কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চ প্যাডে বাংলাদেশের প্রথম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’

বাংলাদেশের প্রথম উপগ্রহ  ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ কে গত ২৮ মার্চ  Thales Alenia Space’s Cannes Plant হতে উৎক্ষেপণের উদ্দেশ্যে ‘কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চ প্যাড’ এ বিমানে করে যাত্রা করে। যা ৩০ তারিখ উৎক্ষেপণ স্থল ফ্লোরিডার  ‘কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চ প্যাড’  কোনো বাধা ছাড়াই নিরাপদ ভাবে এসে পৌছায়। প্রতিমধ্যে এটি ২৮ তারিখ এটি আমেরিকার বোস্টন নগরীতে যাত্রা বিরতি নেয়।

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) -এর প্রধান ঠিকাদার, ফ্রান্সের থ্যালেস এলেনিয়া স্পেস কোম্পানি দ্বারা নির্মিত বঙ্গবন্ধু-১ উপগ্রহটি বাংলাদেশ এর প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি ‘স্পেসএক্স’ এর ফ্যালকন-৯ রকেট এর মাধ্যমে ফ্লোরিডার ‘কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চ প্যাড’ আগামী ৪ এপ্রিল উৎক্ষেপণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ১ (Bangabandhu Satellite) নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য:

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ-১ কে মূলত নির্মাণ করা হয়েছে। আর এটি মূলত যোগাযোগ উপগ্রহ। বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ শান্তিকালীন সময়ে নেভিগেশন সিস্টেম, জিপিএস সিস্টেম, তথ্য যোগাযোগ, ইন্টারনেট সেবা, স্পেস, রিসার্চ সহ নানাবিধ কাজে ব্যবহার করা যাবে। ফলে আমাদের প্রচুর পরিমান অর্থ সাশ্রয় করবে। এছাড়া অত্যাধুনিক ট্র্যান্সমিশন (D2H -Direct to Home) সুবিধাসহ অন্যান্য(Real-Vu, Tata sky ,etc)সুবিধা ব্যবহার অনেকাংশে সহজলভ্য করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এতদিন যাবত প্রতি সময় বিদেশে ফোন করা এবং আমাদের দেশের স্যাটেলাইট টিভিগুলো সম্প্রচারের জন্য বিদেশের বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থার উপগ্রহের ট্রান্সপন্ডারের উপর নির্ভরশীল থাকতে হয়েছিল এবং এর জন্য মাসিক ভাড়া হিসাবে প্রচুর বৈদেশিক খরচ হয়ে যেত।

বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ-১ নির্মাণের ফলে আমরা নিজেদের স্যাটেলাইট ট্রান্সপোন্ডার এর মাধ্যমেই এসব স্যাটেলাইট চ্যানেল সহজে সম্প্রচার করতে পারব, ফলে বেচে যাবে প্রচুর বৈদেশিক অর্থ।

তাছাড়া আপদকালীন সময়ে শত্রুর যুদ্ধ বিমানের আগাম ওয়ার্নিং, দেশের অপটিকাল ফাইবার কমিউনিকেশন বিচ্ছিন্ন হলে তিন বাহিনীর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ, সামরিক বাহিনীর গোপনীয় স্যাটেলাইট ফোনকল সহ নানা কাজেই ব্যবহৃত হবে বলে আশা করা যায়।

Screenshot_6

বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ-১ আমাদের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর,  আইসিটি ডিভিশন, টেলিকমিউনিকেশন, টেলিমেডিসিন, 4G কানেকশন, E-Commerce ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ১ (Bangabandhu Satellite) এর প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং কভারেজ অঞ্চল:

বঙ্গবন্ধু-১ উপগ্রহটি থ্যালস অ্যালেনিয়া স্পেস কোম্পানির নতুন প্রজন্মের Spacebus 4000B2 প্ল্যাটফর্মের উপর নির্মিত, উপগ্রহটি ২৬টি কু-ব্যান্ড এবং ১৪ টি সি-ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডার দিয়ে সজ্জিত। উপগ্রহটির কাভারেজ এরিয়া বাংলাদেশ এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

উপগ্রহটি ১১৯.১°  পূর্ব অর্বিটাল স্লটে অবস্থিত হবে, এই সিস্টেমটি বঙ্গোপসাগর, ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশের জন্য কু-ব্যান্ড কভারেজ সরবরাহ করবে। এটি সমগ্র অঞ্চলের জন্য সি ব্যান্ড ক্ষমতা প্রদান করবে। এর আয়ুস্কাল ধরা হয়েছে ১৫ বছর।

থ্যালেস এলেনিয়া স্পেস কোম্পানির ভূমিকাঃ

থ্যালেস এলেনিয়া স্পেস কোম্পানি এই সম্পূর্ণ উপগ্রহ ব্যবস্থার প্রধান ঠিকাদার, উপগ্রহের নকশা, নির্মাণ, পরীক্ষা এবং ভেতরে কক্ষপথের দায়িত্বে আছে। এই কোম্পানি ভূমি থেকে মহাকাশে থাকা বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ কাজেও সহায়তা করবে। সেজন্যে তারা ভূমি থেকে স্যাটেলাইট এর নিয়ন্ত্রন, মহাকাশ অভিযান এর বিভিন্ন কর্মপন্থা ঠিক করবে। এছাড়া স্যাটেলাইট টি ভূমি থেকে নিয়ন্ত্রনের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রাথমিক এবং অন্যান্য স্থাপনা তৈরী তে সাহায্য করবে।

স্থানীয় অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এই উপগ্রহটির ভূমি অবকাঠামো নির্মাণের জন্য যাবতীয় কাজে দায়িত্ব পালন করছেন।

সুত্রঃ https://www.thalesgroup.com/en/worldwide/space/news/bangabandhu-satellite-1-cape-canaveral

 

লেখক: ইমতিয়াজুর রহমান

তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী।

পাঠকের মতামত