেছে। স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আবারো আন্দোলন করে বাংলার মানুষ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। আর গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবেন বেগম খালেদা জিয়া।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। ৫ ই জানুয়ারীর মতো নির্বাচনের পাতানো খেলায় বিএনপি অংশ নিবে না। দেশে সুষ্ঠ নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হলে বেগম খালেদা জিয়াকে সাথে নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে।

আব্দুল মইন খান বলেন, দেশে যে সরকার রয়েছে তারা জনগনকে প্রতিনিধিত্ব করেনা। আমরা দেখেছি নির্বাচনে শতকরা ৫ ভাগ মানুষ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। আর ভোট কেন্দ্রে ভোটার নং কুকুর বিড়ালেরা ছিল। জনগণের ভোটাধিকার নষ্ট করে তারা অবৈধ ভাবে ক্ষমতায় এসেছে। তাই যদি সুষ্ঠ নির্বাচন হয় তবে বিএনপিই দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে কিন্তু আওয়ামীলীগ তা চায় না।

বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যারা এখন কোটিপতি তারা শেখ হাসিনার বিচারপতি। বাংলাদেশ কারোও পৈত্রিক সম্পত্তি না। এদেশের মানুষ যুদ্ধ করে আন্দোলন করে স্বাধীনতা এনেছে। আবারো প্রয়োজনে আন্দোলন করে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনবে। আমাদের দল এখন ঐক্যবব্ধ। এই ঐক্যের মাধ্যমে জনগনকে সাথে নিয়ে গণতন্ত্র মুক্তি করতে হবে।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের সঞ্চালনায় এ বিভাগীয় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহামুদ টুকু, বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু,এড.কবির হোসেন,হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, কর্ণেল (অব.) এম এ লতিফ, যুগ্ম মহাসচিব হারুনর রশীদ, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত খালেক,সদস্য নাদিম মোস্তফা, আবু সাঈদ চাঁদ প্রমূখ।

এছাড়া রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মতামত