ক্ষমতা হারালে আ.লীগের পিঠের চামড়া থাকবে না: এরশাদ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ‘নির্বাচনে হেরে গেলে গায়ের চামড়া থাকবে না, পিঠের চামড়া থাকবে না। অতএব এখনো সময় আছে, জাতীয় পার্টিকে সম্মান করেন, সমীহ করেন। অবহেলা করবেন না, অসম্মান করবেন না, আগের মতো কষ্ট দেবেন না। তাহলেই আমরা আপনার সঙ্গে থাকবো। কিন্তু ওই সঙ্গে থাকা না, আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য থাকবো। আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই।’

আজ রবিবার দুপুরে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির মাঠে জেলা জাতীয় পার্টি আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা এখন শূন্য, বড় শূন্য। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয়, যদি সিল মারার নির্বাচন না হয় তাহলে আওয়ামী লীগ জিততে পারবে না। এখন শেখ হাসিনার কথা ছাড়া কিচ্ছু নড়ে না। প্রশাসনও নড়ে না। এমনকি গাছের পাতাও যেন নড়ে না। এটা সর্বোচ্চ দলীয়করণ। সবখানে দলীয়করণ। ব্যাংক খালি, ব্যাংক লুটপাট। শেয়ার বাজার লুটপাট। বিচার নাই। সব লুটপাট। ব্যাংকে টাকা নাই। সব বিদেশে পাচার করছে।’

এরশাদ বলেন, ‘আমার মনে হয় দেশের মানুষ প্রস্তুত পরিবর্তনের জন্য। তারা চায় পরিবর্তন, তারা চায় জাতীয় পার্টিকে। দেশের মানুষ দুই দলের কোনো দলকে চায় না। মানুষ অস্থির হয়ে গেছে, শ্বাসরুদ্ধ হয়েছে, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে, মানুষ বাঁচতে চায়, মুক্তি চায়, পরিবর্তন চায়।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘৯১ সালে নির্বাচন করে আমরা ৩৫টা আসন পেয়েছিলাম। বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করতে পারেনি। ৯৬ সালে জাতীয় পার্টি ২১টি আসন পেয়েছিল। আর আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির সহযোগিতা নিয়ে সরকার গঠন করেছিল। অর্থাৎ জাতীয় পার্টি এখনো মূল্যবান। জাতীয় পার্টি ছাড়া কিছু হবে না।’

সাবেক এই স্বৈরশাসক বলেন, ‘আমার ওপর কেউ অত্যাচার করে টিকে থাকতে পারেনি। বিএনপি অত্যাচার করছিল, ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল তারাও অত্যাচার করেছিল। ২০০১ সালে এসে তারা বিলীন হয়ে গেছে। ছয় বছর জেলে ছিলাম, একলা ছিলাম, কথা বলার লোক ছিল না। আমি কারাগারে ইফতার করতে পারিনি, অসুখ হয়েছিল, ডাক্তার বলেছিল আমি মারা যাব, আমাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়নি। আমি বেঁচে আছি। ভালো আছি। কথা বলছি,  আল্লাহর দয়া আছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে ভুল করলে চলবে না। আমাদের প্রত্যেক প্রার্থীকে জয়ী করতে হবে। তাহলে আমরা ক্ষমতায় যাবো। পরিবর্তন আসবে। মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারবে। ৬০ টাকায় চাল খেতে হবে না। রংপুর অঞ্চলের ২২টি আসন হারিয়েছি। এই ২২টি আসন আমাকে উপহার দেন। আমি কথা দিচ্ছি আমি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাবো। মানুষের যখন দুঃখের কথা শুনি, উৎসাহ দেখি মনে হয় মানুষ জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আনতে প্রস্তুত।’

নারী নির্যাতন বেড়ে গেছে অভিযোগ করে এরশাদ বলেন, ‘মনে হয় নারী হয়ে জন্ম নেয়াটা অভিশাপ। প্রতিদিন ধর্ষণ। গত দুই মাসে ২৮৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। দোষী ধরা পড়ছে বিচার নেই। আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের মা-বোনের ইজ্জত রক্ষা করতে পারছি না। যারা মা-বোনের ইজ্জত রক্ষা করতে পারে না তারা কী করে দেশ চালাতে পারবে। শিশুরাও আজ ধর্ষণ থেকে বাদ যাচ্ছে না। এটা অবিচার, এটা অনাচার। এটা হতে পারে না। আমাদের সময় দেশে এটা ছিল না। বেকারমুক্ত দেশ চাই। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ চাই। হস্তক্ষেপমুক্ত বিচারব্যবস্থা চাই। আমরা ভাঙবো দুর্নীতির প্রাচীর। আমরা ভাঙবো নিপীড়নের প্রাচীর। আমরা ভাঙবো দুঃশাসনের প্রাচীর।’

সম্মেলনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান জিএম কাদের, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

পাঠকের মতামত